তখনো ভোরের আলো ঠিকমতো ফোটেনি। মসজিদে ফজরের নামাজ শেষে একে একে বের হচ্ছেন মুসল্লিরা। কেউ প্রাতঃভ্রমণ করছেন, কেউবা ফিরছেন বাড়ির পানে। কেউ আবার ছুটছেন নিজ নিজ কাজে। তাদেরই একজন মো. ইব্রাহিম। তবে তার তাড়াটা একটু বেশি, কারণ পাঠকদের কাছে সকাল সকাল তাজা খবর পৌঁছে দিতে হবে। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল ফেরিঘাটের প্রতিদিনের খুব সকালের চিরচেনা দৃশ্য এটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে এই এলাকায় পত্রিকা বিক্রি করে আসছেন ইব্রাহিম। সময় বদলেছে, সমাজ বদলেছে, বদলেছে মানুষের পড়ার অভ্যাসও। কিন্তু বদলায়নি ইব্রাহিমের দায়িত্ববোধ, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম।
ইব্রাহিম কেবল একজন পত্রিকা বিক্রেতাই নন, তিনি একজন কোরআনের হাফেজ। শৈশবে মাদ্রাসায় কোরআন হিফজ করার পর যখন পারিবারিক অভাব-অনটন জেঁকে বসে, তখন সংসারের হাল ধরতে হাতে তুলে নেন পত্রিকার ব্যাগ। সেই থেকেই শুরু হয় তার জীবনযুদ্ধের নতুন অধ্যায়।
একসময় দিনে তার ১ হাজারেরও বেশি পত্রিকা বিক্রি হতো। দোকানদার, চাকরিজীবী কিংবা অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ পাঠক,সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন ইব্রাহিমের জন্য। কালের বিবর্তনে ডিজিটাল যুগের ছোঁয়ায় কাগজের পত্রিকার বাজার সংকুচিত হলেও ইব্রাহিম এখনো তার পুরোনো পেশাকেই আঁকড়ে ধরে আছেন।
স্মৃতিচারণ করে ইব্রাহিম বলেন, ‘আগে পত্রিকা ছিল মানুষের প্রধান মাধ্যম। সবাই নতুন কিছু জানার জন্য মুখিয়ে থাকত। এখন মানুষের চোখ মোবাইলে, কাগজের খবর পড়তে চায় না কেউ। আগে যেখানে দৈনিক হাজার কপি বিক্রি করতাম, এখন সেখানে ২০০ কপিও হয় না। তবুও কাজটা ছাড়িনি। জীবিকার জন্য ছোট কাজ বলে কিছু নেই। সততা আর দায়িত্ববোধ থাকলে যেকোনো কাজই সম্মানের।’ পত্রিকা বিক্রির পাশাপাশি বাকি সময়টা তিনি কোরআন তিলাওয়াত ও ধর্মীয় কাজেই ব্যয় করেন।
ঘোড়াশাল বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শৈশব থেকেই দেখে আসছি হাফেজ মো. ইব্রাহিম পাঠকদের কাছে পত্রিকা পৌঁছে দিচ্ছেন। আমার প্রতিষ্ঠানেও প্রতিদিন সকাল হলেই তার দেওয়া পত্রিকা হাতে পাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ‘তিনি একজন আলোকিত মানুষ। তার জীবন যেন এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত; কীভাবে দ্বীন ও দুনিয়ার মাঝে ভারসাম্য রাখা যায়।’
বাজারের পুরোনো ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘উনি শুধু একজন পত্রিকা বিক্রেতা নন, খুব ঈমানদার একজন মানুষ। যতটুকু আয় করেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন।’ ছাত্রজীবনে ইব্রাহিমের সহযোগী হিসেবে কাজ করা মো. ফারুকুল ইসলাম তার ভালো ব্যবহারের প্রশংসা করেন।

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
তখনো ভোরের আলো ঠিকমতো ফোটেনি। মসজিদে ফজরের নামাজ শেষে একে একে বের হচ্ছেন মুসল্লিরা। কেউ প্রাতঃভ্রমণ করছেন, কেউবা ফিরছেন বাড়ির পানে। কেউ আবার ছুটছেন নিজ নিজ কাজে। তাদেরই একজন মো. ইব্রাহিম। তবে তার তাড়াটা একটু বেশি, কারণ পাঠকদের কাছে সকাল সকাল তাজা খবর পৌঁছে দিতে হবে। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল ফেরিঘাটের প্রতিদিনের খুব সকালের চিরচেনা দৃশ্য এটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে এই এলাকায় পত্রিকা বিক্রি করে আসছেন ইব্রাহিম। সময় বদলেছে, সমাজ বদলেছে, বদলেছে মানুষের পড়ার অভ্যাসও। কিন্তু বদলায়নি ইব্রাহিমের দায়িত্ববোধ, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম।
ইব্রাহিম কেবল একজন পত্রিকা বিক্রেতাই নন, তিনি একজন কোরআনের হাফেজ। শৈশবে মাদ্রাসায় কোরআন হিফজ করার পর যখন পারিবারিক অভাব-অনটন জেঁকে বসে, তখন সংসারের হাল ধরতে হাতে তুলে নেন পত্রিকার ব্যাগ। সেই থেকেই শুরু হয় তার জীবনযুদ্ধের নতুন অধ্যায়।
একসময় দিনে তার ১ হাজারেরও বেশি পত্রিকা বিক্রি হতো। দোকানদার, চাকরিজীবী কিংবা অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ পাঠক,সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন ইব্রাহিমের জন্য। কালের বিবর্তনে ডিজিটাল যুগের ছোঁয়ায় কাগজের পত্রিকার বাজার সংকুচিত হলেও ইব্রাহিম এখনো তার পুরোনো পেশাকেই আঁকড়ে ধরে আছেন।
স্মৃতিচারণ করে ইব্রাহিম বলেন, ‘আগে পত্রিকা ছিল মানুষের প্রধান মাধ্যম। সবাই নতুন কিছু জানার জন্য মুখিয়ে থাকত। এখন মানুষের চোখ মোবাইলে, কাগজের খবর পড়তে চায় না কেউ। আগে যেখানে দৈনিক হাজার কপি বিক্রি করতাম, এখন সেখানে ২০০ কপিও হয় না। তবুও কাজটা ছাড়িনি। জীবিকার জন্য ছোট কাজ বলে কিছু নেই। সততা আর দায়িত্ববোধ থাকলে যেকোনো কাজই সম্মানের।’ পত্রিকা বিক্রির পাশাপাশি বাকি সময়টা তিনি কোরআন তিলাওয়াত ও ধর্মীয় কাজেই ব্যয় করেন।
ঘোড়াশাল বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শৈশব থেকেই দেখে আসছি হাফেজ মো. ইব্রাহিম পাঠকদের কাছে পত্রিকা পৌঁছে দিচ্ছেন। আমার প্রতিষ্ঠানেও প্রতিদিন সকাল হলেই তার দেওয়া পত্রিকা হাতে পাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ‘তিনি একজন আলোকিত মানুষ। তার জীবন যেন এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত; কীভাবে দ্বীন ও দুনিয়ার মাঝে ভারসাম্য রাখা যায়।’
বাজারের পুরোনো ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘উনি শুধু একজন পত্রিকা বিক্রেতা নন, খুব ঈমানদার একজন মানুষ। যতটুকু আয় করেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন।’ ছাত্রজীবনে ইব্রাহিমের সহযোগী হিসেবে কাজ করা মো. ফারুকুল ইসলাম তার ভালো ব্যবহারের প্রশংসা করেন।

আপনার মতামত লিখুন