দিনাজপুরে ঐতিহ্যবাহী নাট্যচর্চার ধারায় যুক্ত হলো নতুন মাত্রা। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও শতবর্ষী নাট্যদল ‘দিনাজপুর নাট্য সমিতি’র মঞ্চে মঞ্চস্থ হয়েছে তাদের নতুন প্রযোজনা ‘লুড়ুং’। রোববার (২৪ মে) রাত আটটায় নাট্য সমিতি মিলনায়তনে নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়।
কুরুখ ভাষায় ‘লুড়ুং’ শব্দের অর্থ ‘লড়াই’। মূলত ওঁরাও সম্প্রদায়ের জীবনসংগ্রাম, বঞ্চনা এবং অধিকার আদায়ের লড়াইকে কেন্দ্র করেই এই নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। শোষকের বিরুদ্ধে বাঙালির দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামের সমান্তরালে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রান্তিক লড়াইয়ের চিত্র এখানে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
নাটকটির রচয়িতা ও নির্দেশক তারিকুজ্জামান তারেক জানান, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে বাস্তব জীবনের গল্প এবং আদিবাসী সংস্কৃতির মূল শক্তিকে তুলে ধরাই ছিল এই প্রযোজনার মূল লক্ষ্য। নারী শক্তির উত্থান ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সমাজ ও দেশ এগিয়ে যাবে এই বার্তাই ‘লুড়ুং’ নাটকের মূল উপজীব্য।
নাটকটির সফল মঞ্চায়নে কাজ করেছেন একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ সংস্কৃতিকর্মী। এর আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন সম্বিত সাহা এবং আবহ সংগীতে তারিকুজ্জামান তারেক। মঞ্চ ও পোশাকে কাজ করেছেন সজল, উদয় দাস, শিউলী বাড়া ও মাধুরী বাড়া। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কোরাইশা আক্তার স্মৃতি, শিউলী বাড়া, মাধুরী বাড়া, দীপা বিশ্বাস, মেঘা ঘোষ, ইয়াসমিন টুডু, নয়মী টপ্প, প্রিয়া তিরকি এবং নীহারিকা সরকার।
উল্লেখ্য, ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দিনাজপুর নাট্য সমিতি উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজ করে আসছে। ১৯৬৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৫৫ বছর তারা বিরতিহীনভাবে মাসব্যাপী নাট্যোৎসব আয়োজন করে অনন্য রেকর্ড গড়েছিল। করোনাকালের ধাক্কায় গত কয়েক বছর এই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়লেও ‘লুড়ুং’-এর মতো নতুন প্রযোজনার মাধ্যমে সংগঠনটি আবারও তাদের চিরচেনা ফর্মে ফিরেছে।
উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক দর্শক হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরো নাটক উপভোগ করেন। নাটক শেষে মঞ্চে সংসদ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সমিতির সভাপতি চিত্ত ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজুসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক নাট্যমোদী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা বিলম্বে নাটকটি শুরু হওয়ায় আয়োজক কর্তৃপক্ষ দর্শকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
দিনাজপুরে ঐতিহ্যবাহী নাট্যচর্চার ধারায় যুক্ত হলো নতুন মাত্রা। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও শতবর্ষী নাট্যদল ‘দিনাজপুর নাট্য সমিতি’র মঞ্চে মঞ্চস্থ হয়েছে তাদের নতুন প্রযোজনা ‘লুড়ুং’। রোববার (২৪ মে) রাত আটটায় নাট্য সমিতি মিলনায়তনে নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়।
কুরুখ ভাষায় ‘লুড়ুং’ শব্দের অর্থ ‘লড়াই’। মূলত ওঁরাও সম্প্রদায়ের জীবনসংগ্রাম, বঞ্চনা এবং অধিকার আদায়ের লড়াইকে কেন্দ্র করেই এই নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। শোষকের বিরুদ্ধে বাঙালির দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামের সমান্তরালে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রান্তিক লড়াইয়ের চিত্র এখানে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
নাটকটির রচয়িতা ও নির্দেশক তারিকুজ্জামান তারেক জানান, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে বাস্তব জীবনের গল্প এবং আদিবাসী সংস্কৃতির মূল শক্তিকে তুলে ধরাই ছিল এই প্রযোজনার মূল লক্ষ্য। নারী শক্তির উত্থান ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সমাজ ও দেশ এগিয়ে যাবে এই বার্তাই ‘লুড়ুং’ নাটকের মূল উপজীব্য।
নাটকটির সফল মঞ্চায়নে কাজ করেছেন একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ সংস্কৃতিকর্মী। এর আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন সম্বিত সাহা এবং আবহ সংগীতে তারিকুজ্জামান তারেক। মঞ্চ ও পোশাকে কাজ করেছেন সজল, উদয় দাস, শিউলী বাড়া ও মাধুরী বাড়া। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কোরাইশা আক্তার স্মৃতি, শিউলী বাড়া, মাধুরী বাড়া, দীপা বিশ্বাস, মেঘা ঘোষ, ইয়াসমিন টুডু, নয়মী টপ্প, প্রিয়া তিরকি এবং নীহারিকা সরকার।
উল্লেখ্য, ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দিনাজপুর নাট্য সমিতি উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজ করে আসছে। ১৯৬৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৫৫ বছর তারা বিরতিহীনভাবে মাসব্যাপী নাট্যোৎসব আয়োজন করে অনন্য রেকর্ড গড়েছিল। করোনাকালের ধাক্কায় গত কয়েক বছর এই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়লেও ‘লুড়ুং’-এর মতো নতুন প্রযোজনার মাধ্যমে সংগঠনটি আবারও তাদের চিরচেনা ফর্মে ফিরেছে।
উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক দর্শক হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরো নাটক উপভোগ করেন। নাটক শেষে মঞ্চে সংসদ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সমিতির সভাপতি চিত্ত ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজুসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক নাট্যমোদী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা বিলম্বে নাটকটি শুরু হওয়ায় আয়োজক কর্তৃপক্ষ দর্শকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

আপনার মতামত লিখুন