সংবাদ

অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ জুন ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

দেশজুড়ে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

র‌বিবার (৭ জুন) সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি দল টাঙ্গাইল সদর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। গ্রেফতাররা হলেন: টাঙ্গাইল সদরের কাগমারা গ্রামের মো. সোলায়মান (৪৭), এনায়েতপুর গ্রামের মো. সাগর মিয়া (২৮) এবং দিঘীবিল গ্রামের মো. জুয়েল রানা (৩২)।

​সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন দুপুরে মো. সোলায়মানকে কাগমারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় তার নিজস্ব ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন বিকেলেই টাঙ্গাইল সদরের কলেজপাড়া মেইন রোডে অবস্থিত একটি বিকাশের ডিস্ট্রিবিউশন হাউজ থেকে সাগর মিয়া ও জুয়েল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সিআইডি জানায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় তারা দেখতে পান, দেশ ও বিদেশ থেকে বিভিন্ন অনলাইন বেটিং বা জুয়ার ওয়েবসাইট চালানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবল ম্যাচ এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে এই জুয়া খেলা চলছিল। এর প্রেক্ষিতে গত ১৭ মে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করে।

​মামলার তদন্তে দেখা যায়, জুয়ায় অংশ নিতে প্রথমে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলতে হতো। এরপর বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়ের মতো মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টাকা জমা দিতে জুয়াড়িদের উৎসাহিত করত এই চক্র। জমা টাকার বিপরীতে অ্যাকাউন্টে ভার্চুয়াল ব্যালেন্স বা ই-মানি যোগ হলে তা জুয়ায় ব্যবহৃত হতো। এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাব জুয়ার সাইটে ব্যবহার করত। জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত টাকা থেকে নিজেদের কমিশন কাটার পর বাকি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করা হতো।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত এজেন্ট সিম এবং আর্থিক লেনদেনে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে তারা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে এজেন্ট সিম ও হিসাব সরবরাহ করতেন। গ্রেফতার সোলায়মান অর্থের বিনিময়ে তার এজেন্ট সিমটি জুয়ার সাইটে চালানোর জন্য সাগরের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।

অন্যদিকে সাগর মিয়া ও জুয়েল রানা হলেন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ডিএসও। তারা নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে জুয়ার সাইটের জন্য বিভিন্ন এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে দিতেন, যা জুয়ার টাকা জমা ও উত্তোলনে ব্যবহৃত হতো।

গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬


অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

র‌বিবার (৭ জুন) সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি দল টাঙ্গাইল সদর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। গ্রেফতাররা হলেন: টাঙ্গাইল সদরের কাগমারা গ্রামের মো. সোলায়মান (৪৭), এনায়েতপুর গ্রামের মো. সাগর মিয়া (২৮) এবং দিঘীবিল গ্রামের মো. জুয়েল রানা (৩২)।

​সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন দুপুরে মো. সোলায়মানকে কাগমারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় তার নিজস্ব ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন বিকেলেই টাঙ্গাইল সদরের কলেজপাড়া মেইন রোডে অবস্থিত একটি বিকাশের ডিস্ট্রিবিউশন হাউজ থেকে সাগর মিয়া ও জুয়েল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সিআইডি জানায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় তারা দেখতে পান, দেশ ও বিদেশ থেকে বিভিন্ন অনলাইন বেটিং বা জুয়ার ওয়েবসাইট চালানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবল ম্যাচ এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে এই জুয়া খেলা চলছিল। এর প্রেক্ষিতে গত ১৭ মে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করে।

​মামলার তদন্তে দেখা যায়, জুয়ায় অংশ নিতে প্রথমে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলতে হতো। এরপর বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়ের মতো মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টাকা জমা দিতে জুয়াড়িদের উৎসাহিত করত এই চক্র। জমা টাকার বিপরীতে অ্যাকাউন্টে ভার্চুয়াল ব্যালেন্স বা ই-মানি যোগ হলে তা জুয়ায় ব্যবহৃত হতো। এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাব জুয়ার সাইটে ব্যবহার করত। জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত টাকা থেকে নিজেদের কমিশন কাটার পর বাকি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করা হতো।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত এজেন্ট সিম এবং আর্থিক লেনদেনে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে তারা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে এজেন্ট সিম ও হিসাব সরবরাহ করতেন। গ্রেফতার সোলায়মান অর্থের বিনিময়ে তার এজেন্ট সিমটি জুয়ার সাইটে চালানোর জন্য সাগরের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।

অন্যদিকে সাগর মিয়া ও জুয়েল রানা হলেন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ডিএসও। তারা নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে জুয়ার সাইটের জন্য বিভিন্ন এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে দিতেন, যা জুয়ার টাকা জমা ও উত্তোলনে ব্যবহৃত হতো।

গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত