সংবাদ

অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলা : বেনজীরের বিরুদ্ধে আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলা : বেনজীরের বিরুদ্ধে আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

১১ কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এই চারজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এর আগে গত ২০ মে মামলাটিতে আরও চারজন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১ জুলাই দিন ধার্য করেছেন।

দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "সাবেক আইজি বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর থেকে আজ পর্যন্ত মামলাটিতে আটজনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। আশা করছি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।"

আজ আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া চারজন হলেন— নরসিংদীর কর কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সোহেল মিয়া, সোনারগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রিয়াজুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসেফ আয়নান বখস ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক সিরাজুল হক।

এর আগে গত ৩ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে পলাতক বেনজীর আহমেদের বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তাঁর দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে দুদকের তদন্তে তাঁর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। অর্থাৎ, তাঁর মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদের খোঁজ মেলে।

যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২applied টাকা। জীবনযাত্রার ব্যয় বাদে তাঁর নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত মোট ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রমাণিত হয়।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ছাড়াও বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে দুই মামলায় বেনজীরকে প্রধান আসামি এবং স্ত্রী-সন্তানদের পৃথক তিন মামলায় তাঁকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে এই মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে।

পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলা: সরকারি চাকরিতে বহাল থেকেও নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরির অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর বেনজীরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

অর্থ পাচার মামলা: ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) অভিযোগে বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মির্জা এবং দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

স্ত্রী ও সন্তানদের নামে পৃথক ৩ মামলা: ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীরের স্ত্রী জীশান মির্জা এবং দুই মেয়ের নামে পৃথক তিনটি মামলা করে দুদক, যেখানে বেনজীর আহমেদকে সহযোগী আসামি করা হয়।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলা : বেনজীরের বিরুদ্ধে আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

১১ কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এই চারজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এর আগে গত ২০ মে মামলাটিতে আরও চারজন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১ জুলাই দিন ধার্য করেছেন।

দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "সাবেক আইজি বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর থেকে আজ পর্যন্ত মামলাটিতে আটজনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। আশা করছি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।"

আজ আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া চারজন হলেন— নরসিংদীর কর কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সোহেল মিয়া, সোনারগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রিয়াজুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসেফ আয়নান বখস ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক সিরাজুল হক।

এর আগে গত ৩ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে পলাতক বেনজীর আহমেদের বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তাঁর দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে দুদকের তদন্তে তাঁর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। অর্থাৎ, তাঁর মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদের খোঁজ মেলে।

যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২applied টাকা। জীবনযাত্রার ব্যয় বাদে তাঁর নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত মোট ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রমাণিত হয়।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ছাড়াও বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে দুই মামলায় বেনজীরকে প্রধান আসামি এবং স্ত্রী-সন্তানদের পৃথক তিন মামলায় তাঁকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে এই মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে।

পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলা: সরকারি চাকরিতে বহাল থেকেও নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরির অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর বেনজীরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

অর্থ পাচার মামলা: ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) অভিযোগে বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মির্জা এবং দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

স্ত্রী ও সন্তানদের নামে পৃথক ৩ মামলা: ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীরের স্ত্রী জীশান মির্জা এবং দুই মেয়ের নামে পৃথক তিনটি মামলা করে দুদক, যেখানে বেনজীর আহমেদকে সহযোগী আসামি করা হয়।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত