সংবাদ

খাজানগরের আকাশে ছাইয়ের বৃষ্টি, বিপন্ন জনস্বাস্থ্য


মিজানুর রহমান লাকী, কুষ্টিয়া
মিজানুর রহমান লাকী, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম

খাজানগরের আকাশে ছাইয়ের বৃষ্টি, বিপন্ন জনস্বাস্থ্য
কুষ্টিয়ার খাজানগরে রাইস মিলের বিষাক্ত ছাই ও বর্জ্য দূষণে বিপর্যস্ত জনজীবন। ছবি : সংবাদ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর। এখানে ছোট-বড় প্রায় ৪০০ চাল কল দিন-রাত সচল থাকলেও নেই ন্যূনতম পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। মিলগুলো থেকে নির্গত বিষাক্ত ছাই ও ধোঁয়া ওড়ছে আকাশে, আর বর্জ্য মেশানো বিষাক্ত পানি সরাসরি গিয়ে পড়ছে পাশের খাল ও জলাশয়ে। দীর্ঘদিনের এই দূষণে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন এখন ওষ্ঠাগত।

এমন অরাজক পরিস্থিতির মুখে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গঠিত ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি বুধবার (২৯ জুলাই) খাজানগরের বেশ কিছু রাইস মিল সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে সভাপতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালককে সদস্যসচিব করে গঠিত এই কমিটি দিনভর পাঁচটি বড় মিলে তদন্ত চালায়।

পরিদর্শনে দেখা গেছে, সনি অ্যাগ্রো ফুড, জাহিদ অটো রাইস মিল, শামীম অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস, মা-বাবার দোয়া ও সাজিম রাইস মিলের কোনোটিতেই বর্জ্য পানি শোধনের আধুনিক ব্যবস্থা নেই। দূষিত পানি সরাসরি পাইপের মাধ্যমে আশপাশের জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। সনি অ্যাগ্রো ও জাহিদ অটো রাইস মিলে ছাই নিয়ন্ত্রণের ন্যূনতম প্রযুক্তিও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মিলের ছাই ও ধুলার কারণে পুরো এলাকায় বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। ঘরের আসবাব থেকে শুরু করে খাবার—সবই ঢেকে যাচ্ছে কালো ছাইয়ে। সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী শিশু ও বৃদ্ধরা। তারা নিয়মিত শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, চোখের প্রদাহ ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

তদন্ত কমিটির সদস্য কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক (ভূমি ও রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, পরিদর্শনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মগুলো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদুল হক জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা রাইস মিলগুলোতে আছে কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে শোধনাগার বা ছাই নিয়ন্ত্রক যন্ত্র নেই, তাদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। এরপরও সংশোধন না হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আল-ওয়াজিউর রহমান সংবাদকে বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে প্রথম তদন্তে অনেক গুরুতর অনিয়ম নজরে এসেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে মৌখিক সতর্কতা দিয়েছি। দ্রুতই লিখিতভাবে তাদের সময় বেঁধে দেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।’

এদিকে কুষ্টিয়া জেলা চাল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধান বলেন, ‘আমরা দূষণমুক্ত খাজানগর চাই। মিল মালিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে শিল্পের পাশাপাশি জনজীবনও সুরক্ষিত থাকে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


খাজানগরের আকাশে ছাইয়ের বৃষ্টি, বিপন্ন জনস্বাস্থ্য

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর। এখানে ছোট-বড় প্রায় ৪০০ চাল কল দিন-রাত সচল থাকলেও নেই ন্যূনতম পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। মিলগুলো থেকে নির্গত বিষাক্ত ছাই ও ধোঁয়া ওড়ছে আকাশে, আর বর্জ্য মেশানো বিষাক্ত পানি সরাসরি গিয়ে পড়ছে পাশের খাল ও জলাশয়ে। দীর্ঘদিনের এই দূষণে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন এখন ওষ্ঠাগত।

এমন অরাজক পরিস্থিতির মুখে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গঠিত ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি বুধবার (২৯ জুলাই) খাজানগরের বেশ কিছু রাইস মিল সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে সভাপতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালককে সদস্যসচিব করে গঠিত এই কমিটি দিনভর পাঁচটি বড় মিলে তদন্ত চালায়।

পরিদর্শনে দেখা গেছে, সনি অ্যাগ্রো ফুড, জাহিদ অটো রাইস মিল, শামীম অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস, মা-বাবার দোয়া ও সাজিম রাইস মিলের কোনোটিতেই বর্জ্য পানি শোধনের আধুনিক ব্যবস্থা নেই। দূষিত পানি সরাসরি পাইপের মাধ্যমে আশপাশের জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। সনি অ্যাগ্রো ও জাহিদ অটো রাইস মিলে ছাই নিয়ন্ত্রণের ন্যূনতম প্রযুক্তিও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মিলের ছাই ও ধুলার কারণে পুরো এলাকায় বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। ঘরের আসবাব থেকে শুরু করে খাবার—সবই ঢেকে যাচ্ছে কালো ছাইয়ে। সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী শিশু ও বৃদ্ধরা। তারা নিয়মিত শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, চোখের প্রদাহ ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

তদন্ত কমিটির সদস্য কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক (ভূমি ও রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, পরিদর্শনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মগুলো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদুল হক জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা রাইস মিলগুলোতে আছে কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে শোধনাগার বা ছাই নিয়ন্ত্রক যন্ত্র নেই, তাদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। এরপরও সংশোধন না হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আল-ওয়াজিউর রহমান সংবাদকে বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে প্রথম তদন্তে অনেক গুরুতর অনিয়ম নজরে এসেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে মৌখিক সতর্কতা দিয়েছি। দ্রুতই লিখিতভাবে তাদের সময় বেঁধে দেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।’

এদিকে কুষ্টিয়া জেলা চাল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধান বলেন, ‘আমরা দূষণমুক্ত খাজানগর চাই। মিল মালিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে শিল্পের পাশাপাশি জনজীবনও সুরক্ষিত থাকে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত