সংবাদ

সড়কের নির্মাণ কাজ রেখে লাপাত্তা ঠিকাদার


প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

সড়কের নির্মাণ কাজ রেখে লাপাত্তা ঠিকাদার
সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধে বিপাকে এলাকাবাসি। ছবি : সংবাদ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ৩ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ মাঝপথে ফেলে ৪ বছর ধরে ‘লাপাত্তা’ ঠিকাদার। ফলে উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার বাসিন্দা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) বলছে, বারবার তাগাদা দিয়েও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো হদিস মিলছে না। এখন চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের মাছুয়াখাল-চারটভাঙা এবং খর্গপুর থেকে মেহরন দালাল বাড়ি পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়কটি আগে ইটের তৈরি (এইচবিবি) ছিল। ২০২৩ সালে এলজিইডি এই সড়কটি পাকা করার জন্য সাড়ে ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ‘মেসার্স মতলব ট্রেডিং’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ২০২৩ সালের ২ মে কার্যাদেশ দেওয়ার পর কাজ শুরু করলেও কিছুদিন পর অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদার উধাও হয়ে যান। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই দুর্ভোগ গত চার বছর ধরে চলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করেন। সড়কটি ব্যবহার করে কৃষকেরা তাদের ফসল আনা-নেওয়া করেন। এছাড়া মেহরন দালাল বাড়ির ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে প্রতিদিন অসংখ্য পুণ্যার্থী যাতায়াত করেন। খানাখন্দ আর অসমাপ্ত কাজের কারণে সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শোয়েব প্রধান বলেন, “চার বছর আগে পাকাকরণের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার পালিয়ে গেছে। রোগীদের নিয়ে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।” কাজিয়ারা গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, রাস্তার বেহাল দশায় ফসল ঘরে তোলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকরা জানান, এই সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, “জেলা ও উপজেলা কার্যালয় থেকে ঠিকাদারকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ না করলে নিয়ম অনুযায়ী তার সাথে চুক্তি বাতিল করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ঠিকাদার মোফাজ্জল হোসেনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


সড়কের নির্মাণ কাজ রেখে লাপাত্তা ঠিকাদার

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ৩ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ মাঝপথে ফেলে ৪ বছর ধরে ‘লাপাত্তা’ ঠিকাদার। ফলে উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার বাসিন্দা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) বলছে, বারবার তাগাদা দিয়েও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো হদিস মিলছে না। এখন চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের মাছুয়াখাল-চারটভাঙা এবং খর্গপুর থেকে মেহরন দালাল বাড়ি পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়কটি আগে ইটের তৈরি (এইচবিবি) ছিল। ২০২৩ সালে এলজিইডি এই সড়কটি পাকা করার জন্য সাড়ে ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ‘মেসার্স মতলব ট্রেডিং’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ২০২৩ সালের ২ মে কার্যাদেশ দেওয়ার পর কাজ শুরু করলেও কিছুদিন পর অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদার উধাও হয়ে যান। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই দুর্ভোগ গত চার বছর ধরে চলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করেন। সড়কটি ব্যবহার করে কৃষকেরা তাদের ফসল আনা-নেওয়া করেন। এছাড়া মেহরন দালাল বাড়ির ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে প্রতিদিন অসংখ্য পুণ্যার্থী যাতায়াত করেন। খানাখন্দ আর অসমাপ্ত কাজের কারণে সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শোয়েব প্রধান বলেন, “চার বছর আগে পাকাকরণের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার পালিয়ে গেছে। রোগীদের নিয়ে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।” কাজিয়ারা গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, রাস্তার বেহাল দশায় ফসল ঘরে তোলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকরা জানান, এই সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, “জেলা ও উপজেলা কার্যালয় থেকে ঠিকাদারকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ না করলে নিয়ম অনুযায়ী তার সাথে চুক্তি বাতিল করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ঠিকাদার মোফাজ্জল হোসেনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত