সংবাদ

মধুপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে কচি তালের শাঁস


প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

মধুপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে কচি তালের শাঁস
টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর শহরের একটি মোড়ে কচি তালের শাঁস কাটছেন এক বিক্রেতা। ছবি : সংবাদ

একসময় গ্রামবাংলায় ভাদ্র মাসে তালের পিঠা তৈরির ধুম পড়ত। তালের রস আর পিঠা ছাড়া আত্মীয়স্বজনের দাওয়াত যেন অপূর্ণ থেকে যেত। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া, তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সেই চিরচেনা চিত্র এখন ম্লান হয়ে আসছে। মধুপুরে এখন পাকা তালের চেয়ে রাস্তার ধারের কচি তালের শাঁসের কদর বহুগুণ বেড়েছে।

সরেজমিনে মধুপুর শহরের বিভিন্ন অলিগলি ও হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, মোড়ে মোড়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কচি তাল। বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন শাঁস বের করতে। ৫ থেকে ১০ টাকা দামে সহজেই মিলছে এই প্রাকৃতিক খাবার। গরমে অতিষ্ঠ শ্রমজীবী থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করছেন তালের শাঁসের জন্য।

বিক্রেতারা জানান, তারা গ্রাম থেকে গাছসহ তাল কিনে আনেন। সারা দিন শাঁস বিক্রি করে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। নাগরপাড়া গ্রামের বিক্রেতা সাব্বির হোসেন বলেন, ‘একটি তালে তিন-চারটি আঁটি থাকে। প্রতি আঁটি ১০ টাকা হিসেবে একটি তাল ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করা যায়। অথচ পাকা তাল পেকে ঝরে পড়ার ভয় থাকে এবং চাহিদা অনুযায়ী দামও পাওয়া যায় না।’

গাছি ও গাছের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাল পাকা পর্যন্ত অপেক্ষা করা এখন লোকসান মনে করেন অনেকে। কচি অবস্থায় একবারে সব তাল বিক্রি করে দিলে দ্রুত নগদ টাকা পাওয়া যায়, তাই তাঁরা কচি তালই বিক্রি করে দিচ্ছেন। এর ফলে গ্রামগঞ্জে আগের মতো পাকা তালের পিঠা বা রসের আয়োজন আর চোখে পড়ে না।

তালের শাঁসের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. গোপাল সাহা বলেন, ‘তালের শাঁস একটি বীজজাতীয় ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।’

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদুর রহমান জানান, কাঁচা ও পাকা—উভয় তালই মানবদেহের জন্য উপকারী। এটি একটি নিরাপদ প্রাকৃতিক খাবার, যাতে কোনো রাসায়নিক মেশানোর সুযোগ নেই।

তালের পিঠার ঐতিহ্য হারালেও ভ্যাপসা গরমে এক টুকরো তালের শাঁস মধুপুরের মানুষের জীবনে প্রশান্তি বয়ে আনছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


মধুপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে কচি তালের শাঁস

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

একসময় গ্রামবাংলায় ভাদ্র মাসে তালের পিঠা তৈরির ধুম পড়ত। তালের রস আর পিঠা ছাড়া আত্মীয়স্বজনের দাওয়াত যেন অপূর্ণ থেকে যেত। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া, তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সেই চিরচেনা চিত্র এখন ম্লান হয়ে আসছে। মধুপুরে এখন পাকা তালের চেয়ে রাস্তার ধারের কচি তালের শাঁসের কদর বহুগুণ বেড়েছে।

সরেজমিনে মধুপুর শহরের বিভিন্ন অলিগলি ও হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, মোড়ে মোড়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কচি তাল। বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন শাঁস বের করতে। ৫ থেকে ১০ টাকা দামে সহজেই মিলছে এই প্রাকৃতিক খাবার। গরমে অতিষ্ঠ শ্রমজীবী থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করছেন তালের শাঁসের জন্য।

বিক্রেতারা জানান, তারা গ্রাম থেকে গাছসহ তাল কিনে আনেন। সারা দিন শাঁস বিক্রি করে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। নাগরপাড়া গ্রামের বিক্রেতা সাব্বির হোসেন বলেন, ‘একটি তালে তিন-চারটি আঁটি থাকে। প্রতি আঁটি ১০ টাকা হিসেবে একটি তাল ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করা যায়। অথচ পাকা তাল পেকে ঝরে পড়ার ভয় থাকে এবং চাহিদা অনুযায়ী দামও পাওয়া যায় না।’

গাছি ও গাছের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাল পাকা পর্যন্ত অপেক্ষা করা এখন লোকসান মনে করেন অনেকে। কচি অবস্থায় একবারে সব তাল বিক্রি করে দিলে দ্রুত নগদ টাকা পাওয়া যায়, তাই তাঁরা কচি তালই বিক্রি করে দিচ্ছেন। এর ফলে গ্রামগঞ্জে আগের মতো পাকা তালের পিঠা বা রসের আয়োজন আর চোখে পড়ে না।

তালের শাঁসের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. গোপাল সাহা বলেন, ‘তালের শাঁস একটি বীজজাতীয় ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।’

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদুর রহমান জানান, কাঁচা ও পাকা—উভয় তালই মানবদেহের জন্য উপকারী। এটি একটি নিরাপদ প্রাকৃতিক খাবার, যাতে কোনো রাসায়নিক মেশানোর সুযোগ নেই।

তালের পিঠার ঐতিহ্য হারালেও ভ্যাপসা গরমে এক টুকরো তালের শাঁস মধুপুরের মানুষের জীবনে প্রশান্তি বয়ে আনছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত