সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ও মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বাজেটে ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে সরকার।
দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন।
অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির মন্দার পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিরতায় তৈরি হওয়া নতুন ঝুঁকিসমূহ মোকাবিলার প্রত্যয় কেন্দ্রে রেখেই আমরা স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করেছি।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে জনমিতিক লভ্যাংশ ও দীর্ঘজীবিতা লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক লভ্যাংশ অর্জন করবে বাংলাদেশ।
১০টি প্রধান অগ্রাধিকার
১. সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা: সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে বাস্তবমুখী, দক্ষতানির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং সবার জন্য মানসম্মত সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
২. সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা: সব বয়সের, সব স্তরের নাগরিকের জন্য জীবনচক্রভিত্তিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলা।
৩. বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি: পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
৪. কৃষিকে অগ্রাধিকার: কৃষিকে উৎপাদন, জীবিকা ও জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
৫. বিধিনিয়ন্ত্রণকরণ ও সাশ্রয়ী ব্যবসার পরিবেশ: সরকারি কাজে বিলম্ব ও অপ্রয়োজনীয় ধাপ পরিহার করে স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসাসহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা।
৬. আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা: ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। পুঁজিবাজারের সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহ প্রদান।
৭. জ্বালানি নিরাপত্তা: সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৮. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ: বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর করা।
৯. প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বনায়নকে সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর, নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা ও খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা।
১০. স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিপূর্ণ প্রশাসন: মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়ন দক্ষ ও কার্যকর করা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সর্বজনের, সর্বশ্রেণির, সর্বখাতের, সব অঞ্চলের সুষম অংশগ্রহণ ও অংশীদারত্ব নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা।’
সেই লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ও মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বাজেটে ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে সরকার।
দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন।
অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির মন্দার পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিরতায় তৈরি হওয়া নতুন ঝুঁকিসমূহ মোকাবিলার প্রত্যয় কেন্দ্রে রেখেই আমরা স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করেছি।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে জনমিতিক লভ্যাংশ ও দীর্ঘজীবিতা লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক লভ্যাংশ অর্জন করবে বাংলাদেশ।
১০টি প্রধান অগ্রাধিকার
১. সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা: সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে বাস্তবমুখী, দক্ষতানির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং সবার জন্য মানসম্মত সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
২. সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা: সব বয়সের, সব স্তরের নাগরিকের জন্য জীবনচক্রভিত্তিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলা।
৩. বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি: পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
৪. কৃষিকে অগ্রাধিকার: কৃষিকে উৎপাদন, জীবিকা ও জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
৫. বিধিনিয়ন্ত্রণকরণ ও সাশ্রয়ী ব্যবসার পরিবেশ: সরকারি কাজে বিলম্ব ও অপ্রয়োজনীয় ধাপ পরিহার করে স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসাসহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা।
৬. আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা: ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। পুঁজিবাজারের সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহ প্রদান।
৭. জ্বালানি নিরাপত্তা: সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৮. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ: বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর করা।
৯. প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বনায়নকে সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর, নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা ও খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা।
১০. স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিপূর্ণ প্রশাসন: মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়ন দক্ষ ও কার্যকর করা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সর্বজনের, সর্বশ্রেণির, সর্বখাতের, সব অঞ্চলের সুষম অংশগ্রহণ ও অংশীদারত্ব নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা।’
সেই লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন