সংবাদ

রংপুরে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, কাল থেকে টিকাদান শুরু


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

রংপুরে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, কাল থেকে টিকাদান শুরু
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে হামে আক্রান্ত শিশুরা। ছবি : সংবাদ

রংপুর অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই অঞ্চলে হামের উপসর্গে মোট ১০ শিশুর প্রাণ গেল। এমন পরিস্থিতিতে আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় মাসব্যাপী হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।

রোববার দুপুরে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবী ডন সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আগামীকাল ২০ এপ্রিল থেকে এক মাসব্যাপী এই কার্যক্রম চলবে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের ২৮০টি কেন্দ্রে এই সেবা মিলবে। সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান তাজসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে ২০ জন হামে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০টি শয্যার বিপরীতে ২০ জন শিশুকে ভর্তি রাখায় প্রতিটি শয্যায় ২-৩ জন করে শিশুকে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, শরীরে ফুসকুড়ি (র‍্যাশ) না ওঠা পর্যন্ত শিশুদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া হয় না। সাধারণ ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের পাশে হামের রোগী রাখায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

লালমনিরহাট থেকে আসা এক শিশুর মা আফরোজা বেগম বলেন, ‘আমার বাচ্চার হামের লক্ষণ থাকলেও চিকিৎসকেরা বলেছিল র‍্যাশ না বের হওয়া পর্যন্ত আইসোলেশনে নেওয়া যাবে না। সাধারণ ওয়ার্ডে থাকায় এখন অন্য শিশুদের মধ্যেও ঝুঁকি বাড়ছে।’

আইসোলেশন ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ডিউক চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত শনাক্ত হওয়া ৮৩ জন শিশু ভর্তি হয়েছিল। তাদের মধ্যে বর্তমানে ২০ জন চিকিৎসাধীন। রোগীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


রংপুরে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, কাল থেকে টিকাদান শুরু

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রংপুর অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই অঞ্চলে হামের উপসর্গে মোট ১০ শিশুর প্রাণ গেল। এমন পরিস্থিতিতে আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় মাসব্যাপী হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।

রোববার দুপুরে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবী ডন সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আগামীকাল ২০ এপ্রিল থেকে এক মাসব্যাপী এই কার্যক্রম চলবে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের ২৮০টি কেন্দ্রে এই সেবা মিলবে। সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান তাজসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে ২০ জন হামে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০টি শয্যার বিপরীতে ২০ জন শিশুকে ভর্তি রাখায় প্রতিটি শয্যায় ২-৩ জন করে শিশুকে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, শরীরে ফুসকুড়ি (র‍্যাশ) না ওঠা পর্যন্ত শিশুদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া হয় না। সাধারণ ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের পাশে হামের রোগী রাখায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

লালমনিরহাট থেকে আসা এক শিশুর মা আফরোজা বেগম বলেন, ‘আমার বাচ্চার হামের লক্ষণ থাকলেও চিকিৎসকেরা বলেছিল র‍্যাশ না বের হওয়া পর্যন্ত আইসোলেশনে নেওয়া যাবে না। সাধারণ ওয়ার্ডে থাকায় এখন অন্য শিশুদের মধ্যেও ঝুঁকি বাড়ছে।’

আইসোলেশন ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ডিউক চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত শনাক্ত হওয়া ৮৩ জন শিশু ভর্তি হয়েছিল। তাদের মধ্যে বর্তমানে ২০ জন চিকিৎসাধীন। রোগীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত