সংবাদ

পুলক চ্যাটার্জির ‘আত্মহত্যা’ নিয়ে নানা প্রশ্ন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

পুলক চ্যাটার্জির ‘আত্মহত্যা’ নিয়ে নানা প্রশ্ন
পুলক চ্যাটার্জি ও তার লেখা ৫টি চিঠি।

বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক সমকালের সাবেক ব্যুরো চিফ পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।অনেকেই নানা রকম প্রশ্ন তুলছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণা করলেও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি এবং ঘটনার কিছু অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইতোমধ্যে অনেকে সরাসরি হত্যার অভিযোগও তুলেছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে বলে জানা গেছে।

মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের (এমএসএন) প্রধান সংগঠক ও ডিডব্লিউ একাডেমির প্রজেক্ট ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম খান (Mainul Khan) প্রশ্ন তোলেন, ‘পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ চেয়ার এবং টেবিলের সঙ্গে প্রায় লেগে ঝুলে থাকার যে ছবি দেখা যাচ্ছে সেটা কি একরকম সন্দেহ জাগায় না? উনি তাইলে কোথায় দাঁড়িয়ে রশি টানিয়েছিলেন? পা দুটো ফ্লোরে বেন্ড করা! ছবিটা কি উনারই তো, তাই না? উনি কি ধরনের শারীরিক অসুস্থতায় ছিলেন?’

তার এই প্রশ্নের সঙ্গে একমত হয়ে কলামিস্ট, লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রহমান বর্ণিল লেখেন, ‘আত্মহত্যার পদক্ষেপ নেওয়ার পর মৃত্যুর আগ মুহূর্তে আত্মহত্যার চেষ্টাকারীদের মধ্যে বাঁচার তীব্র আকুতি কাজ করে। তারা শেষ মুহূর্তে অনুধাবন করতে পারে, যে সমস্যার কারণে এই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আত্মহত্যা সেই সমস্যার সমাধান নয়। এই উপলব্ধি থেকে শেষ মুহূর্তে বা ফাঁস লাগার পর থেকে মৃত্যুর মাঝামাঝি সময়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করে। হাত-পা ছোঁড়ে যাতে কাছাকাছি কোনো কিছুর নাগাল পেলে সেটা ধরে ফাঁসটা আলগা করে নিতে পারে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আত্মহত্যার চেষ্টা করেও বেঁচে ফিরেছেন এমন অনেকের অভিজ্ঞতা এবং আত্মহত্যার চেষ্টাকারীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় মনোবিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সমকালের সাবেক ব্যুরোপ্রধান সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া ছবিটির দিকে লক্ষ্য করুন। গায়ের সঙ্গে লাগানো টেবিল ও চেয়ার। হাঁটু অনেকটাই ভাঁজ করা সত্ত্বেও পা মেঝেতে স্পর্শ করে আছে।’

অফিসে যেভাবে ঝুলছিল পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ

তিনি দাবি করেন, ‘ছবিটির বিশ্লেষণে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি আত্মহত্যা করেননি। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

রহমান বর্ণিল আরও অভিযোগ করেন, ‘রংপুরে গোটা একটা হিন্দু পরিবারকে বিভৎস কায়দায় হত্যা করে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার নামে স্বধর্মের দুইটা নিরীহ ছেলের নামে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র সাংবাদিক বিভূরঞ্জনের বেলায়ও ঘটেছে একই ঘটনা। সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির হত্যাও যে এই ধারাবাহিকতার অংশ, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।’

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’

তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে প্রকৃত চিত্র উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করলেও পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পুলক চ্যাটার্জির ‘আত্মহত্যা’ নিয়ে নানা প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক সমকালের সাবেক ব্যুরো চিফ পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।অনেকেই নানা রকম প্রশ্ন তুলছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণা করলেও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি এবং ঘটনার কিছু অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইতোমধ্যে অনেকে সরাসরি হত্যার অভিযোগও তুলেছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে বলে জানা গেছে।

মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের (এমএসএন) প্রধান সংগঠক ও ডিডব্লিউ একাডেমির প্রজেক্ট ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম খান (Mainul Khan) প্রশ্ন তোলেন, ‘পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ চেয়ার এবং টেবিলের সঙ্গে প্রায় লেগে ঝুলে থাকার যে ছবি দেখা যাচ্ছে সেটা কি একরকম সন্দেহ জাগায় না? উনি তাইলে কোথায় দাঁড়িয়ে রশি টানিয়েছিলেন? পা দুটো ফ্লোরে বেন্ড করা! ছবিটা কি উনারই তো, তাই না? উনি কি ধরনের শারীরিক অসুস্থতায় ছিলেন?’

তার এই প্রশ্নের সঙ্গে একমত হয়ে কলামিস্ট, লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রহমান বর্ণিল লেখেন, ‘আত্মহত্যার পদক্ষেপ নেওয়ার পর মৃত্যুর আগ মুহূর্তে আত্মহত্যার চেষ্টাকারীদের মধ্যে বাঁচার তীব্র আকুতি কাজ করে। তারা শেষ মুহূর্তে অনুধাবন করতে পারে, যে সমস্যার কারণে এই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আত্মহত্যা সেই সমস্যার সমাধান নয়। এই উপলব্ধি থেকে শেষ মুহূর্তে বা ফাঁস লাগার পর থেকে মৃত্যুর মাঝামাঝি সময়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করে। হাত-পা ছোঁড়ে যাতে কাছাকাছি কোনো কিছুর নাগাল পেলে সেটা ধরে ফাঁসটা আলগা করে নিতে পারে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আত্মহত্যার চেষ্টা করেও বেঁচে ফিরেছেন এমন অনেকের অভিজ্ঞতা এবং আত্মহত্যার চেষ্টাকারীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় মনোবিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সমকালের সাবেক ব্যুরোপ্রধান সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া ছবিটির দিকে লক্ষ্য করুন। গায়ের সঙ্গে লাগানো টেবিল ও চেয়ার। হাঁটু অনেকটাই ভাঁজ করা সত্ত্বেও পা মেঝেতে স্পর্শ করে আছে।’

অফিসে যেভাবে ঝুলছিল পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ

তিনি দাবি করেন, ‘ছবিটির বিশ্লেষণে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি আত্মহত্যা করেননি। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

রহমান বর্ণিল আরও অভিযোগ করেন, ‘রংপুরে গোটা একটা হিন্দু পরিবারকে বিভৎস কায়দায় হত্যা করে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার নামে স্বধর্মের দুইটা নিরীহ ছেলের নামে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র সাংবাদিক বিভূরঞ্জনের বেলায়ও ঘটেছে একই ঘটনা। সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির হত্যাও যে এই ধারাবাহিকতার অংশ, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।’

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’

তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে প্রকৃত চিত্র উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করলেও পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত