সংবাদ

৭৬ বছরে সংবাদ / প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা ২০২৬

‘সংবাদ’ ও তার আদর্শিক সাংবাদিকতা


কাশেম হুমায়ূন
কাশেম হুমায়ূন
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ এএম

‘সংবাদ’ ও তার আদর্শিক সাংবাদিকতা
ছবিসূত্র : ইন্টারনেট

পাকিস্তান সৃষ্টির পর তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা থেকে প্রকাশিত ˆদনিক পত্রিকা ‘সংবাদ’| কলকাতা থেকে প্রথম প্রকাশিত ও পরে ঢাকায় স্থানান্তরিত ‘আজাদ’ ছিল তখন সর্বাধিক প্রচারিত ˆদনিক পত্রিকা| ‘সংবাদ’-এর আগে বাংলা শব্দে কোনো ˆদনিক পত্রিকার নামও ছিল না| সব পত্রিকার নাম রাখা হতো ফার্সি, উর্দু বা সংস্কৃত শব্দে| এই অর্থে ‘সংবাদ’ ছিল ইতিহাস সৃষ্টিকারী|   

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ‘সংবাদ’-এ কর্মরত সংবাদকর্মীদের অধিকাংশই ছিলেন প্রগতিমনা, আর রাজনৈতিক আদর্শগতভাবে প্রগতিশীল ঘরানার| ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক বিজয় ও মুসলিম লীগের ভূমিধস ভরাডুবির পর পরিবর্তন আসে সংবাদের মালিকানায়| প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং ব্যাংকার মরহুম খায়রুল কবির সংবাদের দায়িত্ব দেন তাঁর অনুজ আহমদুল কবিরকে| তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সংবাদ-এ নতুন স্পন্দন জাগে| একদিকে জনগণের প্রতি সংবাদ-এর অঙ্গীকার, অন্যদিকে জনগণের আকাঙ্ক্ষাও ছিল সংবাদের প্রতি| অঙ্গীকার এবং আকাঙ্ক্ষার সম্মিলনে বেড়ে যায় দায়িত্ব| সেই সাথে বেড়ে যায় কাজের গতি| ফলে সংবাদ গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদসহ প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি পৃষ্ঠপোষকতা করতে থাকে| বিশেষ করে প্রকাশ্যে সমর্থন জানায় বাম ও প্রগতিশীল ধারার রজনীতিকে| 

পরিণতিতে পাকিস্তান আমালে পুরো সময়টাতে সংবাদকে অনেক আঘাত সইতে হয়| আহমদুল কবির, জহুর হোসেন চৌধুরী, সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লা কায়সার, আলী আকসাদ, বজলুর রহমান, সন্তোষ গুপ্ত, মীর মাহবুব আলী অবতীর্ণ হন আরও সাহসী ভূমিকায়| তাঁরা ˆ¯^রাচারী সামরিক শাসক আইয়ুব খানের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সংবাদকে গড়ে তোলেন জনগণের নির্ভরতা ও আস্থার মুখপত্র হিসেবে| এ কাজ করতে গিয়ে সংবাদের অনেক সাংবাদিককে ভোগ করতে হয়েছে অবর্ণনীয় নির্যাতন-নীপিড়ন| শুধু তাই নয়, কারাভোগও করতে হয়েছে অনেককে| ’৬২-এর ছাত্র আন্দোলন, ’৬৬-এর  বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৮-৬৯-এর আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থানে সংবাদ আকুণ্ঠ সমর্থন দেয়| জনমত গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখে জনগণকে সংগঠিত করতে| পরিণামে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্বেই পাকিস্তানি হানাদাররা টার্গেট করে ‘সংবাদ’কে| পুরান ঢাকার ২৬৩, বংশাল রোডের সংবাদ অফিসটি পুড়িয়ে দেয় তারা| অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান সংবাদকর্মী, কবি ও গল্পকার শহীদ সাবের| সংবাদের সাংবাদিকদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন| কারানির্যাতন ভোগ করেন আহমদুল কবিরসহ অনেকেই| ’৭১-এর ১৪ ডিসে¤^র অন্যান্য বুদ্ধিজীবীর সাথে শহিদ হন সংবাদের বার্তা সম্পাদক শহীদুল্লা কায়সার| 

স্বাধীনতার কিছুদিন পর ধর্মনিরেপেক্ষতা, গণতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে নবউদ্যমে প্রকাশিত হয় সংবাদ| ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর মোশতাক-জিয়ার পাকিস্তানি ধারার রাজনীতির বিরুদ্ধেও ‘সংবাদ’ শক্ত অবস্থান নেয়| তোলপাড় সৃষ্টি করে জহুর হোসেন চৌধুরী, আবু জাফর শামসুদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সন্তোষ গুপ্ত, বজলুর রহমানের তেজ¯^ী লেখনী| সেইসব লেখা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে জোগায় প্রেরণা| 

সংবাদ কখনও ভয়ে স্বৈরাচারবিরোধী অঙ্গীকার থেকে পিছু হটেনি| এ বিষয়ে গুণমান ˆবশিষ্ট্য প্রশ্নে অন্য কোনো পত্রিকার সাথে সংবাদের তুলনা চলে না| ’৮২ সালে সামরিক শাসন জারি করে জেনারেল এরশাদের ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধেও সংবাদ তার অঙ্গীকার অনুযায়ী সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী ভূমিকা পালন করে| এরশাদের নয় বছরের শাসন আমলেও সংবাদের উপর বেশ কবার আঘাত আসে| কয়েকবার চেষ্টা চালানো হয় সংবাদ বন্ধ করে দেয়ার| 

পাঁচ দশকের পেশাগত জীবনে লক্ষ্য করেছি অসত্য-অন্যায়ের কাছে সংবাদ কখনও মাথা নিচু করেনি| এ দীক্ষা ও মন্ত্র সংবাদকর্মীদের শিখিয়েছেন এখানকার নিবেদিত সিনিয়ররা| সততা এবং ন্যায়-নীতি, প্রগতিতে অটল থাকার এ ˆবশিষ্ট্য ˆদনিক সংবাদ ধরে রাখার চেষ্টা করছে আজও| 


আমার অভিভাবক আহমদুল কবির

আমার প্রথম সম্পাদক আমদুল কবির| শিক্ষা ও মেধায় এক অনন্য ব্যক্তিত্ব তিনি| রাজনীতি, সাংবাদিকতা, ব্যবসা এবং পারিবারিক সমৃদ্ধি প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফল ব্যক্তিটি আমাদের ছেড়ে চলে যান ২০০৩ সালের ২৪ নভেম্বর|

ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের এই মানুষটিকে সম্পাদক হিসেবে পাওয়া  আমার সৌভাগ্য| নরসিংদীর ঘোড়াশালের ঐতিহ্যবাহী মিয়া পরিবারে তাঁর জন্ম| বিত্ত-বৈভবে বড় হয়েছেন তিনি| তাদানীন্তন পাকিস্তানের রাজনীতিতে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল যে ধারা এ দেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিপুল জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক চেতনাকে নাড়া দিয়েছিল তার অগ্রভাগে ছিলেন আহমদুল কবির| 

আহমদুল কবিরের ডাকনাম মনু মিয়া| জন্ম ১৯২৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি| বাবা মরহুম আবু ইউসুফ লুৎফুল কবির| মা মরহুমা সুফিয়া খাতুন| অর্থনীতির ছাত্র আহমদুল কবির ছিলেন একজন শিল্পাদ্যোক্তাও| এদেশের শিল্প-বাণিজ্য প্রসারে ছিল তাঁর সক্রিয় অবদান| তাঁর বিচরণক্ষেত্র ছিল ব্যাপক ও বহুমুখী| ১৯৪২-৪৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন| 

অর্থনীতিতে গ্রাজুয়েশন লাভ করার পর তিনি রির্জাভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় যোগ দেন| দায়িত্ব পালন করেন ফরেন এক্সচেঞ্জ বিভাগের প্রধান হিসেবে| সরকারি চাকরি ছেড়ে ১৯৫৪ সালে তিনি নিজের ব্যবসায় এবং রাজনীতিতে সময় দিতে শুরু করেন| 

তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) এবং ¯^াধীনতাপরবর্তীতে ১৯৭৯ ও ১৯৮৬ সালে নরসিংদী-২ (পলাশ-শিবপুর) নির্বাচনী এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন| হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগে বিভক্তি দেখা দেয়| ওই বছরের ২৫ জুলাই মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয় ন্যাশলান আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)| পাকিস্তান ন্যাপের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আহমদুল কবিরের প্রজ্ঞা ও ভূমিকা সে সময় সারা দেশে প্রশংসিত হয়| 

আহমদুল কবির দীর্ঘদিন কৃষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন| আশির দশকে তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় গণতন্ত্রী পার্টি| আমৃত্যু তিনি এ দলের সভাপতি ছিলেন| ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ২৬৩, বংশাল রোডের সংবাদ অফিস পুড়িয়ে দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে| মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা সংবাদ প্রকাশের জন্য তাঁকে অনেক প্রলোভন দেখায়| কিন্তু তিনি প্রলোভনের কাছে মাথা নত করনেননি| ¯^াধীনতার পর জেল থেকে মুক্তি পেয়ে সংবাদ প্রকাশ করা শুরু করেন| ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে তিনি সম্পাদকের দায়িত্ব নেন| পরে প্রধান সম্পাদক হন| আমৃত্যু তিনি এ দায়িত্ব পালন করেছেন| 

আহমদুল কবিরের স্ত্রী লায়লা কবির দেশের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী| তাঁর বড় ছেলে আলতামাশ কবির সংবাদ-এর বর্তমান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক| দ্বিতীয় ছেলে আরদাশির কবির দেশের বিশিষ্ট চা-ব্যবসায়ী| একমাত্র মেয়ে নিহাদ কবির বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল| বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন এবং মেট্রোপলিটন চে¤^ার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) একাধিকবারের সাবেক প্রেসিডেন্ট| তিনি ব্রাক ব্যাংকের পরিচালকসহ আরো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং করছেন| সংবাদ নামের সাংবাদিকতার এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বুনিয়াদ ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রয়াত আহমদুল কবিরের পরিবারের সবার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ|

১৯৫৪ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ভূমিধস বিজয় এবং মুসলিম লীগের ভরাডুবির পর সংবাদ বন্ধের উপক্রম হয়| এ সময় খায়রুল কবিরের প্রচেষ্টায় সংবাদকে বাঁচিয়ে রাখতে অর্থ সহায়তায় এগিয়ে আসেন| খায়রুল কবির তখন মুসলিম লীগের পত্রিকায় কাজ করলেও চিন্তাচেতনায় ছিলেন প্রগতিশীল| আহমদুল কবির ওই সময় থেকে সংবাদ-এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন| সংবাদ হয়ে ওঠে প্রগতিশীল ও মেহনতী মানুষের পত্রিকা এবং পর্যায়ে সক্রিয়, আদর্শবান, জাতীয়তাবাদী চেতনাসম্পন্ন সাংবাদিক ˆতরির প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে ˆদনিক সংবাদ| 

সংবাদ-এ পেশগত জীবন শুরু করে জ্ঞান, মেধা অর্জন করে; অন্য পত্রিকায় গিয়ে সাংবাদিক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন অনেকে| বাংলাদেশের সংবাদপত্রের জগতে এমন কোনো সংবাদ মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে সংবাদের সাংবাদিক বা কর্মী নেই| সংবাদের সাংবাদিকদের মধ্যে পেশায় আদর্শবাদী ও সত্যনিষ্ঠ হওয়ার চেতনার বীজ রোপণ করেছিলেন আহমদুল কবির| পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রগতিশীল রাজনীতির চেহারা সুরত অনেক পাল্টে গেলেও সংবাদ তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি, পাল্টায়নি তার চেতনাও| পুরো ব্যপারটিই ঘটেছে আহমদুল কবিরের কারণে| একজন চারণ শিক্ষকের পক্ষেই এটা সম্ভব|


বজলুর রহমান: প্রকৃতির মেধাভাণ্ডার

বজলু ভাই| আমার পেশাগত শিক্ষক, অভিভাবকও| পেশাগত জীবনে বজলুর রহামনের মতো একজন অভিভাবক আমার জীবনের এক চরম পাওয়া| তাঁর গুণাবলি, মেধা ও ˆবশিষ্ট্যগুলোর অনেক কিছুই যেন অনাবিষ্কৃত থেকে গেছে| জীবদ্দশাতেও মনে হতো এত কাছ থেকেও তাকে পুরোপুরি আবিষ্কার করতে পারছি না| একজন মানুষের এক সঙ্গে কত গুণ থাকতে পারে তা ভাবতে অবাক লাগে| 

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা জগতের অন্যতম পুরোধা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান| সত্য, সুন্দর ও মার্জিত বৈশিষ্ট্যগুলো তিনি কর্মক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন| আবার নিজের আদর্শকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্যের আদর্শকে তিনি অবজ্ঞা করেননি কখনও| মেধা জ্ঞান ও যুক্তির মাধ্যমেই সবকিছু বিবেচনার চেষ্টা করতেন বজলু ভাই| স্বাধীনতার পূর্বাপর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অনেক সিঁড়ি মাড়িয়েছেন তিনি| ’৬২-র শিক্ষা আন্দোলন ’৬৬-র ছয় দফা, ’৬৮-’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন ভূমিকা ছিল তাঁর| ’৯০- এর ˆ¯^রাচারী আন্দোলনে তার ভূমিকা তো আমার একেবারে কাছ থেকেই দেখা| 

বজলুর রহমান দীর্ঘ পেশাগত জীবনে সংবাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন| দীর্ঘ সময়ে তাঁর সংস্পর্শ পেয়েছি| এ সুযোগে তার কাছ থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করেছি| সংবাদ ছাড়াও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, প্রেস ইনস্টিটিউট, প্রেস কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন| কাজ করেছেন ˆদনিক ইত্তেফাকেও| বেশ কয়েক বছর সাপ্তাহিক একতার সম্পাদকও ছিলেন তিনি| আমি তাঁকে পেয়েছি সংবাদের সহকারী সম্পদক হিসেবে| তিনি ১৯৬১ সালে সংবাদের সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন| পরে সম্পাদকের দায়িত্ব নেন| ব্যক্তিগত জীবনে বজলুর রহমান সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরীর ¯^ামী| 

অর্থনীতির ছাত্র বজলুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি শেষে পর্যক্রমে সার্বক্ষণিক সাংবাদিকতায় মনোনিবেশ করেন| ষাটের দশকে একইসাথে তিনি গোপন কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ, আফ্রো-এশীয় গণসংহতি আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন| খেলাঘরের ভাইয়া হিসেবেও সবার কাছে ছিলেন জনপ্রিয়| তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞা, সাধারণ জীবন-যাপন আমার জন্য প্রেরণা| ৬৭ বছরের জীবনে চিরকালই বজলু ভাই নিজেকে সমর্পিত করেছেন প্রাচুর্যবিহীন জীবনযাপনের কাছে| কিন্তু যুক্তিতে চিন্তায় মেধায় যে জীবন তিনি ˆতরি করছিলেন, তার পাশে দাঁড়নোর শক্তি খুব কম মানুষেরই আছে| জাগতিক মোহকে তুচ্ছ করা এই মানুষটি ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আমাদের ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে| মীরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়| বজলু ভাই সাংবাদিকতায় শুধু আমারই নন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকদের অনেকেরই তিনি শিক্ষাগুরু| তাঁর নিউজ সেন্স, এডিটিং এবং ট্রিটমেন্ট বিষয়ক জ্ঞানকে কখনও কখনও মনে হতো ঐশ্বরিক বা প্রকৃতিগত|


জহুর হোসেন চৌধুরী

সংবাদকে ঐতিহ্য ও যশ-খ্যাতির শিখরে নিয়ে যাওয়া অগ্রজদের অন্যতম একজন ছিলেন জহুর হোসেন চৌধুরী| তিনি একাধারে সম্পাদক, কলাম লেখক ও রাজনীতিবিদ| বিভিন্ন সময়ে সংবাদের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন তিনি| সরাসরি তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ আমার হয়নি| স্বাধীনতার পর নতুন আঙ্গিকে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি একটি ভকসওয়াগন গাড়ি নিয়ে মাঝেমধ্যে অফিসে আসতেন| ওই সময় অনিয়মিতভাবে তাঁর সংস্পর্শ পাই| ’৭৭ থেকে ’৭৯ পর্যন্ত তাঁর ‘দরবার-ই-জহুর’ কলামটি পাঠকদের বেশ আলোড়িত করে| সাংবাদিকতায় আসার আগে-পরে তাঁর নাম ও খ্যাতি শুনেছি| এ কারণে তিনি সংবাদ-এ এলে তাঁর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করতাম| 

বাংলাকে সহজ ও সাবলীল করার এক অতুলনীয় ক্ষমতা ছিল জহুর হোসেন চৌধুরীর| সহকর্মী এবং জুনিয়রদের শেখানোর মানসিকতাও ছিল| জীবনের শেষ সময় প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনা থেকে একটুও বিচ্যুত হননি তিনি| জীবনের শেষদিকে তিনি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন| থাকতেন ধানমণ্ডিতে| সংবাদকর্মীদের অনেকেই মাঝেমধ্যে যেতেন তাঁকে দেখতে| আমিও গিয়েছি বেশ কয়েকবার| ১৯৮০ সালের ১১ ডিসে¤^র  তিনি মৃত্যুবরণ করেন| দেশের সব জাতীয় দৈনিকে তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ, কলাম ও সমালোচনামূলক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে| জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ˆদনিক সংবাদের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন|


সন্তোষ গুপ্ত

‘সংবাদ’-এ আমার পেশাগত শিক্ষকদের আরেকজন সন্তোষ গুপ্ত| একাধারে তিনি ছিলেন সাংবাদিক, কবি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট| সব কিছু ছাপিয়ে ছিলেন সাংবাদিকতা জগতের কিংবদন্তি| বাংলাদেশে বর্তমানে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত খ্যাতিমান সাংবাদিকের অনেকেই তাঁর হাতে ˆতরি| আলোর পথের এই দিশারীর জন্ম ১৯২৫ সালের ৯ জানুয়ারি, ঝালকাঠি জেলার রুনসী গ্রামে| ১৯৫৭ সালে তিনি সংবাদ-এ যোগদান করেন| প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে সাংবাতিকতা জগতে তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে বিচরণ করেছেন| দেশের সব জাতীয় ˆদনিকে তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ, কলাম ও সমালোচনামূলক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে| পাঠক মহলে সমাদৃত ছিল তাঁর লেখা ‘অনিরুদ্ধের কলাম’| 

সংবাদ তখন বামপন্থী নেতা-কর্মীদের মত প্রকাশের একটি অভয়স্থল| প্রায়শ ‘সংবাদ’-এ আসতেন মনি সিংহ, খোকা রায়, নেপাল নাগ, বারীন দত্ত প্রমুখ| জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি  সংবাদ-এর সিনিয়র সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন| সহকর্মীদের যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তিনি অর্জন করেছিলেন তার দৃষ্টান্ত কম| পাঠকসমাজ ও দেশবাসীর কাছে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন নীতি-আদর্শে অবিচল থাকার কারণে| 


সত্যেন সেন

সত্যেন সেন ১৯০৭ সালের ২৮শে মার্চ বিক্রমপুর (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলার) টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন| তার পিতার নাম ধরনীমোহন সেন এবং মাতার নাম মৃণালিনী সেন| কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি বিপ্লবী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন| তিনি ছিলেন ‘যুগান্তর’ দলের সদস্য| ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন| ১৯৫৬ সালে সংবাদের সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন সত্যেন সেন| তাঁর লেখার বড় একটি বিষয় ছিল বাংলার কৃষক আন্দোলন| ঘুরে বেড়ান গ্রামে-গঞ্জে| তারও আগেই তিনি মুন্সিগঞ্জ, নবাবগঞ্জে গড়ে তুলেন কৃষক সংগঠন| প্রায় একই সময়ে ঢাকা জেলা প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের উদ্যোক্তা হিসেবে গণসংগীত রচনা ও হাটে, মাঠে, কলকারখানায় নবজীবনের গান পরিবেশনে উদ্যোগী হন| 

১৯৬৮ সালে রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লা কায়সারসহ একঝাঁক তরুণকে নিয়ে গড়ে তোলেন সত্যেন সেন ‘উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’| এদেশের স্বাধীনতা, সাম্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে উদীচী আজও তার ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করছে| আমি যোগদানের পর তাঁকে পাইনি| তিনি তখন চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে| শুনেছি তাঁর হাতে গড়া সংগঠন ‘উদীচী’র সদস্যরা ১৯৭১ সালে তাঁকে কলকাতায় পৌঁছে দেন| 

আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের কারণে ১৯৫৮ সালেই তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়| মুক্তি পান ১৯৬৩ সালে| দীর্ঘ সময় কারাভোগে স্বাস্থ্য ভেঙে চোথের দৃষ্টি কমে যায়| ’৭২ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং সংবাদে আবার যোগদান করেন| দূর থেকে সত্যেন সেনকে দেখি| কাছে ঘেঁষার সাহস পাই না| তিনি তখন ফিচার নিয়ে ব্যস্ত| কিন্তু দিনে দিনে সত্যেনদার শারীরিক ও চোখের অবস্থার অবনতি হতে থাকে| অফিসে আসা বন্ধ হয়ে যায়| 

১৯৭৩ সালে তাঁর ইচ্ছায় তাঁকে পাঠানো হয় শান্তিনিকেতনে বোনের কাছে| সেখানে প্রায় অন্ধ অবস্থায় অনেকগুলো নিবন্ধ রচনা করেন| ১৯৮১ সালের ৫ জানুয়ারি তিনি সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন| সত্যেন সেন একজন নির্ভীক সাংবাদিক ছিলেন| জীবনে নানা ঘাত-প্রতিঘাত সত্ত্বেও তিনি কখনো আপোস করেননি| শোষিত, নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তাঁর কলম কখনো থেমে থাকেনি| 


রণেশ দাশগুপ্ত

সত্যেন সেনের সহযোদ্ধা রণেশ দাশগুপ্তও ছিলেন বহু ভাষাবিদ, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক| তাঁর জন্ম ১৯১২ সালে| তাঁদের আদি নিবাস মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানায়| বিহার ও বাঁকুড়ায় তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়| পরবর্তীতে তিনি বরিশালের বিএম কলেজে ভর্তি হন| কবি জীবনানন্দ দাশ ছিলেন তাঁর মামাতো ভাই| ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে তিনি কারারুদ্ধ হন| ১৯৫৫ সালে তিনি ‘সংবাদ’-এ যোগ দেন| ‘সংবাদ’কে প্রগতির মুখপত্র করে তুলতে তাঁর অসামান্য অবদান সর্বজনবিদিত| এদেশের সকল গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, সংস্কৃতিক আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন| ১৯৯৭ সালে রণেশদা ভারতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা অবস্থায় মারা যান| 

এছাড়াও ’৭৫ পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় সংবাদ-এ পেয়েছি ˆসয়দ নূরুদ্দিন, হাসান আলী, ড. রমনীমোহন দেবনাথ, কেজি মুস্তাফা, এবিএম মূসা, আউয়াল খান, তোহা খান, সাইয়িদ আতীকুল্লাহ, এন এম হারুন, হাসান ফেরদৌস, জীবন চৌধুরী, ড. মকবুলার রহমান, খন্দকার মুনীরুজ্জামান, মোজাম্মেল হোসেন মন্টু, হারুনুর রশীদ খান, আতাউর রহমান, তোজাম্মেল আলী, এম আর বাদল, আবুল হাসনাত, চপল  বাশার, দাউদ হায়দার, ¯^পন দত্ত, সোহরাব হাসান, মিনার মনসুর, বেবী মওদুদ, সিতাংশু গুহ, সিকান্দার আবু জাফর, জি এম ইয়াকুব, রশিদ তালুকদার, মোনাজাতউদ্দীন, কার্তিক চ্যাটার্জি, মোহাম্মদ ফরহাদ, মোহাম্মদ আলম, শফিকুল আলম কাজল, মতিউর রহমান চৌধুরী, আশরাফ খান, বশির আহমদ, মনজুরুল আহসান বুলবুল, অজয় বড়ুয়া, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, আমীর খসরু, কার্তিক চ্যাটার্জি, বীরেন সোম, প্রফুল্ল ভক্ত, রেজোয়ানুল হক রাজা, শওকত হোসেন মাসুম, সালাম জুবায়ের, হাসান মামুন, মোতাহের হোসেন মাসুম, মনির হোসেন লিটন, নাসিমুন্নাহার নিনি, লুৎফর রহমান বিনু, মুফতি মনির, শওকত জামিল, সাইফুল আমীন, জাফর ওয়াজেদ, মনোজ রায়, হারুনুর রশীদ, আদিলা বকুল, রঞ্জন সেন, বাকী বিল্লাহ, সন্তোষ মণ্ডলসহ আরও অনেককে| তাঁদের অনেকেই আমাদের মাঝে নেই! যাঁরা আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, হাতেগোনা কয়েকজন বেঁচে আছেন, তাঁদের সবারই বয়স হয়ে গেছে| তাঁরা দীর্ঘায়ু হোন, এই প্রত্যাশা ও দোয়া রইল| সংবাদ-এ অগ্রজরা যেভাবে অনুজদের-সহযোগিতা দিয়েছেন দেশের আর কোনো সংবাদমাধ্যমে তা এভাবে ছিল বা আছে কি-না আমার জানা নেই| মনে পড়ে সংবাদকর্মী ইয়াসীন, নূরু ও আহমদ হোসেনকে| সত্যিকার অর্থে সংবাদ একটি পরিবার এবং প্রতিষ্ঠান| 


শহীদুল্লা কায়সার

শহীদুল্লা কায়সার ছিলেন একজন স্বনামধন্য সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী| তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লা| ১৯৪৯ সালে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিচালিত সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন| পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে দৈনিক ‘সংবাদ’-এর সম্পাদকীয় বিভাগে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন| এ বছরই অক্টোবরে তিনি গ্রেফতার হন| ১৯৬২ সালে মুক্তি পেয়ে পুনরায় দৈনিক সংবাদে ফিরে আসেন এবং তাঁর পরবর্তী জীবন এখানেই অতিবাহিত হয়|

শহীদুল্লা কায়সার সমসাময়িক রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন| ১৯৪৭ সালে তিনি তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ও ১৯৫১ সালে পার্টির সদস্য হন| পরবর্তীতে পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন| তিনি দেশপ্রেমিক ছদ্মনামে ‘রাজনৈতিক পরিক্রমা’ ও বিশ্বকর্মা ছদ্মনামে ‘বিচিত্রা কথা’ শীর্ষক উপ-সম্পাদকীয় লিখতেন|

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন এবং ভাষা আন্দোলনে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে ১৯৫২ সালের ৩ জুন গ্রেফতার হন| এ সময় তাঁকে সাড়ে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়| ১৯৫৫ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই পুনরায় গ্রেফতার হয়ে কয়েক বছর পর মুক্তি পান| ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর আইয়ুব খান কর্তৃক সামরিক আইন জারি হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ১৪ অক্টোবর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়| জননিরাপত্তা আইনে তাঁকে ১৯৬২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আটক রাখা হয়| 

তিনি ১৯৬৯ সালে উপন্যাসে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে সাংবাদিকতায় মরণোত্তর একুশে পদক এবং ১৯৯৮ সাহিত্যে অবদান রাখায় মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন|

