সংবাদ

১২২ বছরের রেকর্ড ভাঙল কোরিয়া, তীব্র তাপ সতর্কতা জারি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:০১ পিএম

১২২ বছরের রেকর্ড ভাঙল কোরিয়া, তীব্র তাপ সতর্কতা জারি
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহে দেশটির রাজধানী সিউলে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রথমবারের মতো জারি হতে যাচ্ছে ‘তীব্র তাপপ্রবাহ সতর্কতা’। এর মধ্যেই দেশটিতে রেকর্ড করা হয়েছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানে রোববার বিকেলে তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা গত ১২২ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এখন সেই তাপ পশ্চিম দিকে সরে আসছে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী সিউলের দিকে। পূর্বাভাস বলছে, মঙ্গলবার সিউলের তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে, এরপর পরপর ৩ দিন তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩৭ ডিগ্রির ঘরে।

কোরিয়া ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত তাপজনিত কারণে দেশটিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তাপজনিত অসুস্থতায় চিকিৎসা নিয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ। মঙ্গলবার এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রেসিডেন্ট লি জা মিয়ং কর্মকর্তাদের জনগণের দৈনন্দিন জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পরিদর্শনের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এই ধরনের চরম আবহাওয়া ক্রমেই স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হচ্ছে বলে জাতীয় সংকট মোকাবিলা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কার প্রয়োজন।

সোমবার (৩ আগস্ট) সিউল কর্তৃপক্ষ এক জরুরি বৈঠক করে তাপ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি বছর চালু হওয়া নতুন ব্যবস্থার আওতায় এবারই প্রথম রাজধানীতে তীব্র তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি হতে যাচ্ছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত প্রায় ৬৩ হাজার বাসিন্দা, যার মধ্যে রয়েছেন প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিরা, তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন নার্সরা। সিউলের নগর তাপ কমাতে ২০০টি পানির গাড়ির একটি বহর প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সড়কে পানি ছিটাচ্ছে। সবচেয়ে সমস্যাপূর্ণ এলাকাগুলোতে দিনে ছয়বার পর্যন্ত এসব গাড়ি চলাচল করছে।

সিউলের পথচারীরা রোদ এড়াতে ছায়াঘেরা পথ ধরে অফিসে যাতায়াত করছেন, এমনকি সকালের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা সময়েও সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলছেন তারা। অনেকে আবার শহরের বিভিন্ন স্থানে বসানো কুয়াশা-স্প্রে অঞ্চলে গিয়ে স্বস্তি খুঁজছেন। অন্যদিকে উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশে কর্মকর্তারা লাউডস্পিকারযুক্ত ড্রোন ওড়াচ্ছেন, যা দিয়ে নিরাপত্তা বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। গ্রীষ্মের ছুটিতে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় তাপ পর্যবেক্ষণে থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরাও ব্যবহার করছে এসব ড্রোন।

সোমবার দেশটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় গোরিয়ং শহরে, ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একাধিক শহর ও অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায় এবং সিউলের গুরো এলাকায় তাপমাত্রা পৌঁছায় ৩৯ ডিগ্রিতে। এই তীব্র গরমের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী খোলা জায়গায় কর্মরত শ্রমিকেরা। সিউলের এক নির্মাণশ্রমিক কোরিয়া টাইমসকে বলেন, বিরতির সময় ফ্যান পর্যন্ত না থাকায় ছায়ায় বসে থাকা ছাড়া উপায় থাকে না, আর ঘামে জামাকাপড় গায়ে লেগে চামড়া ছড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।

কোরিয়া মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (কেএমএ) বলছে, কোরিয়া উপদ্বীপের ওপর একাধিক উচ্চচাপ বলয়ের সংযোগ এবং পরিষ্কার আকাশের নিচে তীব্র সরাসরি সূর্যালোকই এই তাপপ্রবাহের প্রধান কারণ।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দক্ষিণ গিয়ংসাং প্রদেশে তাপ আরও তীব্র হয়েছে ‘ফন প্রপঞ্চ’-এর কারণে, যা তখন ঘটে যখন বাতাস পর্বতশ্রেণি অতিক্রম করে অন্য পাশে গিয়ে আরও গরম ও শুষ্ক হয়ে ওঠে। তাপপ্রবাহের আরেকটি নিয়ামক টাইফুন ডলফিন, যার গতিপথের ওপর নির্ভর করছে পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতি। কেএমএ বলছে, টাইফুনটি পূর্ব চীনের দিকে গেলে আর্দ্রতা বেড়ে তাপপ্রবাহ ও গ্রীষ্মের উষ্ণ রাত আরও তীব্র হতে পারে। তবে উপদ্বীপের দক্ষিণাংশের কাছ দিয়ে গেলে জোরালো বাতাস, মেঘলা আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে গরম কমতে পারে।

সোমবার পর্যন্ত ডলফিন কোরিয়া উপদ্বীপের দক্ষিণে জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের দিকে পশ্চিমমুখী অগ্রসর হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এটি আরও দুর্বল হয়ে ক্যাটাগরি ১ বা ২ মাত্রার টাইফুন হিসেবে স্থলভাগে আঘাত হানবে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে।

সূত্র : দা গার্ডিয়ান

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


১২২ বছরের রেকর্ড ভাঙল কোরিয়া, তীব্র তাপ সতর্কতা জারি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহে দেশটির রাজধানী সিউলে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রথমবারের মতো জারি হতে যাচ্ছে ‘তীব্র তাপপ্রবাহ সতর্কতা’। এর মধ্যেই দেশটিতে রেকর্ড করা হয়েছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানে রোববার বিকেলে তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা গত ১২২ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এখন সেই তাপ পশ্চিম দিকে সরে আসছে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী সিউলের দিকে। পূর্বাভাস বলছে, মঙ্গলবার সিউলের তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে, এরপর পরপর ৩ দিন তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩৭ ডিগ্রির ঘরে।

কোরিয়া ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত তাপজনিত কারণে দেশটিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তাপজনিত অসুস্থতায় চিকিৎসা নিয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ। মঙ্গলবার এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রেসিডেন্ট লি জা মিয়ং কর্মকর্তাদের জনগণের দৈনন্দিন জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পরিদর্শনের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এই ধরনের চরম আবহাওয়া ক্রমেই স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হচ্ছে বলে জাতীয় সংকট মোকাবিলা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কার প্রয়োজন।

সোমবার (৩ আগস্ট) সিউল কর্তৃপক্ষ এক জরুরি বৈঠক করে তাপ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি বছর চালু হওয়া নতুন ব্যবস্থার আওতায় এবারই প্রথম রাজধানীতে তীব্র তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি হতে যাচ্ছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত প্রায় ৬৩ হাজার বাসিন্দা, যার মধ্যে রয়েছেন প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিরা, তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন নার্সরা। সিউলের নগর তাপ কমাতে ২০০টি পানির গাড়ির একটি বহর প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সড়কে পানি ছিটাচ্ছে। সবচেয়ে সমস্যাপূর্ণ এলাকাগুলোতে দিনে ছয়বার পর্যন্ত এসব গাড়ি চলাচল করছে।

সিউলের পথচারীরা রোদ এড়াতে ছায়াঘেরা পথ ধরে অফিসে যাতায়াত করছেন, এমনকি সকালের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা সময়েও সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলছেন তারা। অনেকে আবার শহরের বিভিন্ন স্থানে বসানো কুয়াশা-স্প্রে অঞ্চলে গিয়ে স্বস্তি খুঁজছেন। অন্যদিকে উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশে কর্মকর্তারা লাউডস্পিকারযুক্ত ড্রোন ওড়াচ্ছেন, যা দিয়ে নিরাপত্তা বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। গ্রীষ্মের ছুটিতে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় তাপ পর্যবেক্ষণে থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরাও ব্যবহার করছে এসব ড্রোন।

সোমবার দেশটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় গোরিয়ং শহরে, ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একাধিক শহর ও অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায় এবং সিউলের গুরো এলাকায় তাপমাত্রা পৌঁছায় ৩৯ ডিগ্রিতে। এই তীব্র গরমের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী খোলা জায়গায় কর্মরত শ্রমিকেরা। সিউলের এক নির্মাণশ্রমিক কোরিয়া টাইমসকে বলেন, বিরতির সময় ফ্যান পর্যন্ত না থাকায় ছায়ায় বসে থাকা ছাড়া উপায় থাকে না, আর ঘামে জামাকাপড় গায়ে লেগে চামড়া ছড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।

কোরিয়া মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (কেএমএ) বলছে, কোরিয়া উপদ্বীপের ওপর একাধিক উচ্চচাপ বলয়ের সংযোগ এবং পরিষ্কার আকাশের নিচে তীব্র সরাসরি সূর্যালোকই এই তাপপ্রবাহের প্রধান কারণ।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দক্ষিণ গিয়ংসাং প্রদেশে তাপ আরও তীব্র হয়েছে ‘ফন প্রপঞ্চ’-এর কারণে, যা তখন ঘটে যখন বাতাস পর্বতশ্রেণি অতিক্রম করে অন্য পাশে গিয়ে আরও গরম ও শুষ্ক হয়ে ওঠে। তাপপ্রবাহের আরেকটি নিয়ামক টাইফুন ডলফিন, যার গতিপথের ওপর নির্ভর করছে পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতি। কেএমএ বলছে, টাইফুনটি পূর্ব চীনের দিকে গেলে আর্দ্রতা বেড়ে তাপপ্রবাহ ও গ্রীষ্মের উষ্ণ রাত আরও তীব্র হতে পারে। তবে উপদ্বীপের দক্ষিণাংশের কাছ দিয়ে গেলে জোরালো বাতাস, মেঘলা আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে গরম কমতে পারে।

সোমবার পর্যন্ত ডলফিন কোরিয়া উপদ্বীপের দক্ষিণে জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের দিকে পশ্চিমমুখী অগ্রসর হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এটি আরও দুর্বল হয়ে ক্যাটাগরি ১ বা ২ মাত্রার টাইফুন হিসেবে স্থলভাগে আঘাত হানবে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে।

সূত্র : দা গার্ডিয়ান


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত