ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিজের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাবে।
স্থানীয় সময়
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প
বলেন, “আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, কারণ আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রীকে খুব পছন্দ করি।
তিনি আমার ভালো বন্ধু। আমাদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা একটি চুক্তি করবই।”
ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
তবে দুই দেশের
চলমান বাণিজ্য আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প অভিযোগের সুরে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের
বাণিজ্য নীতির একতরফা সুবিধা নিয়েছে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর অত্যধিক শুল্ক
আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “তারা আমাদের কোম্পানিগুলোর ওপর বিপুল পরিমাণ
শুল্ক আরোপ করেছে, অথচ আমরা তাদের কাছ থেকে কিছুই নিইনি।”
বক্তব্যের এক
পর্যায়ে ট্রাম্প মার্কিন বিখ্যাত মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘হার্লি-ডেভিডসন’–এর
উদাহরণ টেনে ভারতের অতীত শুল্ক নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ভারতের
উচ্চ শুল্কের কারণে মার্কিন কোম্পানিটির পক্ষে সেখানে ব্যবসা করা কঠিন ছিল।
ট্রাম্প বলেন:
“অতীতে তারা হার্লে-ডেভিডসনকে মোটরসাইকেল বিক্রি করতে দিত না এবং ২০০ শতাংশ পর্যন্ত
শুল্ক আরোপ করেছিল। ফলে কোম্পানিটি ভারতে নিজেদের কারখানা স্থাপন করতে বাধ্য হয়। ঘটনাটি
দুর্ভাগ্যজনক হলেও আমার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এমনটা ঘটেছিল।”
এর বিপরীতে
মার্কিন বাজারে ভারতীয় মোটরসাইকেলের কোনো শুল্ক বাধা ছিল না দাবি করে তিনি বলেন,
“তারা এখানেও মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে, অথচ আমরা কত শুল্ক নিয়েছি? কিছুই না। তবে এখন
পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো। আমরা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য থেকে অনেক অর্থ উপার্জন করছি।”
চলতি সপ্তাহের
শুরুতে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল ভারতে এসে অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য
চুক্তি নিয়ে চার দিনব্যাপী আলোচনা সম্পন্ন করে, যা বৃহস্পতিবারই শেষ হয়েছে। ভারতের
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত পরিবেশে আলোচনা
সম্পন্ন হয়েছে এবং উভয় দেশই একটি পারস্পরিক লাভজনক চুক্তি চূড়ান্ত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
করেছে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি
ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে টেলিফোন আলাপের পর দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (বিটিএ)
প্রথম ধাপের কাঠামো চূড়ান্ত করেছিল। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক
৫০% থেকে কমিয়ে ১৮% করতে সম্মত হয় এবং রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর
আরোপিত ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের কথা ছিল।
তবে গত ২০ ফেব্রুয়ারি
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে
রায় দেয়। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য সব দেশের ওপর ১০
শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের নতুন ঘোষণা দেয়। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতেই
মূলত দুই দেশ নতুন করে এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের
মতে, চলমান এই জটিল আলোচনা সফল হলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে
বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং দু'দেশের বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণের নতুন দিগন্ত
উন্মোচিত হবে।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিজের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাবে।
স্থানীয় সময়
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প
বলেন, “আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, কারণ আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রীকে খুব পছন্দ করি।
তিনি আমার ভালো বন্ধু। আমাদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা একটি চুক্তি করবই।”
ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
তবে দুই দেশের
চলমান বাণিজ্য আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প অভিযোগের সুরে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের
বাণিজ্য নীতির একতরফা সুবিধা নিয়েছে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর অত্যধিক শুল্ক
আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “তারা আমাদের কোম্পানিগুলোর ওপর বিপুল পরিমাণ
শুল্ক আরোপ করেছে, অথচ আমরা তাদের কাছ থেকে কিছুই নিইনি।”
বক্তব্যের এক
পর্যায়ে ট্রাম্প মার্কিন বিখ্যাত মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘হার্লি-ডেভিডসন’–এর
উদাহরণ টেনে ভারতের অতীত শুল্ক নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ভারতের
উচ্চ শুল্কের কারণে মার্কিন কোম্পানিটির পক্ষে সেখানে ব্যবসা করা কঠিন ছিল।
ট্রাম্প বলেন:
“অতীতে তারা হার্লে-ডেভিডসনকে মোটরসাইকেল বিক্রি করতে দিত না এবং ২০০ শতাংশ পর্যন্ত
শুল্ক আরোপ করেছিল। ফলে কোম্পানিটি ভারতে নিজেদের কারখানা স্থাপন করতে বাধ্য হয়। ঘটনাটি
দুর্ভাগ্যজনক হলেও আমার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এমনটা ঘটেছিল।”
এর বিপরীতে
মার্কিন বাজারে ভারতীয় মোটরসাইকেলের কোনো শুল্ক বাধা ছিল না দাবি করে তিনি বলেন,
“তারা এখানেও মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে, অথচ আমরা কত শুল্ক নিয়েছি? কিছুই না। তবে এখন
পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো। আমরা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য থেকে অনেক অর্থ উপার্জন করছি।”
চলতি সপ্তাহের
শুরুতে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল ভারতে এসে অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য
চুক্তি নিয়ে চার দিনব্যাপী আলোচনা সম্পন্ন করে, যা বৃহস্পতিবারই শেষ হয়েছে। ভারতের
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত পরিবেশে আলোচনা
সম্পন্ন হয়েছে এবং উভয় দেশই একটি পারস্পরিক লাভজনক চুক্তি চূড়ান্ত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
করেছে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি
ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে টেলিফোন আলাপের পর দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (বিটিএ)
প্রথম ধাপের কাঠামো চূড়ান্ত করেছিল। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক
৫০% থেকে কমিয়ে ১৮% করতে সম্মত হয় এবং রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর
আরোপিত ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের কথা ছিল।
তবে গত ২০ ফেব্রুয়ারি
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে
রায় দেয়। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য সব দেশের ওপর ১০
শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের নতুন ঘোষণা দেয়। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতেই
মূলত দুই দেশ নতুন করে এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের
মতে, চলমান এই জটিল আলোচনা সফল হলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে
বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং দু'দেশের বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণের নতুন দিগন্ত
উন্মোচিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন