সংবাদ

খাদ্যের অভাবে মারা যাওয়া হাতির পাশে শোকাতুর সঙ্গীদের গর্জন


সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

খাদ্যের অভাবে মারা যাওয়া হাতির পাশে শোকাতুর সঙ্গীদের গর্জন
ছবি : ভিডিও থেকে সংগৃহীত

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের রামু সীমান্তবর্তী এলাকায় খাবারের অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া একটি মা হাতির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৭ মে) সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের কাগজীখোলা এলাকায় হাতিটি মারা যায়। বন বিভাগের দাবি, বার্ধক্য ও দীর্ঘদিনের অনাহারে অসুস্থ থাকায় হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ির কাগজীখোলা এলাকার একটি চাষের জমিতে মুমূর্ষু অবস্থায় মা হাতিটিকে বসে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সে সময় হাতিটির পাশে তিন বছর বয়সী একটি শাবককেও ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। দীর্ঘ অনাহারে শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ায় হাতিটি উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল। মানুষের উপস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে শাবকটি চিৎকার শুরু করে এবং একপর্যায়ে বনের দিকে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে কক্সবাজারের উত্তর বন বিভাগের ঈদগাঁও রেঞ্জের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিটির চিকিৎসা শুরু করে। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রোববার সকালে হাতিটি মারা যায়।

স্থানীয়রা জানান, মা হাতিটির মৃত্যুর পর পাহাড় থেকে ১০-১২টি হাতির একটি পাল নিচে নেমে আসে। মৃত সঙ্গীর পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করে এবং সম্মিলিতভাবে গর্জন করে শোক প্রকাশ করে পালের অন্য হাতিগুলো। এরপর তারা পুনরায় পাহাড়ে ফিরে যায়।

বন বিভাগের ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত সেখানে গিয়ে হাতিটিকে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিই। তবে হাতিটির বয়স অনেক বেশি ছিল এবং দীর্ঘকাল অনাহারে থাকায় এর শরীর মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

বন বিভাগ আরও জানায়, হাতিটি কোনো গুলিতে নয় বরং বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও খাদ্যসংকটের কারণেই মারা গেছে। গত সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে হাতিটির মরদেহ ওই এলাকাতেই মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


খাদ্যের অভাবে মারা যাওয়া হাতির পাশে শোকাতুর সঙ্গীদের গর্জন

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের রামু সীমান্তবর্তী এলাকায় খাবারের অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া একটি মা হাতির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৭ মে) সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের কাগজীখোলা এলাকায় হাতিটি মারা যায়। বন বিভাগের দাবি, বার্ধক্য ও দীর্ঘদিনের অনাহারে অসুস্থ থাকায় হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ির কাগজীখোলা এলাকার একটি চাষের জমিতে মুমূর্ষু অবস্থায় মা হাতিটিকে বসে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সে সময় হাতিটির পাশে তিন বছর বয়সী একটি শাবককেও ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। দীর্ঘ অনাহারে শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ায় হাতিটি উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল। মানুষের উপস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে শাবকটি চিৎকার শুরু করে এবং একপর্যায়ে বনের দিকে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে কক্সবাজারের উত্তর বন বিভাগের ঈদগাঁও রেঞ্জের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিটির চিকিৎসা শুরু করে। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রোববার সকালে হাতিটি মারা যায়।

স্থানীয়রা জানান, মা হাতিটির মৃত্যুর পর পাহাড় থেকে ১০-১২টি হাতির একটি পাল নিচে নেমে আসে। মৃত সঙ্গীর পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করে এবং সম্মিলিতভাবে গর্জন করে শোক প্রকাশ করে পালের অন্য হাতিগুলো। এরপর তারা পুনরায় পাহাড়ে ফিরে যায়।

বন বিভাগের ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত সেখানে গিয়ে হাতিটিকে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিই। তবে হাতিটির বয়স অনেক বেশি ছিল এবং দীর্ঘকাল অনাহারে থাকায় এর শরীর মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

বন বিভাগ আরও জানায়, হাতিটি কোনো গুলিতে নয় বরং বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও খাদ্যসংকটের কারণেই মারা গেছে। গত সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে হাতিটির মরদেহ ওই এলাকাতেই মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত