সংবাদ

নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট

দেশের নাগরিকদের জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা  নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

সোমবার (১৮ মে) জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।

রুলে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে জীবনাধিকার রক্ষায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কেন এক মাসের মধ্যে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে কেন আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে সেটিও জানতে চেয়েছে আদালত।

এ কে এম মাকসুদ, আমিনুল ইসলাম, আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম ও সীমা দাস সিমুর পক্ষে হাইকোর্টে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী নিশাত মাহমুদ।

রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১৫, ১৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হলেও বাস্তবে তা কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক আর্থিক দুর্ভোগ ছাড়াই প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।

সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩২ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও এর বাস্তব অগ্রগতি অত্যন্ত সীমিত।

আবেদনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, দেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশই জনগণকে নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিবছর লাখো পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। ক্যানসার, কিডনি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ কেবল চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পারার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ মোট বাজেট ও জিডিপির তুলনায় অত্যন্ত কম এবং বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়। এছাড়া দেশে চিকিৎসকের বিপরীতে জনসংখ্যার অনুপাত ১:২০০০ এবং নার্স-জনসংখ্যার অনুপাত ১:৫০০০, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থার গুরুতর সংকটের চিত্র তুলে ধরে।

কার্যকরভাবে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন করা গেলে রোগব্যাধির প্রকোপ কমবে, জনগণের আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে এবং সংবিধানপ্রদত্ত জীবনাধিকার বাস্তব অর্থে নিশ্চিত হবে বলে রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬


নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

দেশের নাগরিকদের জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা  নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

সোমবার (১৮ মে) জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।

রুলে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে জীবনাধিকার রক্ষায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কেন এক মাসের মধ্যে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে কেন আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে সেটিও জানতে চেয়েছে আদালত।

এ কে এম মাকসুদ, আমিনুল ইসলাম, আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম ও সীমা দাস সিমুর পক্ষে হাইকোর্টে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী নিশাত মাহমুদ।

রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১৫, ১৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হলেও বাস্তবে তা কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক আর্থিক দুর্ভোগ ছাড়াই প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।

সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩২ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও এর বাস্তব অগ্রগতি অত্যন্ত সীমিত।

আবেদনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, দেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশই জনগণকে নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিবছর লাখো পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। ক্যানসার, কিডনি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ কেবল চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পারার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ মোট বাজেট ও জিডিপির তুলনায় অত্যন্ত কম এবং বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়। এছাড়া দেশে চিকিৎসকের বিপরীতে জনসংখ্যার অনুপাত ১:২০০০ এবং নার্স-জনসংখ্যার অনুপাত ১:৫০০০, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থার গুরুতর সংকটের চিত্র তুলে ধরে।

কার্যকরভাবে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন করা গেলে রোগব্যাধির প্রকোপ কমবে, জনগণের আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে এবং সংবিধানপ্রদত্ত জীবনাধিকার বাস্তব অর্থে নিশ্চিত হবে বলে রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত