সংবাদ

আর্কাইভ দেখুন

অপরিকল্পিত শিল্পায়নে ‘কৃষিজমি-খাল দখল’

অপরিকল্পিত শিল্পায়নে ‘কৃষিজমি-খাল দখল’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও মেঘনা-গোমতী নদীবেষ্টিত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা অনেক আগে থেকেই উদ্যোক্তাদের কাছে আকর্ষণীয়। দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত শিল্পায়নের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে এই এলাকার কৃষি জমির পরিমাণ।এক সময় কৃষিনির্ভর এলাকা হিসেবে পরিচিত এই উপজেলায় বর্তমানে দ্রুত হারে গড়ে উঠছে বিভিন্ন শিল্পকারখানা, ইটভাটা ও আবাসন প্রকল্প। ফলে তিন ফসলি উর্বর জমি হারিয়ে যাচ্ছে এবং কৃষি উপৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমি জোরপূর্বক দখল করে বালু ভরাট এবং সরকারি খাল দখলের অভিযোগও আছে।সম্প্রতি এ ধরণের একটি অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. কামরুজ্জামান রতন। ঘটনা মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া মৌজায়।স্থানীয়দের অভিযোগ, চর বাউশিয়া মৌজার বড় কান্দি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তি মালিকানাধীন তিন ফসলি জমিতে জোরপূর্বক বালু ভরাট করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাশের সরকারি খাল দখল করে ভরাটের মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা চলছে।অভিযোগ আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখতে গতকাল সোমবার বিকেলে দিকে চর বাউশিয়া যান এমপি রতন। গাড়ি থেকে নেমে প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে বালু ভরাট এলাকায় যান তিনি। গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. সামিউল আরেফিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে  এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মুন্সিগঞ্জ জেলা জাসাস সভাপতি হাসান জাহাঙ্গীর, গজারিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলামুজ্জোহা চৌধুরী তপন, গজারিয়া উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক খন্দকার জালাল রিমু, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবাদুল্লাহ (মেম্বার), ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব রুহুল আমিন সরকার,উপজেলা ছাএদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, যুবদল নেতা শাহদাত হোসেন পান্নুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।অপরিকল্পিত শিল্পায়নস্থানীয়দের অভিযোগ, তিন ফসলি জমিতে শিল্প কারখানা স্থাপন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও বিভিন্ন কৌশলে জমি ভরাট করে কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।এছাড়া, কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে পড়ছে এবং পরবর্তিতে এসব জমিতে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলেও জানান তারা।সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মহাসড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা এবং নদীর তীর ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে ছোট-বড় প্রায় শতাধিক  শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে তিন ফসলি জমিতে মাটি ভরাট করে কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষি জমির পরিমাণ কমছে, অন্যদিকে শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে গজারিয়া উপজেলায় নীট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ হাজার ৮৭২ হেক্টর। বর্তমানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৩৮৯ হেক্টরে। গত আট বছরে ৪৩৮ হেক্টর বা প্রায় ১ হাজার ৩০০ বিঘা আবাদি জমি কমেছে।স্থানীয় কৃষক মো. আব্দুল করিম বলেন, “আগে আমাদের এলাকায় অধিকাংশ জমিতে বছরে তিনটি ফসল হতো। এখন অনেক জমি কারখানার দখলে চলে গেছে। আবার অনেক জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করায় জমির উৎপাদন ক্ষমতাও কমে গেছে।”গজারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক  এ বিষয়ে বলেন, “কৃষি জমি রক্ষায় সরকার বিভিন্ন নীতিমালা গ্রহণ করেছে। তিন ফসলি জমিতে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে কোথাও এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


পিএসসি সংশোধন: সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ‘এবার সাড়া মিলবে’

পিএসসি সংশোধন: সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ‘এবার সাড়া মিলবে’

চার-পাঁচ দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে: ইকবাল হাসান মাহমুদপ্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা নিষ্পত্তি হয়েছে এক যুগের বেশী আগে। দুটো দেশই তাদের সমুদ্রাঞ্চল থেকে খনিজ সম্পদ আহরণ শুরু করেছে। সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নিজস্ব সক্ষমতা না থাকায় বিদেশী অনুসন্ধান কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ। তবে এখন পর্যন্ত কোন বিদেশী কোম্পানি অনুসন্ধান সমাপ্ত করেনি; বাংলাদেশের জন্য কোন সুখবরও আসেনি।‘অনুসন্ধানের পর তেল-গ্যাস না পেলে বিরাট ক্ষতি; পাওয়া গেলেও খুব একটি লাভ আসবে না’-  এমন ধারণায় বিনিয়োগকারী বিদেশী তেল অনুসন্ধান কোম্পানিগুলো (আইওসি) এতদিন বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধানে বাংলাদেশের প্রস্তাবে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। যেকটি কোম্পানি কাজ করতে এসেছে, এক পর্যায়ে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের আগেই তারা ব্লকগুলো ছেড়ে চলে গেছে।জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদেশী তেল উত্তোলন কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের আপত্তি বিবেচনা করে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, পাইপলাইন ব্যয় পুনরুদ্ধার এবং কাজের বাধ্যবাধকতার শর্তে সংশোধন এনে নতুন ‘মডেল প্রডাকশন শেয়ারিং চুক্তি’ (পিএসসি) চূড়ান্ত করা হয়েছে।এখন, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। সংশোধিত আর্থিক ও চুক্তিগত শর্তে ২৬টি অফশোর ব্লক উন্মুক্ত করে শিগগিরই দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।শিগগিরই আন্তর্জাতিক দরপত্রসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সোমবার ঢাকার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের কাউন্সিল হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, সরকার আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সাশ্রয়ী জ্বালানির দিকে যেতে চায়।পিএসসি প্রসঙ্গে এর আগে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গ্যাসের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারদর বা ব্রেন্ট ক্রুডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং প্রতি পাঁচ বছর পর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে তা সমন্বয় করা হবে।নীতিগত অনুমোদনদেশের সমুদ্রাঞ্চলে জ্বালানি অনুসন্ধানের কাঠামোগত উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ)। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সিসিইএ’র এ বছরের ১৩তম সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের উপস্থাপিত এ প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো- সমুদ্রবক্ষে হাইড্রোকার্বন বা খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার চুক্তিনামাকে আরো আধুনিক ও শক্তিশালী করা। সমুদ্রাঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ এবং কারিগরি কার্যক্রম সহজতর করতে সংশোধিত খসড়া প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করে কমিটি।পিএসসির নতুন শর্তপিএসসিতে যুক্ত নতুন শর্তানুযায়ী, বরাদ্দ পাওয়া ব্লকের ২০ শতাংশ ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা আগে ছিল ৫০ শতাংশ। এ ছাড়া কর্মচারী কল্যাণ তহবিলে মুনাফার অংশ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১.৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাইপলাইন ট্যারিফ টেন্ডার জয়ী কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে, তবে অবকাঠামো ব্যয় পুরোপুরি পুনরুদ্ধারের সুযোগ বহাল থাকছে।গ্যাসের মূল্য নির্ধারণেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গভীর সমুদ্রের গ্যাসের দাম ব্রেন্ট ক্রুডের পাঁচ বছরের গড় দামের ১১ শতাংশ হারে নির্ধারিত হবে, যেখানে তেলের দামের ন্যূনতম ৭০ এবং সর্বোচ্চ ১০০ ডলার সীমা থাকবে। অগভীর সমুদ্রে এ হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।বার বার ব্যর্থবঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশে ২৬টি ব্লকের মধ্যে ১১টি অগভীর ও ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক। ২০১০ সালে ডাকা আন্তর্জাতিক দরপত্রে চারটি বিদেশি কোম্পানি কাজ শুরু করলেও কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের আগেই তারা ব্লকগুলো ছেড়ে দেয়। ২০১৬ সালে শেষবার দরপত্র ডাকা হলেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আগ্রহ দেখায়নি। এরপর ২০১৯ সালে নতুন পিএসসি করা হলেও দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। পরে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে ২০২৩ সালের মডেল পিএসসি তৈরি করা হয়।নতুন মডেল পিএসসি অনুযায়ী, অগভীর সমুদ্রে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার এবং গভীর সমুদ্রের জন্য ৭ দশমিক ২৬ মার্কিন ডলার। সম্পদ উত্তোলনে বাংলাদেশের অংশের হিস্যা বা মালিকানার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়। অগভীর সমুদ্রে নতুন মডেলে বাংলাদেশের হিস্যা করা হয় ৪০-৬৫ শতাংশ, যা আগে ছিল ৫০-৮০ শতাংশ। গভীর সমুদ্রে বাংলাদেশের হিস্যা ৩৫-৬০ শতাংশ করা হয়, যা আগে ছিল ৫০-৭৫ শতাংশ। প্রয়োজনীয় শর্তসাপেক্ষে গ্যাস রপ্তানির সুযোগও রাখা হয়।সর্বশেষ মডেল পিএসসি-২০২৩ এর আলোকে ২০২৪ সালের মার্চে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে মার্কিন কোম্পানি এক্সোন মবিলসহ ৭টি আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা কোম্পানি দরপত্র কিনেছিল। এরমধ্যে ২টি কোম্পানি পেট্রোবাংলার কাছ থেকে ডেটাও কিনেছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ নানা কারণে তারা শেষ পর্যন্ত দরপত্র জমা দেয়নি।সরকারের সংশ্লিষ্টদের মতে, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম থাকায় বিদেশি কোম্পানিগুলো অনাগ্রহী ছিল। তবে সংশোধিত নতুন পিএসসির আলোকে এবার দরপত্র আহ্বান করা হলে বিদেশী কোম্পানিগুলোর ‘সাড়া পাওয়া যাবে’।স্থলভাগেও ২১ ব্লকঅফশোরের পাশাপাশি স্থলভাগে ২১টি ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। তবে পার্বত্য এলাকার ২২এ ও ২২বি ব্লক এর বাইরে থাকবে। বর্তমানে আইওসি শেভরন প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাস ৩৩৯ টাকা এবং টাল্লো ২৮৪ টাকায় বিক্রি করে, যেখানে রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর উৎপাদন খরচ তুলনামূলক অনেক কম।এলএনজি নির্ভরতাদেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট, যার বিপরীতে সরবরাহ মাত্র ২৬০-২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন ১৭০ কোটি ঘনফুট এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি থেকে আসে ৮৫-১০০ কোটি ঘনফুট। ২০৩০ সালে দৈনিক চাহিদা বেড়ে ৬৬৫ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমামের মতে, বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের পূর্বাংশে এলাকাবিশেষে অনুসন্ধান জোরালো দেখা গেলেও দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর অংশে গ্যাসের অনুসন্ধান হয়েছে সামান্য। দেশের সম্ভাবনাময় সমুদ্রবক্ষও জোরালো গ্যাস অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়নি।তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার ও ভারত একই সাগরে তাদের অংশে জোরালো অনুসন্ধান করে যথেষ্ট সফলতা অর্জন করেছে।তিনি বলেন, দ্রুত বঙ্গোপসাগরে অগভীর ও গভীর সব জায়গায় অনুসন্ধান শুরু করতে হবে। পাশপাশি স্থলেও গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে।সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মোট মজুত ২৯ দশ‌মিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২.১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট অবশিষ্ট রয়েছে।


ইউএনডিপি ও কোইকার সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

ইউএনডিপি ও কোইকার সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) প্রতিনিধিদল। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর দফতরে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ সোনালি দায়ারত্নের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে গ্রাম আদালত শক্তিশালীকরণ ও গ্রাম পুলিশে নারী সদস্য নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। গ্রাম পর্যায়ে দ্রুত ও কম খরচে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর সম্পৃক্ততা বাড়াতে গ্রাম পুলিশে নারী সদস্য নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এতে নারী ও শিশু সংক্রান্ত সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা সহজ হবে।মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি হলে উচ্চতর আদালতগুলোর ওপর মামলার চাপ কমবে। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।একই দিনে সকালে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে কোইকার চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকারে দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণ এবং কৃষি সম্প্রসারণে নতুন প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।এছাড়া টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন। বাংলাদেশ ও কোইকার মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।সাক্ষাৎকালে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন এবং এক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীদের কারিগরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন।


জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়তে বদ্ধপরিকর সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়তে বদ্ধপরিকর সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একটি আধুনিক, প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন ও সেবামুখী পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে এক বিশেষ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, "বর্তমান সরকার একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনসাধারণের জন্য নিরাপদ সমাজ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পেশাদার পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।" ​সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের লক্ষ্য ও আদর্শ তুলে ধরে বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’-এর ধারাবাহিকতায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আমরা সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটানো আমাদের সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।" এসময় তিনি জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করে আরও বলেন, "বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেম ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।" ​অনুষ্ঠানে পুলিশের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারের আর্থিক সামর্থ্য ও অগ্রাধিকার বিবেচনা করে এসব দাবি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পুলিশের কাজের মানের ওপর নির্ভর করবে। মন্ত্রী বলেন, "পুলিশের পারফরম্যান্স বৃদ্ধির ওপর আমি জোর দিচ্ছি। এসব দাবি-দাওয়া বাস্তবায়ন পুলিশের পারফরম্যান্সের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করবে।" ​সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। সিআইডি'র অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। এছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টারের আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেনসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।


বিসিবির এডহক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ

বিসিবির এডহক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ১১ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।সোমবার (১১ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বিসিবির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া। রিট খারিজ হওয়ার পর হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানান রিটকারি আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া।এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বিসিবির ১১ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়। রিটে বিসিবির এডহক কমিটি অবৈধ ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়াসহ সাত আইনজীবী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন করেন।সেখানে বলা হয়, সাবেক ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুলের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট হলে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। পরে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করলে গত ৬ অক্টোবর বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।কিন্তু গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) ক্রীড়া শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, একজন বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ওই নির্বাচন ‘ত্রুটিপূর্ণ’ প্রমাণিত হয়েছে। এই যুক্তিতে ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৮’-এর ২১ ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ১১ সদস্যের একটি নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়।তামিম ইকবালকে সভাপতি করে গঠিত এই অ্যাডহক কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: ফাহিমা সিনহা, রবিউল ইসলাম বাবু, মির্জা সালমান ইস্পাহানি, তানজিল চৌধুরী, আতাহার আলী খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, মির্জা ইয়াসির আব্বাস এবং ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম।রিটকারী আইনজীবীদের অভিযোগ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এই সিদ্ধান্ত ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ এবং তা স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতিমালা বা ‘প্রিন্সিপাল অব ন্যাচারাল জাস্টিসের’ লঙ্ঘন।


নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণার বাড়ি নির্মাণের জট খুলতে যে উদ্যোগ নি‌লেন ক্রিড়া প্রতিমন্ত্রী

নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণার বাড়ি নির্মাণের জট খুলতে যে উদ্যোগ নি‌লেন ক্রিড়া প্রতিমন্ত্রী

সাফ জয়ী কৃতি নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার ঘর নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক। বর্তমানে সরকারি সফরে তুরস্কে অবস্থান করলেও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল রাঙামাটিতে ঋতুপর্ণার বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।সোমবার প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সচিব এস এম আশরাফ এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত এই প্রতিনিধি দল ঋতুপর্ণার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও কেন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি, প্রতিনিধি দলটি তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করেন।প্রতিনিধি দলটি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করলে জমি সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি সামনে আসে। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি জানান, জেলা প্রশাসন বাড়িটি নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তবে ভূমি বন্দোবস্ত বা বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি থমকে আছে।২০২৫ সালের মার্চ মাসে ঋতুপর্ণা চাকমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ শতক খাসজমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ঋতুপর্ণা নিজে বরাদ্দকৃত জমি দেখে এলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় তিনি জমির দখল বুঝে পাননি।পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি জানিয়েছে, রাঙামাটি সফর থেকে প্রাপ্ত সমস্ত তথ্য ও প্রতিবন্ধকতার বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন যাতে দেশের এই গর্বিত ফুটবলার দ্রুত তার প্রতিশ্রুত সরকারি বাড়ি বুঝে পান।প্রতিমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপে ঋতুপর্ণার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিনের হতাশা কেটে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানাননো হয়েছে।


ভিন্নমতের ঊর্ধ্বে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভিন্নমতের ঊর্ধ্বে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভিন্নমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, দেশটা সবার এবং একে রক্ষা করার দায়িত্বও সবার। রাজনৈতিক বা আদর্শিক ভিন্নতা কাজের ক্ষেত্রে বাধা হওয়া উচিত নয়। সরকারের কাজ করার সময় ব্যক্তিগত ভিন্ন মতাদর্শ যেন কাজের মধ্যে প্রতিফলিত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের ভিন্ন মতের প্রতিফলন ঘটবে কেবলমাত্র ভোটের বাক্সে তার আগে সবাইকে দেশের স্বার্থে এক থাকতে হবে। এর আগে সকালে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নানা দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তৈরি পোশাক শিল্পের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি এবং রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের লবণচাষিদের জীবনমান উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি লবণচাষিদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলী পৃথকভাবে এসব কর্মসূচির তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।


স্বাধীন গণমাধ্যম নি‌য়ে যে বার্তা তথ্যমন্ত্রীর

স্বাধীন গণমাধ্যম নি‌য়ে যে বার্তা তথ্যমন্ত্রীর

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার একটি কার্যকর ও সম্পূর্ণ স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সোমবার ঢাকার তোপখানা রোডস্থ বেঙ্গল সেন্টারে একটি অনলাইন গণমাধ্যমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন।মন্ত্রী জানান, কোনো আরোপিত কাঠামো নয়, বরং দেশের সকল অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিশন গঠন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় চলছে।বর্তমান বিশ্ব এক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে একদিকে যেমন তথ্য প্রবাহ সহজ হয়েছে, অন্যদিকে অপতথ্য ও ভুয়া তথ্যের বিস্তারও বেড়েছে। মানুষকে এই অপতথ্যের হাত থেকে রক্ষা করা বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।’গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে জনগণের সুরক্ষা উভয়ই নিশ্চিত করতে চায় বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে তৈরি হওয়া নতুন সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন কর্মকৌশল প্রণয়ন করছে।তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গণমাধ্যমকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।


ঈদে স্বস্তির যাত্রা নিশ্চিতে নেওয়া হলো যে সব পরিকল্পনা

ঈদে স্বস্তির যাত্রা নিশ্চিতে নেওয়া হলো যে সব পরিকল্পনা

মহাসড়কের দুর্ঘটনা প্রবণ ব্ল্যাক স্পটে বিশেষ নিরাপত্তা বিআরটিসির বিশেষ সার্ভিস চালু কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্ব অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না: মন্ত্রী মাঠে থাকছে বিজিবি ও বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট ঈদযাত্রায় ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ভাড়া ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে সরকার ২০ মে থেকে বিআরটিএ-তে খুলছে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণ কক্ষআসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সোমবার মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তুতি সভায় ঈদ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংস্থাকে একগুচ্ছ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ মে বুধবার থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে। এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া সড়ক-মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে এবং পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সাধনে এই কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবার মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য বিআরটিএ-র নিজস্ব ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি আরও ৫০ জন অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়াসহ দেশের প্রধান টার্মিনালগুলোতে বিশেষ ভিজিল্যান্স ও মনিটরিং টিম গঠন করা হবে, যাতে কোনো পরিবহন অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন করতে না পারে। যানজট নিয়ন্ত্রণ ও টোল প্লাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদের সাত দিন আগে থেকে পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রোভার স্কাউটের সদস্যরাও মাঠে সক্রিয় থাকবেন।যাত্রীদের চাপ সামলাতে বিআরটিসি বিশেষ বাস সার্ভিস পরিচালনা করবে এবং প্রয়োজনে স্ট্যান্ডবাই বাস প্রস্তুত রাখা হবে। পাশাপাশি মেট্রোরেলের হেডওয়ে বা চলাচলের সময়সীমাও যাত্রীর চাপ অনুযায়ী সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে মিরর স্থাপন এবং চালকদের ডোপ টেস্ট নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের ১০টি বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করবে।সভায় সভাপতির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঈদ যাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, দুর্ঘটনা হ্রাস ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্ব অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।মন্ত্রী আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো দুর্ঘটনা বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপিসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সীমান্তে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় আমদানির যৌক্তিকতা যাচাই করছে সরকার পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বানলবণ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং স্থানীয় প্রান্তিক চাষীদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে লবণের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের লক্ষে কাজ শুরু হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে লবণ চাষীদের জীবনমান উন্নয়ন সংক্রান্ত এক বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “দেশে লবণ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং স্থানীয় লবণ চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে লবণের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে।”স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কৃষি মন্ত্রণালয় বর্তমানে লবণ চাষীদের উৎপাদন খরচ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে। দেশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও ভোজ্য লবণের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে আমদানির যৌক্তিকতা যাচাই করা হচ্ছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, “যথাযথ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এমন ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যাতে দেশ লবণ উৎপাদনে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে এবং চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।” মূলত দেশি শিল্পের বিকাশ ও চাষীদের মুখে হাসি ফোটানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি ও সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারতের কোনো অঙ্গরাজ্যে সরকার পরিবর্তন বা অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব বিষয়।” তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী কথিত ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে মন্ত্রী দেশবাসীকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে পুরাতন ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ধরণের কোনো পরিস্থিতির সত্যতা বা নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার মতো কোনো তথ্য স্বরাষ্ট্র বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই।” তিনি জনগণকে কোনো ধরণের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একদিনে ৪ লাশ উদ্ধার, যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একদিনে ৪ লাশ উদ্ধার, যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলায় পৃথক ঘটনায় চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে পারিবারিক কলহ ও অভিমানে বিষপানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক অজ্ঞাত যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া কসবায় প্রেমঘটিত বিরোধে এক যুবক নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। সোমবার (১১ মে) এসব ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীনগর উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে বিষপান করেন মোহন মিয়া (৪৪) নামে এক ভ্যানচালক। তিনি উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গতকাল সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।একই দিনে পারিবারিক কলহের জেরে পৃথক ঘটনায় কীটনাশক বড়ি (কেঁরির ট্যাবলেট) খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন দুই নারী। তারা হলেন নবীনগরের কৃষ্ণনগর গ্রামের নজুপা বেগম (৫০) ও আখাউড়ার চান্দুপুর গ্রামের জরিনা বেগম (৬০)। গুরুতর অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে গতকাল বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মরিচাকান্দি-উলুকান্দি এলাকার কলেজ রোডের পাশ থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের (২৫) গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা রাস্তার পাশে রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্য কোনো স্থানে ওই যুবককে গুলি করে হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। তবে হত্যার কারণ ও নিহতের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।অন্যদিকে কসবা উপজেলার বাউরখন্ড গ্রামে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তানভীর (২৪) নামের এক যুবক। তিনি প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে বিষপান করার পর ব্লেড দিয়ে নিজের গলা কাটেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে তিনি এই চরম পথ বেছে নেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।স্বল্প সময়ের ব্যবধানে জেলায় এমন একাধিক মর্মান্তিক ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে পারিবারিক কলহ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতা ভাবিয়ে তুলছে সচেতন মহলকে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ জানায়, প্রতিটি ঘটনাই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাঞ্ছারামপুরের হত্যাকাণ্ডটির রহস্য উদ্ঘাটন ও নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।


নান্দাইলে হাতকড়াসহ ৫ জুয়াড়ির পলায়ন, পুলিশ-জনতা ধস্তাধস্তি

নান্দাইলে হাতকড়াসহ ৫ জুয়াড়ির পলায়ন, পুলিশ-জনতা ধস্তাধস্তি

ময়মনসিংহের নান্দাইলে জুয়াবিরোধী অভিযান চলাকালে পুলিশের হাত থেকে পাঁচ ব্যক্তি হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পালিয়ে যাওয়া পাঁচজনসহ মোট ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।রোববার (১০ মে) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বারঘড়িয়া নতুন বাজারে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ১১টার দিকে বারঘড়িয়া বাজারের লাল মিয়ার চায়ের দোকানে অভিযান চালায় নান্দাইল মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সম্রাজ ও এসআই পলাশের নেতৃত্বাধীন একটি দল। সেখানে লুডু খেলা অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে আটক করে দোকানের সাটার লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও পিকআপ ভ্যান পৌঁছালে আটক ব্যক্তিদের গাড়িতে তোলার সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে পাঁচজন হাতকড়াসহ দৌড়ে পালিয়ে যান।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতকড়াসহ পালানোর ঘটনায় পুলিশ ক্ষুব্ধ হয়ে লাঠিচার্জ শুরু করলে স্থানীয় জনতাও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।পরে রাত একটার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় পালিয়ে যাওয়া সাইদুল ইসলাম, কিরণ, উজ্জ্বল ও মোবারক হোসেনসহ আরও ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন বা টিভি দেখছিলেন এমন অনেক নিরীহ ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে। এমনকি পুলিশের আচরণের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার দুই ভাইকেও আটক করেছে পুলিশ। দোকানের মালিক লাল মিয়া দাবি করেন, তার দোকানে জুয়া নয়, বরং নিয়মিত টিভি দেখা ও লুডু খেলা হতো।নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম হাতকড়া নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করে বলেন, ‘আসামিরা পালিয়ে যায়নি; পিকআপে তোলার সময় নিচে নেমে পড়েছিল।’তিনি জানান, এ ঘটনায় মোট ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জনকে জুয়া আইনে এবং ৩ জনকে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।


দেশের সকল ৫০ শয্যা হাসপাতাল ১০০ শয্যা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের সকল ৫০ শয্যা হাসপাতাল ১০০ শয্যা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের সকল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।সোমবার (১১ মে) বিকেল ৬টার দিকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সকল ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।’চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধিকাংশ চিকিৎসকই হাসপাতালে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন। তবে দুই-একজন দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামীম আক্তার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ওহাব আলী মিয়া ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান লেবু কাজীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।এর আগে মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।


চল‌তি বছরসহ আগামী ৫ বছর যে লক্ষ্যমাত্রা নি‌লো সরকার

চল‌তি বছরসহ আগামী ৫ বছর যে লক্ষ্যমাত্রা নি‌লো সরকার

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এই কর্মযজ্ঞ সফল করতে গঠিত বিশেষ সেলের দ্বিতীয় সভা সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, কর্মসূচির প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের মধ্যেই ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা ও নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এই কর্মসূচি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক কাজ। কর্মসূচি সফল করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম এই সেলের মাধ্যমে সরাসরি মনিটরিং বা পর্যবেক্ষণ করা হবে।’সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘২০২৬ সালের মধ্যে প্রথম ধাপে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’ তিনি মাটির ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত প্রজাতির গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে বন অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, একই সঙ্গে বন উজাড় রোধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বন অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশব্যাপী বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে।’কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল মালেক। তিনি জানান, বৈঠকে চারা সংগ্রহ থেকে শুরু করে রোপণ পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে তদারকি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মোঃ সাইমুম পারভেজ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ নুরুল ইসলাম এবং টেকনিক্যাল এক্সপার্ট জামাইল বশীর জেবি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভূমি, কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।


পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর, ভোটার তালিকা নিয়ে শীর্ষ আদালতে বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর, ভোটার তালিকা নিয়ে শীর্ষ আদালতে বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক এখন সুপ্রিম কোর্টে।সোমবার শুনানিতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, লাখ লাখ বাদ পড়া ভোটারের আর্জি বিচারাধীন রেখেই নির্বাচন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।ভারতের এই রাজ্যের এবারের বিধানসভার ভোটের ফল ঘোষণার পর সোমবার প্রথমবার এই মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে।তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তার বক্তব্য, রাজ্যের অন্তত ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রে বাদ পড়া বা বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা সংশ্লিষ্ট আসনের জয়ের ব্যবধানের তুলনায় অনেক বেশি।একটি ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ৮৬২ ভোটে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে, সেখানে পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটারের আবেদন তখনও বিচারাধীন ছিল।তৃণমূলের অভিযোগ, এই আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না করেই নির্বাচন করানো হয়েছে, যা সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলছে।তবে, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, যদি নির্বাচনের ফলাফলে বাস্তবিক প্রভাবের অভিযোগ তোলা হয়, তাহলে আলাদা পিটিশন দায়ের করতে হবে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেন।এসআইআর সংক্রান্ত ট্রাইবুনাল নিয়েও প্রশ্ন ওঠে আদালতে। কলকাতা হাই কোর্টের তত্ত্বাবধানে গঠিত এই ট্রাইবুনালের একাধিক সদস্য দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোয় কার্যকারিতা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, ‘কাউকে জোর করে দায়িত্বে রাখা সম্ভব নয়।’নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণ ও ফলপ্রকাশ হওয়ার পর আইনি চ্যালেঞ্জের একমাত্র পথ হল নির্বাচন পিটিশন। তৃণমূলও জানিয়েছে, তারা সেই পথেই এগোতে প্রস্তুত।সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখন আদালতের পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করছে।


কার হাতে কোন শক্তি?

কার হাতে কোন শক্তি?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর এবার প্রশাসনের স্টিয়ারিং ঠিকঠাক করার পালা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রথম বিজেপি সরকার অবশেষে মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন করে দিল—আর সেই বণ্টনেই স্পষ্ট হয়ে গেল আগামী দিনের রোডম্যাপ।ব্রিগেডের জমকালো শপথ গ্রহণের পর থেকেই জল্পনা চলছিল—কার হাতে যাবে কোন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। সোমবার সেই জল্পনার অবসান। আর দপ্তর বণ্টনের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তা, সংগঠনের অগ্রাধিকার, আর ভোটব্যাঙ্কের হিসেব।উত্তরবঙ্গ, যেখানে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি তৈরি হয়েছে গত কয়েক বছরে, সেই অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিশীথ প্রামাণিককে। শুধু উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন নয়, তাঁর হাতে ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তরও। অর্থাৎ, এক ঢিলে দুই পাখি, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং যুব সমাজে প্রভাব বাড়ানো।দলের পুরনো ও আক্রমণাত্মক মুখ দিলীপ ঘোষকে দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। সঙ্গে প্রাণী সম্পদ বিকাশ। গ্রামীণ বাংলার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এখন তার হাতে, যেখানে রাজনৈতিক লড়াই সবচেয়ে বেশি তীব্র। স্পষ্ট, গ্রাম দখলের লড়াইকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি।খাদ্য দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন অশোক কীর্তনীয়া। রেশন, খাদ্য সরবরাহ, এই সংবেদনশীল ক্ষেত্র সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এখানে সাফল্য বা ব্যর্থতা, দুটোই সরকারের ভাবমূর্তিতে বড় প্রভাব ফেলবে।অগ্নিমিত্রা পলের কাঁধে পড়েছে নারী ও শিশু কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, সঙ্গে পুর দপ্তরও। শহর এবং নারী সুরক্ষা, এই দুই ফ্রন্টে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে তাঁকে। বিজেপি এখানে স্পষ্টভাবে মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করছে।অন্যদিকে, আদিবাসী মুখ ক্ষুদিরাম টুডুকে দেওয়া হয়েছে আদিবাসী উন্নয়ন ও পর্যটন দপ্তর। জঙ্গলমহল থেকে পর্যটন মানচিত্র, দুই ক্ষেত্রেই উন্নয়ন দেখিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে সরকার।সব মিলিয়ে, এই দপ্তর বণ্টন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটা একেবারে স্ট্র্যাটেজিক মুভ। কোথায় জোর, কোন ভোটব্যাঙ্কে ফোকাস, আর কোথায় দ্রুত ফল দেখাতে হবে, সবটাই পরিষ্কার।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট, “কথা কম, কাজ বেশি।” এখন দেখার, এই নতুন টিম সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে।