সংবাদ

ঈদযাত্রায় পুলিশের ১৫ পরামর্শ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

ঈদযাত্রায় পুলিশের ১৫ পরামর্শ
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জনসাধারণের জন্য ১৫ দফা নিরাপত্তা পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জনসাধারণের জন্য ১৫ দফা নিরাপত্তা পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। ঈদযাত্রায় নিরাপদ ভ্রমণ, কোরবানির পশু কেনাবেচা, অর্থ লেনদেন ও শপিংমলের নিরাপত্তায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়।

ঈদে যারা বাড়ি যাবেন, তাদের পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও ফেরিঘাটের শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়ানো সহজ হবে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও স্টিমারের ছাদে এবং ট্রাক, পিকআপ ও পণ্যবাহী যানবাহনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

চালককে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে তাগিদ না দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চালক যাতে নিয়ম মেনে গাড়ি চালায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করে, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। অপেশাদার, ক্লান্ত বা অসুস্থ চালক যাতে গাড়ি না চালায়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

হাইওয়েতে নসিমন, করিমন, ভটভটির মতো যানবাহনে চলাচল পরিহার করতে বলা হয়েছে। ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িও চালানো যাবে না।

ট্রেনে ভ্রমণের সময় পাথর নিক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখতে হবে। বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌযানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নৌযান মালিকদের ১০০-১৫০ ফুট লম্বা দড়িসম্বলিত বয়া ও লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। লঞ্চ ও ফেরিতে উঠানামার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

যাত্রাপথে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টিসহ প্রতারক চক্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কাউকে অজ্ঞান পার্টি বা মলম পার্টির সদস্য সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ পুলিশকে খবর দিতে হবে বা ৯৯৯-এ কল করতে হবে।

অপরিচিত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে খাবার বা পানীয় গ্রহণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাক, লঞ্চ, নৌকা বা ট্রলারে অতিরিক্ত পশু বোঝাই না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের ওপর এবং রেললাইনের পাশে কোরবানির পশুর হাট বসানো যাবে না।

পশুর হাটে নির্ধারিত হারে হাসিল পরিশোধ করতে হবে। কেউ অতিরিক্ত হাসিল বা চাঁদা দাবি করলে নিকটস্থ পুলিশকে জানাতে হবে।

পশুবাহী পরিবহনের সামনে পশুর গন্তব্য, অবস্থান বা পশুর হাটের নাম লিখে ব্যানার টানিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। কোরবানির পশুবাহী গাড়ি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া গন্তব্যস্থল ব্যতীত কোথাও থামানো যাবে না।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পশুর চামড়াবাহী যানবাহন সীমান্তমুখী হলে সেগুলো পাচার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ধরনের সন্দেহজনক ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশকে জানাতে হবে বা ৯৯৯-এ কল করতে হবে।

কোরবানির পশু বা পণ্যবাহী ট্রাক বা যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

পশুর হাটে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুলিশের কাছ থেকে কারেন্সি এসকর্ট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাল টাকা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনো নোট জাল সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ পুলিশকে জানাতে হবে।

বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই গোপন পিন নম্বর কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।

শপিংমল ও মার্কেটের নিরাপত্তায় সিসিটিভি, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে যেসব নম্বরে যোগাযোগ করবেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কন্ট্রোল রুম: ০১৩২০০০১৩০০, ০১৩২০০০১২৯৯। হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স: ০১৩২০১৮২৫৯৮। রেলওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স: ০১৩২০১৭৭৫৯৮। নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স: ০১৩২০১৬৯৫৯৮। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব): ০১৭৭৭৭২০০২৯। জাতীয় জরুরি সেবা: ৯৯৯।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


ঈদযাত্রায় পুলিশের ১৫ পরামর্শ

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জনসাধারণের জন্য ১৫ দফা নিরাপত্তা পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। ঈদযাত্রায় নিরাপদ ভ্রমণ, কোরবানির পশু কেনাবেচা, অর্থ লেনদেন ও শপিংমলের নিরাপত্তায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়।

ঈদে যারা বাড়ি যাবেন, তাদের পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও ফেরিঘাটের শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়ানো সহজ হবে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও স্টিমারের ছাদে এবং ট্রাক, পিকআপ ও পণ্যবাহী যানবাহনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

চালককে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে তাগিদ না দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চালক যাতে নিয়ম মেনে গাড়ি চালায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করে, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। অপেশাদার, ক্লান্ত বা অসুস্থ চালক যাতে গাড়ি না চালায়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

হাইওয়েতে নসিমন, করিমন, ভটভটির মতো যানবাহনে চলাচল পরিহার করতে বলা হয়েছে। ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িও চালানো যাবে না।

ট্রেনে ভ্রমণের সময় পাথর নিক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখতে হবে। বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌযানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নৌযান মালিকদের ১০০-১৫০ ফুট লম্বা দড়িসম্বলিত বয়া ও লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। লঞ্চ ও ফেরিতে উঠানামার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

যাত্রাপথে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টিসহ প্রতারক চক্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কাউকে অজ্ঞান পার্টি বা মলম পার্টির সদস্য সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ পুলিশকে খবর দিতে হবে বা ৯৯৯-এ কল করতে হবে।

অপরিচিত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে খাবার বা পানীয় গ্রহণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাক, লঞ্চ, নৌকা বা ট্রলারে অতিরিক্ত পশু বোঝাই না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের ওপর এবং রেললাইনের পাশে কোরবানির পশুর হাট বসানো যাবে না।

পশুর হাটে নির্ধারিত হারে হাসিল পরিশোধ করতে হবে। কেউ অতিরিক্ত হাসিল বা চাঁদা দাবি করলে নিকটস্থ পুলিশকে জানাতে হবে।

পশুবাহী পরিবহনের সামনে পশুর গন্তব্য, অবস্থান বা পশুর হাটের নাম লিখে ব্যানার টানিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। কোরবানির পশুবাহী গাড়ি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া গন্তব্যস্থল ব্যতীত কোথাও থামানো যাবে না।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পশুর চামড়াবাহী যানবাহন সীমান্তমুখী হলে সেগুলো পাচার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ধরনের সন্দেহজনক ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশকে জানাতে হবে বা ৯৯৯-এ কল করতে হবে।

কোরবানির পশু বা পণ্যবাহী ট্রাক বা যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

পশুর হাটে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুলিশের কাছ থেকে কারেন্সি এসকর্ট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাল টাকা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনো নোট জাল সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ পুলিশকে জানাতে হবে।

বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই গোপন পিন নম্বর কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।

শপিংমল ও মার্কেটের নিরাপত্তায় সিসিটিভি, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে যেসব নম্বরে যোগাযোগ করবেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কন্ট্রোল রুম: ০১৩২০০০১৩০০, ০১৩২০০০১২৯৯। হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স: ০১৩২০১৮২৫৯৮। রেলওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স: ০১৩২০১৭৭৫৯৮। নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স: ০১৩২০১৬৯৫৯৮। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব): ০১৭৭৭৭২০০২৯। জাতীয় জরুরি সেবা: ৯৯৯।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত