বিগত সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতের চরম উদাসীনতার চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, “প্রত্যেক বছর দুইবার ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনিং করার কথা। গত বছরের প্রথমার্ধে একটা ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনিং হয়েছিল। তারপরে কোনো ক্যাম্পেইনিং হয় নাই এবং ভিটামিন এ নাই। সামান্য কিছু ভিটামিন এ আমাদের কাছে আছে, যেটা আমরা কিছু কিছু করে ভাগ করে দিচ্ছি...ভিটামিন-এ একেবারে অপ্রতুল।”
রবিবার
দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী
হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)
আয়োজিত হাম ও ডেঙ্গু
নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা সপ্তাহ উদ্বোধন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে
তিনি এসব কথা বলেন।
সারাদেশে
হামের প্রকোপ ও শিশু মৃত্যুর
তথ্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,
“আমরা যে টাকা দিয়েছি
জুন মাসের ১০ তারিখের মধ্যে,
ইউনিসেফ সেটা আমাদেরকে দেওয়ার
কথা। চারদিন আগেও আমি কথা
বলেছি, অনুরোধ করেছি যত দ্রুত মিজেলস
ভ্যাকসিন দিতে। আগামী পাঁচ-সাত দিনের
ভেতরে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ,
এক কোটির বেশি ভিটামিন এ
পেতে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ আমরা পুরোদমে ভিটামিন
বাচ্চাদের ভিতরে দেওয়া শুরু করে দেব।”
দেশের
হাসপাতালগুলো পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি
এই হামকে সামনে নিয়ে অনেকগুলি হাসপাতাল
ঘুরেছি, মিজেলস আক্রান্ত বাচ্চাদের দেখতে গিয়েছি।”
শিশুদের
পুষ্টিহীনতা ও রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা কমে যাওয়া নিয়ে
উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন,
“ছয় মাস থেকে নয়
মাস পর্যন্ত মায়ের ব্রেস্ট ফিডিং এ যেটা পায়
ওইটা দিয়ে ‘ইমিউনিটি’ চলে। তাহলে এখন
ছয় মাস থেকে নয়
মাসের এত বাচ্চা, ‘ম্যাক্সিমাম’
বাচ্চা কেন হাম হচ্ছে?
যেটা আমি আলাপ এবং
অভিজ্ঞতা থেকে পাচ্ছি, ‘নিউট্রিশনের’
অভাব। পুষ্টির অভাব এই হাম
থেকে ম্যাক্সিমাম রোগী নিউমিনিয়াতে চলে
যাচ্ছে।”
মায়েদের
পুষ্টি ও মাতৃদুগ্ধ পানের
বিষয়ে চিকিৎসকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রথম
বেবি জন্ম নেওয়ার পর
যদি সে মায়ের কাছ
থেকে পুষ্টি না পায় এইসব
রোগ মিউটেশন হবে, আরেক নামে
আসবে। আবার কি হান্টা
আসবে, কত কিছু আসবে
শুনতেছি একটা না একটা
আমাদেরকে জর্জরিত করে ফেলবে, আমরা
যদি এখন থেকে সজাগ
দৃষ্টি না রাখি।”
টিকা
উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের ওপর জোর দিয়ে
সরদার সাখাওয়াত বলেন, “পরনির্ভরশীল ভ্যাকসিন, আজকে যদি বিদেশিরা
না দেয়, একটা ভ্যাকসিন
আমরা দিতে পারব না।
ইনশাআল্লাহ আমরা কাজ এগিয়ে
নিয়ে যাচ্ছি মুন্সিগঞ্জে আমাদের ভ্যাকসিন ইউনিটটা করার জন্য। সকল
ভ্যাকসিন আমরা প্রডিউস করব
আশা করি, ইনশাআল্লাহ খুব
তাড়াতাড়ি কয়েক বছরের মধ্যে।
কিন্তু ওই সময় পর্যন্ত
আমাদেরকে অন্যের উপর নির্ভর করতে
হবে।”
ড্যাবের
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. মো. আবুল
কেনানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন
সংসদ সদস্য ডা. আবদুস সালাম
ও ড্যাবের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
বিগত সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতের চরম উদাসীনতার চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, “প্রত্যেক বছর দুইবার ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনিং করার কথা। গত বছরের প্রথমার্ধে একটা ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনিং হয়েছিল। তারপরে কোনো ক্যাম্পেইনিং হয় নাই এবং ভিটামিন এ নাই। সামান্য কিছু ভিটামিন এ আমাদের কাছে আছে, যেটা আমরা কিছু কিছু করে ভাগ করে দিচ্ছি...ভিটামিন-এ একেবারে অপ্রতুল।”
রবিবার
দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী
হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)
আয়োজিত হাম ও ডেঙ্গু
নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা সপ্তাহ উদ্বোধন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে
তিনি এসব কথা বলেন।
সারাদেশে
হামের প্রকোপ ও শিশু মৃত্যুর
তথ্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,
“আমরা যে টাকা দিয়েছি
জুন মাসের ১০ তারিখের মধ্যে,
ইউনিসেফ সেটা আমাদেরকে দেওয়ার
কথা। চারদিন আগেও আমি কথা
বলেছি, অনুরোধ করেছি যত দ্রুত মিজেলস
ভ্যাকসিন দিতে। আগামী পাঁচ-সাত দিনের
ভেতরে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ,
এক কোটির বেশি ভিটামিন এ
পেতে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ আমরা পুরোদমে ভিটামিন
বাচ্চাদের ভিতরে দেওয়া শুরু করে দেব।”
দেশের
হাসপাতালগুলো পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি
এই হামকে সামনে নিয়ে অনেকগুলি হাসপাতাল
ঘুরেছি, মিজেলস আক্রান্ত বাচ্চাদের দেখতে গিয়েছি।”
শিশুদের
পুষ্টিহীনতা ও রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা কমে যাওয়া নিয়ে
উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন,
“ছয় মাস থেকে নয়
মাস পর্যন্ত মায়ের ব্রেস্ট ফিডিং এ যেটা পায়
ওইটা দিয়ে ‘ইমিউনিটি’ চলে। তাহলে এখন
ছয় মাস থেকে নয়
মাসের এত বাচ্চা, ‘ম্যাক্সিমাম’
বাচ্চা কেন হাম হচ্ছে?
যেটা আমি আলাপ এবং
অভিজ্ঞতা থেকে পাচ্ছি, ‘নিউট্রিশনের’
অভাব। পুষ্টির অভাব এই হাম
থেকে ম্যাক্সিমাম রোগী নিউমিনিয়াতে চলে
যাচ্ছে।”
মায়েদের
পুষ্টি ও মাতৃদুগ্ধ পানের
বিষয়ে চিকিৎসকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রথম
বেবি জন্ম নেওয়ার পর
যদি সে মায়ের কাছ
থেকে পুষ্টি না পায় এইসব
রোগ মিউটেশন হবে, আরেক নামে
আসবে। আবার কি হান্টা
আসবে, কত কিছু আসবে
শুনতেছি একটা না একটা
আমাদেরকে জর্জরিত করে ফেলবে, আমরা
যদি এখন থেকে সজাগ
দৃষ্টি না রাখি।”
টিকা
উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের ওপর জোর দিয়ে
সরদার সাখাওয়াত বলেন, “পরনির্ভরশীল ভ্যাকসিন, আজকে যদি বিদেশিরা
না দেয়, একটা ভ্যাকসিন
আমরা দিতে পারব না।
ইনশাআল্লাহ আমরা কাজ এগিয়ে
নিয়ে যাচ্ছি মুন্সিগঞ্জে আমাদের ভ্যাকসিন ইউনিটটা করার জন্য। সকল
ভ্যাকসিন আমরা প্রডিউস করব
আশা করি, ইনশাআল্লাহ খুব
তাড়াতাড়ি কয়েক বছরের মধ্যে।
কিন্তু ওই সময় পর্যন্ত
আমাদেরকে অন্যের উপর নির্ভর করতে
হবে।”
ড্যাবের
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. মো. আবুল
কেনানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন
সংসদ সদস্য ডা. আবদুস সালাম
ও ড্যাবের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল।

আপনার মতামত লিখুন