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তার স্থানীয় সহযোগী আল-বদরের হাতে তিনি অপহৃত ও নিহত হন| শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মাজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন|

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


‘সংবাদ’ ও তার আদর্শিক সাংবাদিকতা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

পাকিস্তান সৃষ্টির পর তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা থেকে প্রকাশিত ˆদনিক পত্রিকা ‘সংবাদ’| কলকাতা থেকে প্রথম প্রকাশিত ও পরে ঢাকায় স্থানান্তরিত ‘আজাদ’ ছিল তখন সর্বাধিক প্রচারিত ˆদনিক পত্রিকা| ‘সংবাদ’-এর আগে বাংলা শব্দে কোনো ˆদনিক পত্রিকার নামও ছিল না| সব পত্রিকার নাম রাখা হতো ফার্সি, উর্দু বা সংস্কৃত শব্দে| এই অর্থে ‘সংবাদ’ ছিল ইতিহাস সৃষ্টিকারী|   

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ‘সংবাদ’-এ কর্মরত সংবাদকর্মীদের অধিকাংশই ছিলেন প্রগতিমনা, আর রাজনৈতিক আদর্শগতভাবে প্রগতিশীল ঘরানার| ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক বিজয় ও মুসলিম লীগের ভূমিধস ভরাডুবির পর পরিবর্তন আসে সংবাদের মালিকানায়| প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং ব্যাংকার মরহুম খায়রুল কবির সংবাদের দায়িত্ব দেন তাঁর অনুজ আহমদুল কবিরকে| তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সংবাদ-এ নতুন স্পন্দন জাগে| একদিকে জনগণের প্রতি সংবাদ-এর অঙ্গীকার, অন্যদিকে জনগণের আকাঙ্ক্ষাও ছিল সংবাদের প্রতি| অঙ্গীকার এবং আকাঙ্ক্ষার সম্মিলনে বেড়ে যায় দায়িত্ব| সেই সাথে বেড়ে যায় কাজের গতি| ফলে সংবাদ গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদসহ প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি পৃষ্ঠপোষকতা করতে থাকে| বিশেষ করে প্রকাশ্যে সমর্থন জানায় বাম ও প্রগতিশীল ধারার রজনীতিকে| 

পরিণতিতে পাকিস্তান আমালে পুরো সময়টাতে সংবাদকে অনেক আঘাত সইতে হয়| আহমদুল কবির, জহুর হোসেন চৌধুরী, সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লা কায়সার, আলী আকসাদ, বজলুর রহমান, সন্তোষ গুপ্ত, মীর মাহবুব আলী অবতীর্ণ হন আরও সাহসী ভূমিকায়| তাঁরা ˆ¯^রাচারী সামরিক শাসক আইয়ুব খানের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সংবাদকে গড়ে তোলেন জনগণের নির্ভরতা ও আস্থার মুখপত্র হিসেবে| এ কাজ করতে গিয়ে সংবাদের অনেক সাংবাদিককে ভোগ করতে হয়েছে অবর্ণনীয় নির্যাতন-নীপিড়ন| শুধু তাই নয়, কারাভোগও করতে হয়েছে অনেককে| ’৬২-এর ছাত্র আন্দোলন, ’৬৬-এর  বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৮-৬৯-এর আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থানে সংবাদ আকুণ্ঠ সমর্থন দেয়| জনমত গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখে জনগণকে সংগঠিত করতে| পরিণামে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্বেই পাকিস্তানি হানাদাররা টার্গেট করে ‘সংবাদ’কে| পুরান ঢাকার ২৬৩, বংশাল রোডের সংবাদ অফিসটি পুড়িয়ে দেয় তারা| অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান সংবাদকর্মী, কবি ও গল্পকার শহীদ সাবের| সংবাদের সাংবাদিকদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন| কারানির্যাতন ভোগ করেন আহমদুল কবিরসহ অনেকেই| ’৭১-এর ১৪ ডিসে¤^র অন্যান্য বুদ্ধিজীবীর সাথে শহিদ হন সংবাদের বার্তা সম্পাদক শহীদুল্লা কায়সার| 

স্বাধীনতার কিছুদিন পর ধর্মনিরেপেক্ষতা, গণতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে নবউদ্যমে প্রকাশিত হয় সংবাদ| ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর মোশতাক-জিয়ার পাকিস্তানি ধারার রাজনীতির বিরুদ্ধেও ‘সংবাদ’ শক্ত অবস্থান নেয়| তোলপাড় সৃষ্টি করে জহুর হোসেন চৌধুরী, আবু জাফর শামসুদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সন্তোষ গুপ্ত, বজলুর রহমানের তেজ¯^ী লেখনী| সেইসব লেখা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে জোগায় প্রেরণা| 

সংবাদ কখনও ভয়ে স্বৈরাচারবিরোধী অঙ্গীকার থেকে পিছু হটেনি| এ বিষয়ে গুণমান ˆবশিষ্ট্য প্রশ্নে অন্য কোনো পত্রিকার সাথে সংবাদের তুলনা চলে না| ’৮২ সালে সামরিক শাসন জারি করে জেনারেল এরশাদের ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধেও সংবাদ তার অঙ্গীকার অনুযায়ী সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী ভূমিকা পালন করে| এরশাদের নয় বছরের শাসন আমলেও সংবাদের উপর বেশ কবার আঘাত আসে| কয়েকবার চেষ্টা চালানো হয় সংবাদ বন্ধ করে দেয়ার| 

পাঁচ দশকের পেশাগত জীবনে লক্ষ্য করেছি অসত্য-অন্যায়ের কাছে সংবাদ কখনও মাথা নিচু করেনি| এ দীক্ষা ও মন্ত্র সংবাদকর্মীদের শিখিয়েছেন এখানকার নিবেদিত সিনিয়ররা| সততা এবং ন্যায়-নীতি, প্রগতিতে অটল থাকার এ ˆবশিষ্ট্য ˆদনিক সংবাদ ধরে রাখার চেষ্টা করছে আজও| 


আমার অভিভাবক আহমদুল কবির

আমার প্রথম সম্পাদক আমদুল কবির| শিক্ষা ও মেধায় এক অনন্য ব্যক্তিত্ব তিনি| রাজনীতি, সাংবাদিকতা, ব্যবসা এবং পারিবারিক সমৃদ্ধি প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফল ব্যক্তিটি আমাদের ছেড়ে চলে যান ২০০৩ সালের ২৪ নভেম্বর|

ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের এই মানুষটিকে সম্পাদক হিসেবে পাওয়া  আমার সৌভাগ্য| নরসিংদীর ঘোড়াশালের ঐতিহ্যবাহী মিয়া পরিবারে তাঁর জন্ম| বিত্ত-বৈভবে বড় হয়েছেন তিনি| তাদানীন্তন পাকিস্তানের রাজনীতিতে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল যে ধারা এ দেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিপুল জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক চেতনাকে নাড়া দিয়েছিল তার অগ্রভাগে ছিলেন আহমদুল কবির| 

আহমদুল কবিরের ডাকনাম মনু মিয়া| জন্ম ১৯২৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি| বাবা মরহুম আবু ইউসুফ লুৎফুল কবির| মা মরহুমা সুফিয়া খাতুন| অর্থনীতির ছাত্র আহমদুল কবির ছিলেন একজন শিল্পাদ্যোক্তাও| এদেশের শিল্প-বাণিজ্য প্রসারে ছিল তাঁর সক্রিয় অবদান| তাঁর বিচরণক্ষেত্র ছিল ব্যাপক ও বহুমুখী| ১৯৪২-৪৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন| 

অর্থনীতিতে গ্রাজুয়েশন লাভ করার পর তিনি রির্জাভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় যোগ দেন| দায়িত্ব পালন করেন ফরেন এক্সচেঞ্জ বিভাগের প্রধান হিসেবে| সরকারি চাকরি ছেড়ে ১৯৫৪ সালে তিনি নিজের ব্যবসায় এবং রাজনীতিতে সময় দিতে শুরু করেন| 

তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) এবং ¯^াধীনতাপরবর্তীতে ১৯৭৯ ও ১৯৮৬ সালে নরসিংদী-২ (পলাশ-শিবপুর) নির্বাচনী এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন| হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগে বিভক্তি দেখা দেয়| ওই বছরের ২৫ জুলাই মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয় ন্যাশলান আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)| পাকিস্তান ন্যাপের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আহমদুল কবিরের প্রজ্ঞা ও ভূমিকা সে সময় সারা দেশে প্রশংসিত হয়| 

আহমদুল কবির দীর্ঘদিন কৃষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন| আশির দশকে তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় গণতন্ত্রী পার্টি| আমৃত্যু তিনি এ দলের সভাপতি ছিলেন| ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ২৬৩, বংশাল রোডের সংবাদ অফিস পুড়িয়ে দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে| মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা সংবাদ প্রকাশের জন্য তাঁকে অনেক প্রলোভন দেখায়| কিন্তু তিনি প্রলোভনের কাছে মাথা নত করনেননি| ¯^াধীনতার পর জেল থেকে মুক্তি পেয়ে সংবাদ প্রকাশ করা শুরু করেন| ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে তিনি সম্পাদকের দায়িত্ব নেন| পরে প্রধান সম্পাদক হন| আমৃত্যু তিনি এ দায়িত্ব পালন করেছেন| 

আহমদুল কবিরের স্ত্রী লায়লা কবির দেশের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী| তাঁর বড় ছেলে আলতামাশ কবির সংবাদ-এর বর্তমান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক| দ্বিতীয় ছেলে আরদাশির কবির দেশের বিশিষ্ট চা-ব্যবসায়ী| একমাত্র মেয়ে নিহাদ কবির বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল| বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন এবং মেট্রোপলিটন চে¤^ার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) একাধিকবারের সাবেক প্রেসিডেন্ট| তিনি ব্রাক ব্যাংকের পরিচালকসহ আরো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং করছেন| সংবাদ নামের সাংবাদিকতার এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বুনিয়াদ ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রয়াত আহমদুল কবিরের পরিবারের সবার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ|

১৯৫৪ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ভূমিধস বিজয় এবং মুসলিম লীগের ভরাডুবির পর সংবাদ বন্ধের উপক্রম হয়| এ সময় খায়রুল কবিরের প্রচেষ্টায় সংবাদকে বাঁচিয়ে রাখতে অর্থ সহায়তায় এগিয়ে আসেন| খায়রুল কবির তখন মুসলিম লীগের পত্রিকায় কাজ করলেও চিন্তাচেতনায় ছিলেন প্রগতিশীল| আহমদুল কবির ওই সময় থেকে সংবাদ-এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন| সংবাদ হয়ে ওঠে প্রগতিশীল ও মেহনতী মানুষের পত্রিকা এবং পর্যায়ে সক্রিয়, আদর্শবান, জাতীয়তাবাদী চেতনাসম্পন্ন সাংবাদিক ˆতরির প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে ˆদনিক সংবাদ| 

সংবাদ-এ পেশগত জীবন শুরু করে জ্ঞান, মেধা অর্জন করে; অন্য পত্রিকায় গিয়ে সাংবাদিক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন অনেকে| বাংলাদেশের সংবাদপত্রের জগতে এমন কোনো সংবাদ মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে সংবাদের সাংবাদিক বা কর্মী নেই| সংবাদের সাংবাদিকদের মধ্যে পেশায় আদর্শবাদী ও সত্যনিষ্ঠ হওয়ার চেতনার বীজ রোপণ করেছিলেন আহমদুল কবির| পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রগতিশীল রাজনীতির চেহারা সুরত অনেক পাল্টে গেলেও সংবাদ তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি, পাল্টায়নি তার চেতনাও| পুরো ব্যপারটিই ঘটেছে আহমদুল কবিরের কারণে| একজন চারণ শিক্ষকের পক্ষেই এটা সম্ভব|


বজলুর রহমান: প্রকৃতির মেধাভাণ্ডার

বজলু ভাই| আমার পেশাগত শিক্ষক, অভিভাবকও| পেশাগত জীবনে বজলুর রহামনের মতো একজন অভিভাবক আমার জীবনের এক চরম পাওয়া| তাঁর গুণাবলি, মেধা ও ˆবশিষ্ট্যগুলোর অনেক কিছুই যেন অনাবিষ্কৃত থেকে গেছে| জীবদ্দশাতেও মনে হতো এত কাছ থেকেও তাকে পুরোপুরি আবিষ্কার করতে পারছি না| একজন মানুষের এক সঙ্গে কত গুণ থাকতে পারে তা ভাবতে অবাক লাগে| 

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা জগতের অন্যতম পুরোধা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান| সত্য, সুন্দর ও মার্জিত বৈশিষ্ট্যগুলো তিনি কর্মক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন| আবার নিজের আদর্শকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্যের আদর্শকে তিনি অবজ্ঞা করেননি কখনও| মেধা জ্ঞান ও যুক্তির মাধ্যমেই সবকিছু বিবেচনার চেষ্টা করতেন বজলু ভাই| স্বাধীনতার পূর্বাপর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অনেক সিঁড়ি মাড়িয়েছেন তিনি| ’৬২-র শিক্ষা আন্দোলন ’৬৬-র ছয় দফা, ’৬৮-’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন ভূমিকা ছিল তাঁর| ’৯০- এর ˆ¯^রাচারী আন্দোলনে তার ভূমিকা তো আমার একেবারে কাছ থেকেই দেখা| 

বজলুর রহমান দীর্ঘ পেশাগত জীবনে সংবাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন| দীর্ঘ সময়ে তাঁর সংস্পর্শ পেয়েছি| এ সুযোগে তার কাছ থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করেছি| সংবাদ ছাড়াও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, প্রেস ইনস্টিটিউট, প্রেস কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন| কাজ করেছেন ˆদনিক ইত্তেফাকেও| বেশ কয়েক বছর সাপ্তাহিক একতার সম্পাদকও ছিলেন তিনি| আমি তাঁকে পেয়েছি সংবাদের সহকারী সম্পদক হিসেবে| তিনি ১৯৬১ সালে সংবাদের সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন| পরে সম্পাদকের দায়িত্ব নেন| ব্যক্তিগত জীবনে বজলুর রহমান সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরীর ¯^ামী| 

অর্থনীতির ছাত্র বজলুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি শেষে পর্যক্রমে সার্বক্ষণিক সাংবাদিকতায় মনোনিবেশ করেন| ষাটের দশকে একইসাথে তিনি গোপন কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ, আফ্রো-এশীয় গণসংহতি আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন| খেলাঘরের ভাইয়া হিসেবেও সবার কাছে ছিলেন জনপ্রিয়| তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞা, সাধারণ জীবন-যাপন আমার জন্য প্রেরণা| ৬৭ বছরের জীবনে চিরকালই বজলু ভাই নিজেকে সমর্পিত করেছেন প্রাচুর্যবিহীন জীবনযাপনের কাছে| কিন্তু যুক্তিতে চিন্তায় মেধায় যে জীবন তিনি ˆতরি করছিলেন, তার পাশে দাঁড়নোর শক্তি খুব কম মানুষেরই আছে| জাগতিক মোহকে তুচ্ছ করা এই মানুষটি ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আমাদের ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে| মীরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়| বজলু ভাই সাংবাদিকতায় শুধু আমারই নন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকদের অনেকেরই তিনি শিক্ষাগুরু| তাঁর নিউজ সেন্স, এডিটিং এবং ট্রিটমেন্ট বিষয়ক জ্ঞানকে কখনও কখনও মনে হতো ঐশ্বরিক বা প্রকৃতিগত|


জহুর হোসেন চৌধুরী

সংবাদকে ঐতিহ্য ও যশ-খ্যাতির শিখরে নিয়ে যাওয়া অগ্রজদের অন্যতম একজন ছিলেন জহুর হোসেন চৌধুরী| তিনি একাধারে সম্পাদক, কলাম লেখক ও রাজনীতিবিদ| বিভিন্ন সময়ে সংবাদের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন তিনি| সরাসরি তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ আমার হয়নি| স্বাধীনতার পর নতুন আঙ্গিকে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি একটি ভকসওয়াগন গাড়ি নিয়ে মাঝেমধ্যে অফিসে আসতেন| ওই সময় অনিয়মিতভাবে তাঁর সংস্পর্শ পাই| ’৭৭ থেকে ’৭৯ পর্যন্ত তাঁর ‘দরবার-ই-জহুর’ কলামটি পাঠকদের বেশ আলোড়িত করে| সাংবাদিকতায় আসার আগে-পরে তাঁর নাম ও খ্যাতি শুনেছি| এ কারণে তিনি সংবাদ-এ এলে তাঁর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করতাম| 

বাংলাকে সহজ ও সাবলীল করার এক অতুলনীয় ক্ষমতা ছিল জহুর হোসেন চৌধুরীর| সহকর্মী এবং জুনিয়রদের শেখানোর মানসিকতাও ছিল| জীবনের শেষ সময় প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনা থেকে একটুও বিচ্যুত হননি তিনি| জীবনের শেষদিকে তিনি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন| থাকতেন ধানমণ্ডিতে| সংবাদকর্মীদের অনেকেই মাঝেমধ্যে যেতেন তাঁকে দেখতে| আমিও গিয়েছি বেশ কয়েকবার| ১৯৮০ সালের ১১ ডিসে¤^র  তিনি মৃত্যুবরণ করেন| দেশের সব জাতীয় দৈনিকে তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ, কলাম ও সমালোচনামূলক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে| জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ˆদনিক সংবাদের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন|


সন্তোষ গুপ্ত

‘সংবাদ’-এ আমার পেশাগত শিক্ষকদের আরেকজন সন্তোষ গুপ্ত| একাধারে তিনি ছিলেন সাংবাদিক, কবি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট| সব কিছু ছাপিয়ে ছিলেন সাংবাদিকতা জগতের কিংবদন্তি| বাংলাদেশে বর্তমানে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত খ্যাতিমান সাংবাদিকের অনেকেই তাঁর হাতে ˆতরি| আলোর পথের এই দিশারীর জন্ম ১৯২৫ সালের ৯ জানুয়ারি, ঝালকাঠি জেলার রুনসী গ্রামে| ১৯৫৭ সালে তিনি সংবাদ-এ যোগদান করেন| প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে সাংবাতিকতা জগতে তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে বিচরণ করেছেন| দেশের সব জাতীয় ˆদনিকে তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ, কলাম ও সমালোচনামূলক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে| পাঠক মহলে সমাদৃত ছিল তাঁর লেখা ‘অনিরুদ্ধের কলাম’| 

সংবাদ তখন বামপন্থী নেতা-কর্মীদের মত প্রকাশের একটি অভয়স্থল| প্রায়শ ‘সংবাদ’-এ আসতেন মনি সিংহ, খোকা রায়, নেপাল নাগ, বারীন দত্ত প্রমুখ| জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি  সংবাদ-এর সিনিয়র সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন| সহকর্মীদের যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তিনি অর্জন করেছিলেন তার দৃষ্টান্ত কম| পাঠকসমাজ ও দেশবাসীর কাছে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন নীতি-আদর্শে অবিচল থাকার কারণে| 


সত্যেন সেন

সত্যেন সেন ১৯০৭ সালের ২৮শে মার্চ বিক্রমপুর (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলার) টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন| তার পিতার নাম ধরনীমোহন সেন এবং মাতার নাম মৃণালিনী সেন| কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি বিপ্লবী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন| তিনি ছিলেন ‘যুগান্তর’ দলের সদস্য| ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন| ১৯৫৬ সালে সংবাদের সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন সত্যেন সেন| তাঁর লেখার বড় একটি বিষয় ছিল বাংলার কৃষক আন্দোলন| ঘুরে বেড়ান গ্রামে-গঞ্জে| তারও আগেই তিনি মুন্সিগঞ্জ, নবাবগঞ্জে গড়ে তুলেন কৃষক সংগঠন| প্রায় একই সময়ে ঢাকা জেলা প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের উদ্যোক্তা হিসেবে গণসংগীত রচনা ও হাটে, মাঠে, কলকারখানায় নবজীবনের গান পরিবেশনে উদ্যোগী হন| 

১৯৬৮ সালে রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লা কায়সারসহ একঝাঁক তরুণকে নিয়ে গড়ে তোলেন সত্যেন সেন ‘উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’| এদেশের স্বাধীনতা, সাম্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে উদীচী আজও তার ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করছে| আমি যোগদানের পর তাঁকে পাইনি| তিনি তখন চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে| শুনেছি তাঁর হাতে গড়া সংগঠন ‘উদীচী’র সদস্যরা ১৯৭১ সালে তাঁকে কলকাতায় পৌঁছে দেন| 

আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের কারণে ১৯৫৮ সালেই তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়| মুক্তি পান ১৯৬৩ সালে| দীর্ঘ সময় কারাভোগে স্বাস্থ্য ভেঙে চোথের দৃষ্টি কমে যায়| ’৭২ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং সংবাদে আবার যোগদান করেন| দূর থেকে সত্যেন সেনকে দেখি| কাছে ঘেঁষার সাহস পাই না| তিনি তখন ফিচার নিয়ে ব্যস্ত| কিন্তু দিনে দিনে সত্যেনদার শারীরিক ও চোখের অবস্থার অবনতি হতে থাকে| অফিসে আসা বন্ধ হয়ে যায়| 

১৯৭৩ সালে তাঁর ইচ্ছায় তাঁকে পাঠানো হয় শান্তিনিকেতনে বোনের কাছে| সেখানে প্রায় অন্ধ অবস্থায় অনেকগুলো নিবন্ধ রচনা করেন| ১৯৮১ সালের ৫ জানুয়ারি তিনি সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন| সত্যেন সেন একজন নির্ভীক সাংবাদিক ছিলেন| জীবনে নানা ঘাত-প্রতিঘাত সত্ত্বেও তিনি কখনো আপোস করেননি| শোষিত, নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তাঁর কলম কখনো থেমে থাকেনি| 


রণেশ দাশগুপ্ত

সত্যেন সেনের সহযোদ্ধা রণেশ দাশগুপ্তও ছিলেন বহু ভাষাবিদ, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক| তাঁর জন্ম ১৯১২ সালে| তাঁদের আদি নিবাস মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানায়| বিহার ও বাঁকুড়ায় তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়| পরবর্তীতে তিনি বরিশালের বিএম কলেজে ভর্তি হন| কবি জীবনানন্দ দাশ ছিলেন তাঁর মামাতো ভাই| ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে তিনি কারারুদ্ধ হন| ১৯৫৫ সালে তিনি ‘সংবাদ’-এ যোগ দেন| ‘সংবাদ’কে প্রগতির মুখপত্র করে তুলতে তাঁর অসামান্য অবদান সর্বজনবিদিত| এদেশের সকল গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, সংস্কৃতিক আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন| ১৯৯৭ সালে রণেশদা ভারতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা অবস্থায় মারা যান| 

এছাড়াও ’৭৫ পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় সংবাদ-এ পেয়েছি ˆসয়দ নূরুদ্দিন, হাসান আলী, ড. রমনীমোহন দেবনাথ, কেজি মুস্তাফা, এবিএম মূসা, আউয়াল খান, তোহা খান, সাইয়িদ আতীকুল্লাহ, এন এম হারুন, হাসান ফেরদৌস, জীবন চৌধুরী, ড. মকবুলার রহমান, খন্দকার মুনীরুজ্জামান, মোজাম্মেল হোসেন মন্টু, হারুনুর রশীদ খান, আতাউর রহমান, তোজাম্মেল আলী, এম আর বাদল, আবুল হাসনাত, চপল  বাশার, দাউদ হায়দার, ¯^পন দত্ত, সোহরাব হাসান, মিনার মনসুর, বেবী মওদুদ, সিতাংশু গুহ, সিকান্দার আবু জাফর, জি এম ইয়াকুব, রশিদ তালুকদার, মোনাজাতউদ্দীন, কার্তিক চ্যাটার্জি, মোহাম্মদ ফরহাদ, মোহাম্মদ আলম, শফিকুল আলম কাজল, মতিউর রহমান চৌধুরী, আশরাফ খান, বশির আহমদ, মনজুরুল আহসান বুলবুল, অজয় বড়ুয়া, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, আমীর খসরু, কার্তিক চ্যাটার্জি, বীরেন সোম, প্রফুল্ল ভক্ত, রেজোয়ানুল হক রাজা, শওকত হোসেন মাসুম, সালাম জুবায়ের, হাসান মামুন, মোতাহের হোসেন মাসুম, মনির হোসেন লিটন, নাসিমুন্নাহার নিনি, লুৎফর রহমান বিনু, মুফতি মনির, শওকত জামিল, সাইফুল আমীন, জাফর ওয়াজেদ, মনোজ রায়, হারুনুর রশীদ, আদিলা বকুল, রঞ্জন সেন, বাকী বিল্লাহ, সন্তোষ মণ্ডলসহ আরও অনেককে| তাঁদের অনেকেই আমাদের মাঝে নেই! যাঁরা আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, হাতেগোনা কয়েকজন বেঁচে আছেন, তাঁদের সবারই বয়স হয়ে গেছে| তাঁরা দীর্ঘায়ু হোন, এই প্রত্যাশা ও দোয়া রইল| সংবাদ-এ অগ্রজরা যেভাবে অনুজদের-সহযোগিতা দিয়েছেন দেশের আর কোনো সংবাদমাধ্যমে তা এভাবে ছিল বা আছে কি-না আমার জানা নেই| মনে পড়ে সংবাদকর্মী ইয়াসীন, নূরু ও আহমদ হোসেনকে| সত্যিকার অর্থে সংবাদ একটি পরিবার এবং প্রতিষ্ঠান| 


শহীদুল্লা কায়সার

শহীদুল্লা কায়সার ছিলেন একজন স্বনামধন্য সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী| তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লা| ১৯৪৯ সালে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিচালিত সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন| পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে দৈনিক ‘সংবাদ’-এর সম্পাদকীয় বিভাগে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন| এ বছরই অক্টোবরে তিনি গ্রেফতার হন| ১৯৬২ সালে মুক্তি পেয়ে পুনরায় দৈনিক সংবাদে ফিরে আসেন এবং তাঁর পরবর্তী জীবন এখানেই অতিবাহিত হয়|

শহীদুল্লা কায়সার সমসাময়িক রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন| ১৯৪৭ সালে তিনি তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ও ১৯৫১ সালে পার্টির সদস্য হন| পরবর্তীতে পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন| তিনি দেশপ্রেমিক ছদ্মনামে ‘রাজনৈতিক পরিক্রমা’ ও বিশ্বকর্মা ছদ্মনামে ‘বিচিত্রা কথা’ শীর্ষক উপ-সম্পাদকীয় লিখতেন|

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন এবং ভাষা আন্দোলনে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে ১৯৫২ সালের ৩ জুন গ্রেফতার হন| এ সময় তাঁকে সাড়ে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়| ১৯৫৫ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই পুনরায় গ্রেফতার হয়ে কয়েক বছর পর মুক্তি পান| ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর আইয়ুব খান কর্তৃক সামরিক আইন জারি হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ১৪ অক্টোবর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়| জননিরাপত্তা আইনে তাঁকে ১৯৬২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আটক রাখা হয়| 

তিনি ১৯৬৯ সালে উপন্যাসে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে সাংবাদিকতায় মরণোত্তর একুশে পদক এবং ১৯৯৮ সাহিত্যে অবদান রাখায় মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন|

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তার স্থানীয় সহযোগী আল-বদরের হাতে তিনি অপহৃত ও নিহত হন| শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মাজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন|


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত