সংবাদ

শেয়ার কেলেঙ্কারি: সাকিবসহ ১৫ জনের সব নথি জব্দ করল দুদক


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম

শেয়ার কেলেঙ্কারি: সাকিবসহ ১৫ জনের সব নথি জব্দ করল দুদক

  • ২৫৭ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি
  • নড়েচড়ে বসেছে বিএসইসি

দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের কারসাজির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলার তদন্তে এবার বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। আলোচিত এই শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনায় তারকা ক্রিকেটার সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ আসামির যাবতীয় নথিপত্র জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে সংক্রান্ত সব তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার দুদকের উপ-পরিচালক জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘ওই মামলার তদন্ত চলছে। পুঁজিবাজারে আলোচিত কারসাজির ঘটনায় সম্প্রতি বিএসইসি থেকে সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।

দুদকের মামলার নথি থেকে জানা যায়, সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মো. আবুল খায়ের হিরুর বিরুদ্ধে পুঁজিবাজারের আইন লঙ্ঘন করে অস্বাভাবিক বিনিয়োগের অভিযোগ ওঠে। এর প্রেক্ষিতে বিএসইসি পর্যন্ত যতগুলো তদন্ত এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন তৈরি করেছে, সেগুলোর সত্যায়িত অনুলিপি চেয়ে গত বছরের ১৪ মে বিএসইসির চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন মামলার বাদী তদন্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন।

ওই চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছিল, আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে সরকারি বিধিবিধান এবং শেয়ারবাজার আইন লঙ্ঘন করে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। আর এই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থেই বিএসইসির করা সমস্ত তদন্ত বা এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনের সত্যায়িত ছায়ালিপি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে গত বছরের ১৭ জুন পুঁজিবাজারে কারসাজির মাধ্যমে অর্থ লোপাটের অভিযোগে সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্রুত আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রচলিত আইন বিধি মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছেন। তারা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবে অসাধু, অনৈতিক অবৈধ উপায়ে সিরিজ ট্রানজেকশন, প্রতারণাপূর্ণ অ্যাকটিভ ট্রেডিং, গ্যাম্বলিং স্পেকুলেশনের মাধ্যমেমার্কেট ম্যানিপুলেশনবা বাজার কারসাজি করেন। নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ার সংঘবদ্ধভাবে ক্রমাগত কেনাবেচা করে কৃত্রিমভাবে সেগুলোর দাম বাড়িয়ে দেওয়া হতো। এরপর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সেই শেয়ারে বিনিয়োগ করতে প্রতারণার মাধ্যমে প্রলুব্ধ করা হতো। এই ফাঁদে পা দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত হন এবং আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করে বাজার থেকে তুলে নেয়।

দুদকের তদন্ত দল জানিয়েছে, অস্বাভাবিক রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে অর্জিত এই বিপুল অর্থ পুঁজিবাজার থেকে সংঘবদ্ধ চক্রটি কৌশলে তুলে নেয়। মামলার প্রধান আসামি আবুল খায়ের হিরু তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই অপরাধলব্ধ অর্থের মধ্যে ২৯ কোটি Safয়া লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকার প্রকৃত উৎস গোপন করার চেষ্টা করেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন খাতে অর্থ স্থানান্তর বালেয়ারিংকরেন।

অনুসন্ধানকালে হিরুর ১৭টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক, অযৌক্তিক সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পায় দুদক। এই অপরাধের কারণে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ১২০বি ১০৯ ধারা সহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

দুদকের মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাগুরা- আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, আবুল খায়ের হিরুর মাধ্যমে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এবং সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেন সাকিব। হিরুর কারসাজি এসব শেয়ারে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাকিব সরাসরি মার্কেট ম্যানিপুলেশনে যোগসাজশ করেন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলতে ভূমিকা রাখেন। এভাবে সাকিব রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে পুঁজিবাজার থেকে কোটি ৯৫ লাখ হাজার ৯১৫ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

বিগত ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিব আল হাসান একসময় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং খোদ দুদকেরই ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন। ২০১৮ সালে দুদকের দুর্নীতিবিরোধী হটলাইন ১০৬-এর প্রচারণায় যুক্ত হলেও নানা বিতর্কের জেরে ২০২২ সালে তার চুক্তি আর নবায়ন করেনি দুদক। এরপর শেয়ার কারসাজির দায়ে বিএসইসি তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানাও করে। পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তিনি দেশের বাইরে চলে যান এবং এরপর আর ফেরেননি। তার ব্যাংক হিসাব জব্দসহ দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এই মামলায় সাকিব হিরু ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন: কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ মতিন, মো. জাহেদ কামাল, মো. হুমায়ুন কবির তানভির নিজাম। বিএসইসি থেকে জব্দকৃত এসব নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের প্রক্রিয়া আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬


শেয়ার কেলেঙ্কারি: সাকিবসহ ১৫ জনের সব নথি জব্দ করল দুদক

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

  • ২৫৭ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি
  • নড়েচড়ে বসেছে বিএসইসি

দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের কারসাজির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলার তদন্তে এবার বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। আলোচিত এই শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনায় তারকা ক্রিকেটার সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ আসামির যাবতীয় নথিপত্র জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে সংক্রান্ত সব তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার দুদকের উপ-পরিচালক জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘ওই মামলার তদন্ত চলছে। পুঁজিবাজারে আলোচিত কারসাজির ঘটনায় সম্প্রতি বিএসইসি থেকে সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।

দুদকের মামলার নথি থেকে জানা যায়, সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মো. আবুল খায়ের হিরুর বিরুদ্ধে পুঁজিবাজারের আইন লঙ্ঘন করে অস্বাভাবিক বিনিয়োগের অভিযোগ ওঠে। এর প্রেক্ষিতে বিএসইসি পর্যন্ত যতগুলো তদন্ত এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন তৈরি করেছে, সেগুলোর সত্যায়িত অনুলিপি চেয়ে গত বছরের ১৪ মে বিএসইসির চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন মামলার বাদী তদন্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন।

ওই চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছিল, আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে সরকারি বিধিবিধান এবং শেয়ারবাজার আইন লঙ্ঘন করে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। আর এই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থেই বিএসইসির করা সমস্ত তদন্ত বা এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনের সত্যায়িত ছায়ালিপি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে গত বছরের ১৭ জুন পুঁজিবাজারে কারসাজির মাধ্যমে অর্থ লোপাটের অভিযোগে সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্রুত আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রচলিত আইন বিধি মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছেন। তারা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবে অসাধু, অনৈতিক অবৈধ উপায়ে সিরিজ ট্রানজেকশন, প্রতারণাপূর্ণ অ্যাকটিভ ট্রেডিং, গ্যাম্বলিং স্পেকুলেশনের মাধ্যমেমার্কেট ম্যানিপুলেশনবা বাজার কারসাজি করেন। নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ার সংঘবদ্ধভাবে ক্রমাগত কেনাবেচা করে কৃত্রিমভাবে সেগুলোর দাম বাড়িয়ে দেওয়া হতো। এরপর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সেই শেয়ারে বিনিয়োগ করতে প্রতারণার মাধ্যমে প্রলুব্ধ করা হতো। এই ফাঁদে পা দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত হন এবং আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করে বাজার থেকে তুলে নেয়।

দুদকের তদন্ত দল জানিয়েছে, অস্বাভাবিক রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে অর্জিত এই বিপুল অর্থ পুঁজিবাজার থেকে সংঘবদ্ধ চক্রটি কৌশলে তুলে নেয়। মামলার প্রধান আসামি আবুল খায়ের হিরু তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই অপরাধলব্ধ অর্থের মধ্যে ২৯ কোটি Safয়া লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকার প্রকৃত উৎস গোপন করার চেষ্টা করেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন খাতে অর্থ স্থানান্তর বালেয়ারিংকরেন।

অনুসন্ধানকালে হিরুর ১৭টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক, অযৌক্তিক সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পায় দুদক। এই অপরাধের কারণে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ১২০বি ১০৯ ধারা সহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

দুদকের মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাগুরা- আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, আবুল খায়ের হিরুর মাধ্যমে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এবং সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেন সাকিব। হিরুর কারসাজি এসব শেয়ারে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাকিব সরাসরি মার্কেট ম্যানিপুলেশনে যোগসাজশ করেন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলতে ভূমিকা রাখেন। এভাবে সাকিব রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে পুঁজিবাজার থেকে কোটি ৯৫ লাখ হাজার ৯১৫ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

বিগত ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিব আল হাসান একসময় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং খোদ দুদকেরই ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন। ২০১৮ সালে দুদকের দুর্নীতিবিরোধী হটলাইন ১০৬-এর প্রচারণায় যুক্ত হলেও নানা বিতর্কের জেরে ২০২২ সালে তার চুক্তি আর নবায়ন করেনি দুদক। এরপর শেয়ার কারসাজির দায়ে বিএসইসি তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানাও করে। পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তিনি দেশের বাইরে চলে যান এবং এরপর আর ফেরেননি। তার ব্যাংক হিসাব জব্দসহ দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এই মামলায় সাকিব হিরু ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন: কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ মতিন, মো. জাহেদ কামাল, মো. হুমায়ুন কবির তানভির নিজাম। বিএসইসি থেকে জব্দকৃত এসব নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের প্রক্রিয়া আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত