সংবাদ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় আইন সংশোধনের দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের বৈঠক


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় আইন সংশোধনের দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের বৈঠক

​গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইনের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল ও পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।

রবিবার (১৭ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন সম্পাদকরা।

​বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণমাধ্যম বিষয়ক প্রচলিত আইনগুলোর অনেকগুলোই বেশ পুরনো এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী। এগুলো বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে পত্রিকা প্রকাশের ঘোষণাপত্রের ‘বি’ ফর্মে প্রকাশকদের একটি অঙ্গীকারনামা দিতে হয়, যেখানে লেখা থাকে, “আমি, এই মর্মে আরও ঘোষণা করিতেছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বার্থের পরিপন্থী বা কোনো আপত্তিকর বিষয়ে আমার উক্ত পত্রিকায় প্রকাশ বিরতি থাকিব এবং ১৯৭৩ সনের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ডিক্লারেশন ও রেজিস্ট্রেশন) আইনের সমূদয় নিয়মাবলী মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিব।”

সম্পাদক পরিষদ দাবি করে, এই ধারাটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে অগণতান্ত্রিক বিধি রয়ে গেছে। তাই এই ধারাটি বাতিলের দাবি জানান তারা।

​দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণমাধ্যম সংস্কারের জন্য একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন অথবা প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার বিষয়টি সম্পাদকদের পক্ষ থেকে বৈঠকে উত্থাপন করা হয়।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তথ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, "আগামী জুন মাসের মধ্যে এই সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জুলাই মাসের মধ্যেই সরকারের কাছে একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপে পরিণত করতে হবে।" সেই অনুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণেরও নির্দেশ দেন তিনি।

​বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্ব-নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদক পরিষদ প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে জানায়, ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য একটি ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি প্রণয়ন ও গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

​আলোচনায় সম্পাদক পরিষদের কয়েকজন সদস্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। পরিষদ মনে করে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন; কিন্তু হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তারা বলেন, "কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে হবে।"

​এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্পাদক পরিষদকে আশ্বস্ত করে বলেন, "আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই বিষয়ে আলাপ করব।" তিনি আরও বলেন, "সরকার গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক নয়; বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করতে চায়।" একটি শক্তিশালী গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের অপরিহার্য অংশ উল্লেখ করে তার সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে তিনি বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

​গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইলিয়াছ খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

​সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, কোষাধ্যক্ষ ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক এবং সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ বিপ্লব এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬


গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় আইন সংশোধনের দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের বৈঠক

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

​গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইনের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল ও পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।

রবিবার (১৭ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন সম্পাদকরা।

​বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণমাধ্যম বিষয়ক প্রচলিত আইনগুলোর অনেকগুলোই বেশ পুরনো এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী। এগুলো বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে পত্রিকা প্রকাশের ঘোষণাপত্রের ‘বি’ ফর্মে প্রকাশকদের একটি অঙ্গীকারনামা দিতে হয়, যেখানে লেখা থাকে, “আমি, এই মর্মে আরও ঘোষণা করিতেছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বার্থের পরিপন্থী বা কোনো আপত্তিকর বিষয়ে আমার উক্ত পত্রিকায় প্রকাশ বিরতি থাকিব এবং ১৯৭৩ সনের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ডিক্লারেশন ও রেজিস্ট্রেশন) আইনের সমূদয় নিয়মাবলী মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিব।”

সম্পাদক পরিষদ দাবি করে, এই ধারাটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে অগণতান্ত্রিক বিধি রয়ে গেছে। তাই এই ধারাটি বাতিলের দাবি জানান তারা।

​দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণমাধ্যম সংস্কারের জন্য একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন অথবা প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার বিষয়টি সম্পাদকদের পক্ষ থেকে বৈঠকে উত্থাপন করা হয়।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তথ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, "আগামী জুন মাসের মধ্যে এই সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জুলাই মাসের মধ্যেই সরকারের কাছে একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপে পরিণত করতে হবে।" সেই অনুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণেরও নির্দেশ দেন তিনি।

​বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্ব-নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদক পরিষদ প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে জানায়, ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য একটি ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি প্রণয়ন ও গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

​আলোচনায় সম্পাদক পরিষদের কয়েকজন সদস্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। পরিষদ মনে করে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন; কিন্তু হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তারা বলেন, "কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে হবে।"

​এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্পাদক পরিষদকে আশ্বস্ত করে বলেন, "আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই বিষয়ে আলাপ করব।" তিনি আরও বলেন, "সরকার গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক নয়; বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করতে চায়।" একটি শক্তিশালী গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের অপরিহার্য অংশ উল্লেখ করে তার সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে তিনি বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

​গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইলিয়াছ খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

​সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, কোষাধ্যক্ষ ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক এবং সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ বিপ্লব এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত