সংবাদ

ঋতু বদলালেই মন খারাপ, নাকি SAD? পার্থক্য বুঝবেন যেভাবে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

ঋতু বদলালেই মন খারাপ, নাকি SAD? পার্থক্য বুঝবেন যেভাবে

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যেতে পারে মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস ও অনুভূতিও। দিনের আলো কমে যাওয়া, আবহাওয়ার পরিবর্তন কিংবা বাইরে কম সময় কাটানোর কারণে কারও কারও মধ্যে ক্লান্তি, ঘুমঘুম ভাব বা কাজে অনীহা দেখা দিতে পারে।

তবে একই সময়ে প্রতি বছর যদি বিষণ্ণতার মতো লক্ষণ ফিরে আসে এবং তা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে, তাহলে বিষয়টি শুধু সাময়িক মন খারাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিকে বলা হয় সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার বা SAD।

SAD আসলে কী?

সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার এক ধরনের বিষণ্ণতা, যার লক্ষণ নির্দিষ্ট ঋতুকে কেন্দ্র করে দেখা দেয় বা বেড়ে যায়। সাধারণত শরৎ বা শীতকালে এর লক্ষণ শুরু হয়ে বসন্ত বা গ্রীষ্মে কমে আসে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বসন্ত বা গ্রীষ্মেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শীতকালীন SAD-এর সঙ্গে দিনের আলোর পরিবর্তনের একটি সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। আলো কমে যাওয়ায় শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি, ঘুমের ধরণ এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে SAD হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। জৈবিক, মানসিক ও পরিবেশগত বিভিন্ন বিষয় এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ঋতু পরিবর্তনে মন খারাপ হলেই কি SAD?

না! ঋতু বদলের সময় কিছুটা ক্লান্তি, মনমরা ভাব বা উদ্যম কমে যাওয়া স্বাভাবিকভাবেও ঘটতে পারে। দিনের আলোর পরিবর্তন, দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন, প্রচণ্ড গরম কিংবা বাইরে কম সময় কাটানোর মতো বিষয় ঘুম ও দৈনন্দিন অভ্যাসে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে SAD-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও নির্দিষ্ট। লক্ষণগুলো সাধারণত প্রতি বছর একই ধরনের ঋতুভিত্তিক ধারায় ফিরে আসে এবং কাজ, সম্পর্ক, সামাজিক জীবন কিংবা স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

শীতকালীন SAD-এর লক্ষণ 

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ (NIMH) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শীতকালীন SAD-এর ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে-

  • দীর্ঘ সময় ধরে মনমরা থাকা
  • কোনো কাজে আগ্রহ বা আনন্দ কমে যাওয়া
  • শক্তি কমে যাওয়া ও অস্বাভাবিক ক্লান্তি
  • স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঘুমানো
  • মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা
  • ক্ষুধায় পরিবর্তন
  • বিশেষ করে শর্করাজাতীয় খাবারের প্রতি বেশি আকাঙ্ক্ষা
  • সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া
  • হতাশা, অসহায়ত্ব বা মূল্যহীনতার অনুভূতি
  • বিছানা থেকে ওঠা বা স্বাভাবিক রুটিন ধরে রাখতেও সমস্যা হওয়া

গ্রীষ্মকালেও হতে পারে

সব ক্ষেত্রে শীতকালেই SAD দেখা যায় না। গ্রীষ্মকালীন SAD-এর লক্ষণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-

  • অনিদ্রা
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া
  • অস্থিরতা
  • উদ্বেগ
  • খিটখিটে মেজাজ

দিনের আলোর সঙ্গে সম্পর্ক কোথায়?

শীতকালীন SAD-এর একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দিনের আলো কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। সূর্যালোক শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা দেহঘড়ি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই দেহঘড়িই ঘুম ও জাগরণের সময় নিয়ন্ত্রণ করে।

দিনের আলোর পরিমাণে পরিবর্তন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোন মেলাটোনিন এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে যুক্ত মস্তিষ্কের রাসায়নিক সেরোটোনিনেও প্রভাব পড়তে পারে।

এর ফলে নির্দিষ্ট ঋতুতে কিছু মানুষের ঘুম, কর্মশক্তি ও মেজাজে একই ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে SAD জটিল একটি অবস্থা হওয়ায় শুধু একটি জৈবিক কারণ দিয়ে এর সব দিক ব্যাখ্যা করা যায় না।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

SAD যে কারও হতে পারে। তবে বিষণ্ণতা বা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। যেসব অঞ্চলে ঋতুভেদে দিনের আলোর বড় ধরনের পরিবর্তন হয়, সেখানেও এটি বেশি দেখা যেতে পারে। পারিবারিক ইতিহাসও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে ক্লান্ত বা মনমরা বোধ করলেই সেটিকে SAD ধরে নেওয়া ঠিক নয়। লক্ষণগুলোর সামগ্রিক ধরণ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

কীভাবে শনাক্ত করা হয়?

SAD শনাক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো একক পরীক্ষা নেই। চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সাধারণত জানতে চান, উপসর্গগুলো কখন শুরু হচ্ছে এবং সেগুলো কোনো নির্দিষ্ট ঋতুর সঙ্গে নিয়মিতভাবে সম্পর্কিত কি না।

এ ছাড়া ঘুম, ক্ষুধা, কর্মশক্তি, পূর্বের রোগের ইতিহাস এবং উপসর্গের কারণে দৈনন্দিন জীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, সেসব বিষয়ও বিবেচনা করা হয়।

কারণ একই ধরনের লক্ষণ অন্য কিছু শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। যেমন থাইরয়েডের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা, ঘুমের ব্যাধি, ওষুধের প্রভাব এবং অন্যান্য ধরনের বিষণ্ণতার ক্ষেত্রেও ক্লান্তি বা মন খারাপ দেখা দিতে পারে।

তাই ঋতু পরিবর্তনের সময় মন-মেজাজে পরিবর্তন দেখা দিলে শুধু আবহাওয়াকে দায়ী না করে লক্ষণটি কতটা দীর্ঘস্থায়ী, কতবার ফিরে আসছে এবং দৈনন্দিন জীবনে কতটা প্রভাব ফেলছে - সেদিকেও নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


ঋতু বদলালেই মন খারাপ, নাকি SAD? পার্থক্য বুঝবেন যেভাবে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যেতে পারে মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস ও অনুভূতিও। দিনের আলো কমে যাওয়া, আবহাওয়ার পরিবর্তন কিংবা বাইরে কম সময় কাটানোর কারণে কারও কারও মধ্যে ক্লান্তি, ঘুমঘুম ভাব বা কাজে অনীহা দেখা দিতে পারে।

তবে একই সময়ে প্রতি বছর যদি বিষণ্ণতার মতো লক্ষণ ফিরে আসে এবং তা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে, তাহলে বিষয়টি শুধু সাময়িক মন খারাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিকে বলা হয় সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার বা SAD।

SAD আসলে কী?

সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার এক ধরনের বিষণ্ণতা, যার লক্ষণ নির্দিষ্ট ঋতুকে কেন্দ্র করে দেখা দেয় বা বেড়ে যায়। সাধারণত শরৎ বা শীতকালে এর লক্ষণ শুরু হয়ে বসন্ত বা গ্রীষ্মে কমে আসে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বসন্ত বা গ্রীষ্মেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শীতকালীন SAD-এর সঙ্গে দিনের আলোর পরিবর্তনের একটি সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। আলো কমে যাওয়ায় শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি, ঘুমের ধরণ এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে SAD হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। জৈবিক, মানসিক ও পরিবেশগত বিভিন্ন বিষয় এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ঋতু পরিবর্তনে মন খারাপ হলেই কি SAD?

না! ঋতু বদলের সময় কিছুটা ক্লান্তি, মনমরা ভাব বা উদ্যম কমে যাওয়া স্বাভাবিকভাবেও ঘটতে পারে। দিনের আলোর পরিবর্তন, দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন, প্রচণ্ড গরম কিংবা বাইরে কম সময় কাটানোর মতো বিষয় ঘুম ও দৈনন্দিন অভ্যাসে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে SAD-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও নির্দিষ্ট। লক্ষণগুলো সাধারণত প্রতি বছর একই ধরনের ঋতুভিত্তিক ধারায় ফিরে আসে এবং কাজ, সম্পর্ক, সামাজিক জীবন কিংবা স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

শীতকালীন SAD-এর লক্ষণ 

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ (NIMH) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শীতকালীন SAD-এর ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে-

  • দীর্ঘ সময় ধরে মনমরা থাকা
  • কোনো কাজে আগ্রহ বা আনন্দ কমে যাওয়া
  • শক্তি কমে যাওয়া ও অস্বাভাবিক ক্লান্তি
  • স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঘুমানো
  • মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা
  • ক্ষুধায় পরিবর্তন
  • বিশেষ করে শর্করাজাতীয় খাবারের প্রতি বেশি আকাঙ্ক্ষা
  • সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া
  • হতাশা, অসহায়ত্ব বা মূল্যহীনতার অনুভূতি
  • বিছানা থেকে ওঠা বা স্বাভাবিক রুটিন ধরে রাখতেও সমস্যা হওয়া

গ্রীষ্মকালেও হতে পারে

সব ক্ষেত্রে শীতকালেই SAD দেখা যায় না। গ্রীষ্মকালীন SAD-এর লক্ষণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-

  • অনিদ্রা
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া
  • অস্থিরতা
  • উদ্বেগ
  • খিটখিটে মেজাজ

দিনের আলোর সঙ্গে সম্পর্ক কোথায়?

শীতকালীন SAD-এর একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দিনের আলো কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। সূর্যালোক শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা দেহঘড়ি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই দেহঘড়িই ঘুম ও জাগরণের সময় নিয়ন্ত্রণ করে।

দিনের আলোর পরিমাণে পরিবর্তন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোন মেলাটোনিন এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে যুক্ত মস্তিষ্কের রাসায়নিক সেরোটোনিনেও প্রভাব পড়তে পারে।

এর ফলে নির্দিষ্ট ঋতুতে কিছু মানুষের ঘুম, কর্মশক্তি ও মেজাজে একই ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে SAD জটিল একটি অবস্থা হওয়ায় শুধু একটি জৈবিক কারণ দিয়ে এর সব দিক ব্যাখ্যা করা যায় না।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

SAD যে কারও হতে পারে। তবে বিষণ্ণতা বা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। যেসব অঞ্চলে ঋতুভেদে দিনের আলোর বড় ধরনের পরিবর্তন হয়, সেখানেও এটি বেশি দেখা যেতে পারে। পারিবারিক ইতিহাসও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে ক্লান্ত বা মনমরা বোধ করলেই সেটিকে SAD ধরে নেওয়া ঠিক নয়। লক্ষণগুলোর সামগ্রিক ধরণ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

কীভাবে শনাক্ত করা হয়?

SAD শনাক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো একক পরীক্ষা নেই। চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সাধারণত জানতে চান, উপসর্গগুলো কখন শুরু হচ্ছে এবং সেগুলো কোনো নির্দিষ্ট ঋতুর সঙ্গে নিয়মিতভাবে সম্পর্কিত কি না।

এ ছাড়া ঘুম, ক্ষুধা, কর্মশক্তি, পূর্বের রোগের ইতিহাস এবং উপসর্গের কারণে দৈনন্দিন জীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, সেসব বিষয়ও বিবেচনা করা হয়।

কারণ একই ধরনের লক্ষণ অন্য কিছু শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। যেমন থাইরয়েডের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা, ঘুমের ব্যাধি, ওষুধের প্রভাব এবং অন্যান্য ধরনের বিষণ্ণতার ক্ষেত্রেও ক্লান্তি বা মন খারাপ দেখা দিতে পারে।

তাই ঋতু পরিবর্তনের সময় মন-মেজাজে পরিবর্তন দেখা দিলে শুধু আবহাওয়াকে দায়ী না করে লক্ষণটি কতটা দীর্ঘস্থায়ী, কতবার ফিরে আসছে এবং দৈনন্দিন জীবনে কতটা প্রভাব ফেলছে - সেদিকেও নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত