মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম আলোচিত কর্মকর্তা এবং পরবর্তী সময়ে সরকার দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দুদকের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৩ মার্চ রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন মামলায় দফায় দফায় রিমান্ড শেষে গত ৭ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ফেনীতে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবং বনানী থানার মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায়ও তাকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এর মধ্যেই গত ২৫ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ এই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। সোমবার শুনানির নির্ধারিত দিনে তাকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হলে দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি গ্রেপ্তারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে শুনানি করেন।
শুনানি শেষে আদালত দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, “মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও অন্যান্যরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন।
তারা সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি অর্থ নেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে সরকার দলীয় এমপির প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেন। তারা চুক্তিবদ্ধ আইনসঙ্গত পারিশ্রমিক ব্যতীত এবং চুক্তি বহির্ভূত কাজ করে পাবলিক সার্ভেন্ট হিসাবে অবৈধ পারিতোষিক গ্রহণ করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় পাঠানো ৭ হাজার ১২৪ জন কর্মীর কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা নিয়ে মোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে।
এই অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় গত ১১ মার্চ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদক মামলাটি দায়ের করে। দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন, তাই তদন্তের স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো অত্যন্ত জরুরি ছিল।

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম আলোচিত কর্মকর্তা এবং পরবর্তী সময়ে সরকার দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দুদকের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৩ মার্চ রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন মামলায় দফায় দফায় রিমান্ড শেষে গত ৭ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ফেনীতে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবং বনানী থানার মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায়ও তাকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এর মধ্যেই গত ২৫ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ এই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। সোমবার শুনানির নির্ধারিত দিনে তাকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হলে দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি গ্রেপ্তারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে শুনানি করেন।
শুনানি শেষে আদালত দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, “মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও অন্যান্যরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন।
তারা সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি অর্থ নেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে সরকার দলীয় এমপির প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেন। তারা চুক্তিবদ্ধ আইনসঙ্গত পারিশ্রমিক ব্যতীত এবং চুক্তি বহির্ভূত কাজ করে পাবলিক সার্ভেন্ট হিসাবে অবৈধ পারিতোষিক গ্রহণ করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় পাঠানো ৭ হাজার ১২৪ জন কর্মীর কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা নিয়ে মোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে।
এই অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় গত ১১ মার্চ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদক মামলাটি দায়ের করে। দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন, তাই তদন্তের স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো অত্যন্ত জরুরি ছিল।

আপনার মতামত লিখুন