সংবাদ

সালমান শাহ’র মরদেহ তোলার নির্দেশ বাতিল


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

সালমান শাহ’র মরদেহ তোলার নির্দেশ বাতিল

ঢালিউডের কালজয়ী চিত্রনায়ক সালমান শাহ-এর মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর, তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের পূর্ববর্তী আদেশটি বাতিল করেছেন আদালত। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কায় মামলার বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদী ও সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "৩০ বছর পর মরদেহ উত্তোলন করলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগবে এবং তদন্তের জন্য নতুন করে কিছুই পাওয়া যাবে না। তাছাড়া হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে মরদেহ উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হতে পারে। বাদী মো. আলমগীর কুমকুম এবং সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর এ বিষয়ে তীব্র আপত্তি রয়েছে। তাই আমরা আবেদনটি করেছিলাম এবং আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।"

এর আগে, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ মরদেহ কবর থেকে তুলে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন জানিয়েছিলেন। যার প্রেক্ষিতে গত ২৪ মে আদালত মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিলেন।

গত বছরের ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে চিত্রনায়িকা সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র অভিনেতা ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমানের সাথে দেখা করতে যান। সেখান থেকে মা ও ভাইয়ের সিলেট যাওয়ার কথা ছিল।

বাসায় যাওয়ার পর সালমানের স্ত্রী সামিরা এবং গৃহকর্মী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। একই সময়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও দেখা করতে এলে সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে সবাই পরে দেখা করার কথা বলে বাসা থেকে চলে যান।

এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়ে পরিবার দ্রুত বাসায় গিয়ে দেখতে পান, সালমান শোবার ঘরে পড়ে আছেন। সে সময় রুবী নামের এক নারীসহ কয়েকজন বহিরাগত সালমানের হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।

পরবর্তীতে সালমানকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখা যায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং জানান যে, বেশ কিছুক্ষণ আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


সালমান শাহ’র মরদেহ তোলার নির্দেশ বাতিল

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

ঢালিউডের কালজয়ী চিত্রনায়ক সালমান শাহ-এর মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর, তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের পূর্ববর্তী আদেশটি বাতিল করেছেন আদালত। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কায় মামলার বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদী ও সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "৩০ বছর পর মরদেহ উত্তোলন করলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগবে এবং তদন্তের জন্য নতুন করে কিছুই পাওয়া যাবে না। তাছাড়া হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে মরদেহ উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হতে পারে। বাদী মো. আলমগীর কুমকুম এবং সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর এ বিষয়ে তীব্র আপত্তি রয়েছে। তাই আমরা আবেদনটি করেছিলাম এবং আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।"

এর আগে, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ মরদেহ কবর থেকে তুলে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন জানিয়েছিলেন। যার প্রেক্ষিতে গত ২৪ মে আদালত মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিলেন।

গত বছরের ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে চিত্রনায়িকা সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র অভিনেতা ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমানের সাথে দেখা করতে যান। সেখান থেকে মা ও ভাইয়ের সিলেট যাওয়ার কথা ছিল।

বাসায় যাওয়ার পর সালমানের স্ত্রী সামিরা এবং গৃহকর্মী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। একই সময়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও দেখা করতে এলে সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে সবাই পরে দেখা করার কথা বলে বাসা থেকে চলে যান।

এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়ে পরিবার দ্রুত বাসায় গিয়ে দেখতে পান, সালমান শোবার ঘরে পড়ে আছেন। সে সময় রুবী নামের এক নারীসহ কয়েকজন বহিরাগত সালমানের হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।

পরবর্তীতে সালমানকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখা যায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং জানান যে, বেশ কিছুক্ষণ আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত