সংবাদ

লাসুবন: পাহাড়ের গভীরে জল-পাথরের গোপন পৃথিবী


সংগ্রাম দত্ত, প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
সংগ্রাম দত্ত, প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

লাসুবন: পাহাড়ের গভীরে জল-পাথরের গোপন পৃথিবী
ছবি : সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির এক অনন্য জগৎ। মানুষের কোলাহল থেকে বহু দূরে সবুজের গভীরে পাথরের বুক চিরে বয়ে চলেছে জল। স্থানীয় খাসি জনগোষ্ঠীর কাছে এই জায়গার নাম লাসুবন, অর্থাৎ পাহাড়ি ফুল।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সিন্দুরখান ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় লাসুবনের অবস্থান। কিছুটা পথ যানবাহনে পাড়ি দেওয়ার পর শুরু হয় দুর্গম পাহাড়ি পথের যাত্রা - কখনো ছড়া পেরিয়ে, কখনো খাড়া ঢাল বেয়ে।

নাহার খাসিপল্লির বিস্তীর্ণ পাহাড়জুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য পাথুরে ছড়া ও ঝরনা। ভারতের ত্রিপুরা পাহাড় থেকে নেমে আসা লাঙ্গুলিয়া ছড়া প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে শ্রীমঙ্গলের বিলাস ছড়ায় মিশেছে, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাহাড় থেকে নেমে আসা আরও অসংখ্য স্রোত।

জল ও পাথরের দীর্ঘদিনের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে তিনটি প্রাচীন গিরিখাত - প্রেম কুলু, প্রেম কেলী ও প্রেম উলকা। খাড়া পাহাড়ের দুই দেয়ালের মাঝ দিয়ে নেমে আসা স্বচ্ছ জলে পাথরের গায়ে তৈরি হয়েছে বিচিত্র কারুকাজ। কোথাও ছোট ঝরনা, কোথাও জলপ্রপাত, আবার কোথাও দীর্ঘ জলপ্রবাহে সৃষ্টি হয়েছে গভীর জলাধার। পাহাড়ের দেয়াল ও গাছের ডালপালা সূর্যের আলো আটকে দেওয়ায় দিনের বেলাতেও গিরিখাতের ভেতরে নেমে আসে এক ধরনের সন্ধ্যা। তবে এই সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে ঝুঁকিও - হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নামলে মুহূর্তেই বিপদ ঘটতে পারে।

দুর্গমতার কারণে এতদিন লাসুবন ছিল মানুষের চোখের আড়ালে। নতুন করে নজরে আসায় তৈরি হয়েছে পর্যটনের সম্ভাবনা। তবে পাহাড় কাটা, ছড়া দখল বা প্লাস্টিক বর্জ্যে যেন এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট না হয়, সে বিষয়েও উঠেছে সংরক্ষণের প্রশ্ন। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করেই লাসুবনে পর্যটনের কথা ভাবতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


লাসুবন: পাহাড়ের গভীরে জল-পাথরের গোপন পৃথিবী

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির এক অনন্য জগৎ। মানুষের কোলাহল থেকে বহু দূরে সবুজের গভীরে পাথরের বুক চিরে বয়ে চলেছে জল। স্থানীয় খাসি জনগোষ্ঠীর কাছে এই জায়গার নাম লাসুবন, অর্থাৎ পাহাড়ি ফুল।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সিন্দুরখান ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় লাসুবনের অবস্থান। কিছুটা পথ যানবাহনে পাড়ি দেওয়ার পর শুরু হয় দুর্গম পাহাড়ি পথের যাত্রা - কখনো ছড়া পেরিয়ে, কখনো খাড়া ঢাল বেয়ে।

নাহার খাসিপল্লির বিস্তীর্ণ পাহাড়জুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য পাথুরে ছড়া ও ঝরনা। ভারতের ত্রিপুরা পাহাড় থেকে নেমে আসা লাঙ্গুলিয়া ছড়া প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে শ্রীমঙ্গলের বিলাস ছড়ায় মিশেছে, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাহাড় থেকে নেমে আসা আরও অসংখ্য স্রোত।

জল ও পাথরের দীর্ঘদিনের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে তিনটি প্রাচীন গিরিখাত - প্রেম কুলু, প্রেম কেলী ও প্রেম উলকা। খাড়া পাহাড়ের দুই দেয়ালের মাঝ দিয়ে নেমে আসা স্বচ্ছ জলে পাথরের গায়ে তৈরি হয়েছে বিচিত্র কারুকাজ। কোথাও ছোট ঝরনা, কোথাও জলপ্রপাত, আবার কোথাও দীর্ঘ জলপ্রবাহে সৃষ্টি হয়েছে গভীর জলাধার। পাহাড়ের দেয়াল ও গাছের ডালপালা সূর্যের আলো আটকে দেওয়ায় দিনের বেলাতেও গিরিখাতের ভেতরে নেমে আসে এক ধরনের সন্ধ্যা। তবে এই সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে ঝুঁকিও - হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নামলে মুহূর্তেই বিপদ ঘটতে পারে।

দুর্গমতার কারণে এতদিন লাসুবন ছিল মানুষের চোখের আড়ালে। নতুন করে নজরে আসায় তৈরি হয়েছে পর্যটনের সম্ভাবনা। তবে পাহাড় কাটা, ছড়া দখল বা প্লাস্টিক বর্জ্যে যেন এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট না হয়, সে বিষয়েও উঠেছে সংরক্ষণের প্রশ্ন। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করেই লাসুবনে পর্যটনের কথা ভাবতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত