সংবাদ

সিউটা সীমান্তে নজিরবিহীন অভিবাসী সংকট, মৃত অন্তত ৫৭


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০ এএম

সিউটা সীমান্তে নজিরবিহীন অভিবাসী সংকট, মৃত অন্তত ৫৭
ছবি : রয়টার্স

উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের ছিটমহল সিউটায় নজিরবিহীন এক অভিবাসী সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) থেকে মরক্কো সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৫০ হাজার অভিবাসী সমুদ্র ও স্থলপথ পাড়ি দিয়ে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। এই গণ-অনুপ্রবেশের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্পেন কর্তৃপক্ষ।

স্পেন সরকারের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সিউটা সীমান্তের ব্রেকওয়াটার বা সমুদ্রের সুরক্ষা প্রাচীর পার হওয়ার সময় ডুবে অথবা পিষ্ট হয়ে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মরক্কোর সীমানায় আরও হতাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিলেও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ৪৮ হাজার ৩০০ জন স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন। সিউটার স্থানীয় সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস দাবি করেছেন, গত দুই দিনে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা ৬০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, স্পেনের সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিউটা সফর করেছেন। এই গণ-অনুপ্রবেশকে ‘স্পেনের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, মরক্কোর সহযোগিতায় অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। ইতালি ইতোমধ্যে স্পেনের সঙ্গে তাদের শেনজেন সীমান্ত চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে, যা বিমান ও নৌ-যোগাযোগে প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা স্পেন সীমান্তে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই পরিস্থিতির জন্য স্পেনের শিথিল অভিবাসন নীতিকেই দায়ী করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সিউটা ও মেলিলা এলাকা দুটি আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের একমাত্র স্থলপথ হওয়ায় এখানে প্রায়ই অভিবাসীদের ভিড় থাকে। তবে এবারের অনুপ্রবেশের মাত্রা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


সিউটা সীমান্তে নজিরবিহীন অভিবাসী সংকট, মৃত অন্তত ৫৭

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের ছিটমহল সিউটায় নজিরবিহীন এক অভিবাসী সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) থেকে মরক্কো সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৫০ হাজার অভিবাসী সমুদ্র ও স্থলপথ পাড়ি দিয়ে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। এই গণ-অনুপ্রবেশের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্পেন কর্তৃপক্ষ।

স্পেন সরকারের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সিউটা সীমান্তের ব্রেকওয়াটার বা সমুদ্রের সুরক্ষা প্রাচীর পার হওয়ার সময় ডুবে অথবা পিষ্ট হয়ে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মরক্কোর সীমানায় আরও হতাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিলেও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ৪৮ হাজার ৩০০ জন স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন। সিউটার স্থানীয় সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস দাবি করেছেন, গত দুই দিনে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা ৬০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, স্পেনের সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিউটা সফর করেছেন। এই গণ-অনুপ্রবেশকে ‘স্পেনের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, মরক্কোর সহযোগিতায় অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। ইতালি ইতোমধ্যে স্পেনের সঙ্গে তাদের শেনজেন সীমান্ত চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে, যা বিমান ও নৌ-যোগাযোগে প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা স্পেন সীমান্তে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই পরিস্থিতির জন্য স্পেনের শিথিল অভিবাসন নীতিকেই দায়ী করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সিউটা ও মেলিলা এলাকা দুটি আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের একমাত্র স্থলপথ হওয়ায় এখানে প্রায়ই অভিবাসীদের ভিড় থাকে। তবে এবারের অনুপ্রবেশের মাত্রা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত