ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ না করে একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত নীতিমালার মাধ্যমে সেগুলোকে বৈধতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী।
সম্প্রতি ‘দৈনিক সংবাদ’-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জাবির আহমেদ জিহাদ-এর সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পাঠকদের জন্য তাঁর সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো:
জাবির আহমেদ জিহাদ: ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ নিয়ে আপনাদের অবস্থান কী?
ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী: আমরা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বলছি, ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ কোনো সমাধান নয়। বরং এটাকে একটা সমন্বিত নীতিমালার আওতায় এনে বৈধতা প্রদান করাটাই হচ্ছে আসল সমাধান। বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ সরাসরি এই যানবাহনের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ ৩ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল। তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালালে দেশের অর্থনীতি বা রাজনীতিতে কোনো স্থিতিশীলতা আসবে না।
জাবির আহমেদ জিহাদ: আপনি তো নীতিমালার কথা বলছেন, সরকার এক্ষেত্রে কী ভূমিকা নিতে পারে?
ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী: স্থানীয়ভাবে একটি অটোমোবাইল খাত গড়ে ওঠার বড় সম্ভাবনা এখানে রয়েছে। বিআরটিএর সাথে সমন্বয় করে যানবাহনের ডিজাইন, রেজিস্ট্রেশন এবং চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতি প্রণয়নের জন্য সরকারের কাজ করা উচিত।
জাবির আহমেদ জিহাদ: বর্তমানে চলা উচ্ছেদ অভিযান এবং জরিমানা নিয়ে
আপনার মন্তব্য কী?
ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী: এই উচ্ছেদ অভিযান এবং যে ১২০০ টাকা করে জরিমানা বা টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটছে, তা অত্যন্ত অমানবিক। ২০২২ সালে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন যে, মহাসড়ক ছাড়া অন্যান্য সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলতে পারবে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে যারা রিকশা শ্রমিকদের হয়রানি করছে বা অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে, তারা মূলত আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখাচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি।
জাবির আহমেদ জিহাদ:সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এসব যানের কারণেই যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ ব্যাপারে কী বলবেন?
ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী: আমি মনে করি, অটোরিকশার কারণে দুর্ঘটনা হচ্ছে না। বরং সড়কে যে বিশৃঙ্খলা, সেখানে সরকারের যথাযথ ভূমিকার অভাব রয়েছে। আপনি দেখুন, ঢাকা শহরের প্রায় ৭৫ শতাংশ রাস্তা দখল করে রাখে প্রাইভেট কার। রাস্তা এভাবে দখল হয়ে থাকলে বাকি যানবাহনের জন্য জায়গা তো কমে যাবেই। সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা বা চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। সরকার যদি নিজের দায়িত্ব পালন না করে শুধু রিকশা শ্রমিকদের গালিগালাজ করে, তবে তাতে কোনো লাভ হবে না।
জাবির আহমেদ জিহাদ: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে
অসংখ্য ধন্যবাদ।
ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী: আপনাকে
এবং ‘দৈনিক সংবাদ’ এর পাঠকদেরও ধন্যবাদ।
/

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ না করে একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত নীতিমালার মাধ্যমে সেগুলোকে বৈধতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী।
সম্প্রতি ‘দৈনিক সংবাদ’-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জাবির আহমেদ জিহাদ-এর সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পাঠকদের জন্য তাঁর সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো:
জাবির আহমেদ জিহাদ: ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ নিয়ে আপনাদের অবস্থান কী?
ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী: আমরা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বলছি, ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ কোনো সমাধান নয়। বরং এটাকে একটা সমন্বিত নীতিমালার আওতায় এনে বৈধতা প্রদান করাটাই হচ্ছে আসল সমাধান। বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ সরাসরি এই যানবাহনের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ ৩ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল। তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালালে দেশের অর্থনীতি বা রাজনীতিতে কোনো স্থিতিশীলতা আসবে না।
জাবির আহমেদ জিহাদ: আপনি তো নীতিমালার কথা বলছেন, সরকার এক্ষেত্রে কী ভূমিকা নিতে পারে?
ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী: স্থানীয়ভাবে একটি অটোমোবাইল খাত গড়ে ওঠার বড় সম্ভাবনা এখানে রয়েছে। বিআরটিএর সাথে সমন্বয় করে যানবাহনের ডিজাইন, রেজিস্ট্রেশন এবং চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতি প্রণয়নের জন্য সরকারের কাজ করা উচিত।
জাবির আহমেদ জিহাদ: বর্তমানে চলা উচ্ছেদ অভিযান এবং জরিমানা নিয়ে
আপনার মন্তব্য কী?
ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী: এই উচ্ছেদ অভিযান এবং যে ১২০০ টাকা করে জরিমানা বা টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটছে, তা অত্যন্ত অমানবিক। ২০২২ সালে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন যে, মহাসড়ক ছাড়া অন্যান্য সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলতে পারবে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে যারা রিকশা শ্রমিকদের হয়রানি করছে বা অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে, তারা মূলত আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখাচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি।
জাবির আহমেদ জিহাদ:সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এসব যানের কারণেই যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ ব্যাপারে কী বলবেন?
ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী: আমি মনে করি, অটোরিকশার কারণে দুর্ঘটনা হচ্ছে না। বরং সড়কে যে বিশৃঙ্খলা, সেখানে সরকারের যথাযথ ভূমিকার অভাব রয়েছে। আপনি দেখুন, ঢাকা শহরের প্রায় ৭৫ শতাংশ রাস্তা দখল করে রাখে প্রাইভেট কার। রাস্তা এভাবে দখল হয়ে থাকলে বাকি যানবাহনের জন্য জায়গা তো কমে যাবেই। সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা বা চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। সরকার যদি নিজের দায়িত্ব পালন না করে শুধু রিকশা শ্রমিকদের গালিগালাজ করে, তবে তাতে কোনো লাভ হবে না।
জাবির আহমেদ জিহাদ: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে
অসংখ্য ধন্যবাদ।
ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী: আপনাকে
এবং ‘দৈনিক সংবাদ’ এর পাঠকদেরও ধন্যবাদ।
/

আপনার মতামত লিখুন