সংবাদ

গ্রামীণ ব্যাংকের সুদহার বাণিজ্যিক ব্যাংকের সমান করতে হাইকোর্টের রুল, বিবাদী ইউনূস


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম

গ্রামীণ ব্যাংকের সুদহার বাণিজ্যিক ব্যাংকের সমান করতে হাইকোর্টের রুল, বিবাদী ইউনূস

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কেন দেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। 

একইসঙ্গে, এই রিট আবেদনে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বর্তমান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিবাদী করে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, কর ফাঁকি ও বেআইনি কার্যকলাপের একাধিক গুরুতর অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল জারি করে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের  আইনজীবী  মাসুদ আর. সোবহান ও ফাতেমা চৌধুরী।

রুলে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক ভূমিহীন ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রবর্তিত মাইক্রোক্রেডিট কর্মসূচির আওতায় যে সুদের হার আরোপ করে, তা নির্ধারিত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের সুদের হারের তুলনায় অত্যন্ত বেশি ও শোষণমূলক। এই সুদের হার কমানোর জন্য এবং বিষয়টি তদারকির লক্ষ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে মোট চারজনকে বিবাদী করা হয়েছে। তারা হলেন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বর্তমান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রিট আবেদনে মূল সুদের হারের ইস্যুর পাশাপাশি  মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বেশ কিছু 'বেআইনি কার্যকলাপের' তথ্য তুলে ধরেছেন আবেদনকারী। নথিতে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:

পদের মেয়াদ লঙ্ঘন: অধ্যাদেশ অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মেয়াদ ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও, তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানকে কারসাজির মাধ্যমে প্রভাবিত করে ড. ইউনূস বেআইনিভাবে পদে বহাল ছিলেন। পরবর্তীতে ৬৫ বছর এবং এমনকি ৭৫ বছর বয়সেও তিনি পদ আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিলেন। সরকার তাকে পদচ্যুত করলে তিনি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ে হেরে যান। এরপর থেকে তিনি 'পরামর্শক' হিসেবে পেছন থেকে ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

কর ফাঁকির চেষ্টা ও ক্ষমতার অপব্যবহার: পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের বিপুল মুনাফা দিয়ে ড. ইউনূস নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নিয়ে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেন এবং শুরুতে এই ফান্ডের অর্থের ওপর আয়কর দিতে অস্বীকৃতি জানান। যদিও শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ তা আদায় করে ছাড়ে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত ৬৭৭ কোটি টাকা (৫৫ মিলিয়ন ডলার) আয়কর হঠাৎ করে এনবিআর সম্পূর্ণ মওকুফ করে দেয়, যার কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না। পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, এটি ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন আর্থিক লাভের জন্য ক্ষমতার স্পষ্ট অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত।

শ্রমিক বঞ্চনা: গ্রামীণ ব্যাংকের বিপুল সংখ্যক কর্মচারীকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে রিটে। শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রম আদালতে মামলা করে জয়লাভ করে এবং পরবর্তীতে ব্যাংক তাদের পাওনা মেটাতে বাধ্য হয়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও হয়রানির দাবি খণ্ডন: রিটকারী তার আবেদনে বিগত সরকারের প্রসঙ্গ টেনে উল্লেখ করেছেন, উচ্চ সুদের কারণে ঋণগ্রহীতারা নিঃস্ব হওয়ায় শেখ হাসিনা ড. ইউনূসকে 'রক্তচোষা' বলতেন। পিটিশনে দাবি করা হয়, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না, বরং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাকে ফৌজদারি আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জামিনে থাকা অবস্থায় দেশত্যাগ করে প্যারিসে যাওয়া এবং ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে ফিরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টিও আদালতের নজরে এনেছেন আবেদনকারী।

পরবর্তী আদেশের জন্য বিষয়টি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬


গ্রামীণ ব্যাংকের সুদহার বাণিজ্যিক ব্যাংকের সমান করতে হাইকোর্টের রুল, বিবাদী ইউনূস

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কেন দেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। 

একইসঙ্গে, এই রিট আবেদনে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বর্তমান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিবাদী করে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, কর ফাঁকি ও বেআইনি কার্যকলাপের একাধিক গুরুতর অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল জারি করে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের  আইনজীবী  মাসুদ আর. সোবহান ও ফাতেমা চৌধুরী।

রুলে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক ভূমিহীন ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রবর্তিত মাইক্রোক্রেডিট কর্মসূচির আওতায় যে সুদের হার আরোপ করে, তা নির্ধারিত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের সুদের হারের তুলনায় অত্যন্ত বেশি ও শোষণমূলক। এই সুদের হার কমানোর জন্য এবং বিষয়টি তদারকির লক্ষ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে মোট চারজনকে বিবাদী করা হয়েছে। তারা হলেন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বর্তমান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রিট আবেদনে মূল সুদের হারের ইস্যুর পাশাপাশি  মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বেশ কিছু 'বেআইনি কার্যকলাপের' তথ্য তুলে ধরেছেন আবেদনকারী। নথিতে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:

পদের মেয়াদ লঙ্ঘন: অধ্যাদেশ অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মেয়াদ ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও, তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানকে কারসাজির মাধ্যমে প্রভাবিত করে ড. ইউনূস বেআইনিভাবে পদে বহাল ছিলেন। পরবর্তীতে ৬৫ বছর এবং এমনকি ৭৫ বছর বয়সেও তিনি পদ আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিলেন। সরকার তাকে পদচ্যুত করলে তিনি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ে হেরে যান। এরপর থেকে তিনি 'পরামর্শক' হিসেবে পেছন থেকে ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

কর ফাঁকির চেষ্টা ও ক্ষমতার অপব্যবহার: পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের বিপুল মুনাফা দিয়ে ড. ইউনূস নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নিয়ে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেন এবং শুরুতে এই ফান্ডের অর্থের ওপর আয়কর দিতে অস্বীকৃতি জানান। যদিও শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ তা আদায় করে ছাড়ে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত ৬৭৭ কোটি টাকা (৫৫ মিলিয়ন ডলার) আয়কর হঠাৎ করে এনবিআর সম্পূর্ণ মওকুফ করে দেয়, যার কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না। পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, এটি ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন আর্থিক লাভের জন্য ক্ষমতার স্পষ্ট অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত।

শ্রমিক বঞ্চনা: গ্রামীণ ব্যাংকের বিপুল সংখ্যক কর্মচারীকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে রিটে। শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রম আদালতে মামলা করে জয়লাভ করে এবং পরবর্তীতে ব্যাংক তাদের পাওনা মেটাতে বাধ্য হয়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও হয়রানির দাবি খণ্ডন: রিটকারী তার আবেদনে বিগত সরকারের প্রসঙ্গ টেনে উল্লেখ করেছেন, উচ্চ সুদের কারণে ঋণগ্রহীতারা নিঃস্ব হওয়ায় শেখ হাসিনা ড. ইউনূসকে 'রক্তচোষা' বলতেন। পিটিশনে দাবি করা হয়, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না, বরং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাকে ফৌজদারি আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জামিনে থাকা অবস্থায় দেশত্যাগ করে প্যারিসে যাওয়া এবং ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে ফিরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টিও আদালতের নজরে এনেছেন আবেদনকারী।

পরবর্তী আদেশের জন্য বিষয়টি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত