সংবাদ

আনারস-কলা চাষে উজাড় মধুপুর শালবন, অস্তিত্ব রক্ষার ডাক


প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

আনারস-কলা চাষে উজাড় মধুপুর শালবন, অস্তিত্ব রক্ষার ডাক
ছবি : সংগৃহীত

দেশের তৃতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন মধুপুর শালবন এখন অস্তিত্ব সংকটে। দখল, বন উজাড় আর আনারস ও কলার বাণিজ্যিক চাষাবাদের কারণে ৪৫ হাজার একরের এই বন সংকুচিত হয়ে এখন ১০ হাজার একরে এসে ঠেকেছে। ঐতিহাসিক ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই শালবন রক্ষার দাবিতে রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি এলাকায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।

‘নতুন প্রজন্মের সচেতন নাগরিক’–এর ব্যানারে শোলাকুড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। হাতে হাত ধরে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা শালবন রক্ষার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মধুপুর শালবন শুধু টাঙ্গাইলের গর্ব নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিধন্য এই বন আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বনের দোখলা রেঞ্জের মাগিচূড়া এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গাছ কেটে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে বনের জমি দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে আনারস ও কলার বাগান। এতে হারিয়ে যাচ্ছে শাল-গজারিসহ বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ এবং বানর, হনুমানসহ বন্য প্রাণী ও পাখপাখালি।

কর্মসূচির সমন্বয়ক সাংবাদিক জোবায়ের আহসান বলেন, ‘বন রক্ষা করা এখন আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। শালবন ধ্বংসের ফলে পরিবেশের যে বিপর্যয় ঘটছে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ মানববন্ধন থেকে বন রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাতুল মুন্সী, শিক্ষক বকুল হোসেন, মোকাদ্দস আলী, সোহেল আরমান ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শামসুল হক। বক্তারা বন রক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহযোগিতা ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন।

এদিকে বন বিভাগ সূত্র জানায়, মধুপুর বনের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে তারা নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শালসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের পাশাপাশি সম্প্রতি বনে ময়ূর ও কচ্ছপ অবমুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বনের শ্রী ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছে বন বিভাগ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


আনারস-কলা চাষে উজাড় মধুপুর শালবন, অস্তিত্ব রক্ষার ডাক

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের তৃতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন মধুপুর শালবন এখন অস্তিত্ব সংকটে। দখল, বন উজাড় আর আনারস ও কলার বাণিজ্যিক চাষাবাদের কারণে ৪৫ হাজার একরের এই বন সংকুচিত হয়ে এখন ১০ হাজার একরে এসে ঠেকেছে। ঐতিহাসিক ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই শালবন রক্ষার দাবিতে রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি এলাকায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।

‘নতুন প্রজন্মের সচেতন নাগরিক’–এর ব্যানারে শোলাকুড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। হাতে হাত ধরে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা শালবন রক্ষার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মধুপুর শালবন শুধু টাঙ্গাইলের গর্ব নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিধন্য এই বন আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বনের দোখলা রেঞ্জের মাগিচূড়া এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গাছ কেটে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে বনের জমি দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে আনারস ও কলার বাগান। এতে হারিয়ে যাচ্ছে শাল-গজারিসহ বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ এবং বানর, হনুমানসহ বন্য প্রাণী ও পাখপাখালি।

কর্মসূচির সমন্বয়ক সাংবাদিক জোবায়ের আহসান বলেন, ‘বন রক্ষা করা এখন আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। শালবন ধ্বংসের ফলে পরিবেশের যে বিপর্যয় ঘটছে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ মানববন্ধন থেকে বন রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাতুল মুন্সী, শিক্ষক বকুল হোসেন, মোকাদ্দস আলী, সোহেল আরমান ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শামসুল হক। বক্তারা বন রক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহযোগিতা ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন।

এদিকে বন বিভাগ সূত্র জানায়, মধুপুর বনের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে তারা নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শালসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের পাশাপাশি সম্প্রতি বনে ময়ূর ও কচ্ছপ অবমুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বনের শ্রী ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছে বন বিভাগ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত