ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে গত এক শতকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু ভবন ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়া মানুষদের বের করে আনার ক্ষেত্রে ধীরগতির উদ্ধারকাজের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ শুক্রবার (২৬ জুন) জানান, সরকারি হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জন হয়েছে। এর আগে ডেলসি রদ্রিগেজ এই ভূমিকম্পে প্রায় ৩ হাজার মানুষের আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছিলেন।
শুক্রবার ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত 'লা গুয়াইরা' রাজ্য পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট জানান, ইতোমধ্যে বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো উপদ্রুত এলাকায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সময় পার হওয়ার সাথে সাথে মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
রদ্রিগেজ আরও জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এই শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা রাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জরুরি খাদ্য ও পানি বিতরণ করছে। এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় ব্যাপক আকারে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) জানিয়েছে, এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে ভেনিজুয়েলার প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার মধ্যে শুধু রাজধানী কারাকাসেই রয়েছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের আমেরিকা অঞ্চলের পরিচালক লয়েস পেস জানিয়েছেন, ক্রমাগত আফটারশকের আতঙ্কে মানুষ এখনো তাদের ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছে।
এদিকে, এই ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এক শঙ্কার কথা জানিয়েছে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চূড়ান্ত পর্যায়ে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। একই সাথে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে রাজধানী কারাকাসের 'সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে গত এক শতকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু ভবন ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়া মানুষদের বের করে আনার ক্ষেত্রে ধীরগতির উদ্ধারকাজের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ শুক্রবার (২৬ জুন) জানান, সরকারি হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জন হয়েছে। এর আগে ডেলসি রদ্রিগেজ এই ভূমিকম্পে প্রায় ৩ হাজার মানুষের আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছিলেন।
শুক্রবার ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত 'লা গুয়াইরা' রাজ্য পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট জানান, ইতোমধ্যে বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো উপদ্রুত এলাকায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সময় পার হওয়ার সাথে সাথে মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
রদ্রিগেজ আরও জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এই শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা রাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জরুরি খাদ্য ও পানি বিতরণ করছে। এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় ব্যাপক আকারে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) জানিয়েছে, এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে ভেনিজুয়েলার প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার মধ্যে শুধু রাজধানী কারাকাসেই রয়েছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের আমেরিকা অঞ্চলের পরিচালক লয়েস পেস জানিয়েছেন, ক্রমাগত আফটারশকের আতঙ্কে মানুষ এখনো তাদের ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছে।
এদিকে, এই ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এক শঙ্কার কথা জানিয়েছে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চূড়ান্ত পর্যায়ে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। একই সাথে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে রাজধানী কারাকাসের 'সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন