সংবাদ

সাত দিনেই ‘দৃশ্যমান পরিবর্তন’? দাবি বিজেপির


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

সাত দিনেই ‘দৃশ্যমান পরিবর্তন’? দাবি বিজেপির

পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারের সূচনার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চিত্রে বড়সড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করছে বিজেপি।

তাদের বক্তব্য, মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ১৫ বছরে যে কাজ হয়নি, তা মাত্র ৭ দিনেই করে দেখানো হচ্ছে। ৯ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ, দুর্নীতি বিরোধী অভিযান, আইন-শৃঙ্খলা জোরদার, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণমূলক ঘোষণাকে সামনে এনে বিজেপি “দৃশ্যমান পরিবর্তন”-এর বার্তা দিচ্ছে।

প্রথম সপ্তাহেই রাজ্যজুড়ে অবৈধ কয়লা ও বালি খনন, অস্ত্র পাচার, বিস্ফোরক চক্র এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে, যার মধ্যে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও রয়েছেন। একইসঙ্গে ২০২৩ সালের খুনের মামলা থেকে শুরু করে পাথর ছোড়া, অস্ত্র উদ্ধার ও জেল অভিযানে মোবাইল উদ্ধার—এই সব ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। নিয়োগ দুর্নীতি, ক্যাশ-ফর-জব, জমি দখল ও আরজি কর কাণ্ডে একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেন্ট্রাল bও of Investigation-কে তদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি কয়েকজন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এতে প্রশাসনে দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা ফেরানোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি শাসকদলের।

সীমান্ত নিরাপত্তা নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে। বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো, সীমান্তে বেড়া নির্মাণ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ এবং পাচার রুখতে কড়া নজরদারি চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে গবাদি পশু পাচার রোধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জনকল্যাণমূলক ক্ষেত্রেও একাধিক বড় ঘোষণা করা হয়েছে। “অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনা”-র মাধ্যমে মহিলাদের মাসিক ₹৩০০০ সহায়তা, রাজ্যজুড়ে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, বার্ধক্য ও প্রতিবন্ধী পেনশন ₹১০০০ থেকে বাড়িয়ে ₹২০০০ করা—এই সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প যেমন স্বাস্থ্য, কৃষি ও কারিগরি সহায়তা প্রকল্প রাজ্যে চালু করা হয়েছে।

প্রশাসনিক ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারি কর্মীদের নির্দিষ্ট সময় মেনে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুলে “বন্দে মাতরম” বাধ্যতামূলক করা, ২০১১ সালের পর থেকে দেওয়া জাতিগত শংসাপত্র যাচাই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বোর্ডে রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একাধিক বোর্ড ও সংস্থার শীর্ষপদে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নেও গতি এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নতুন রেল প্রকল্প, মেট্রো সম্প্রসারণ, রেললাইন উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কৃষি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আলু ও খাদ্যপণ্য রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সুবিধা পান।

সব মিলিয়ে, বিজেপি এই পদক্ষেপগুলোকে “ডাবল ইঞ্জিন সরকার”-এর দ্রুত ও কার্যকর শাসনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে বিরোধী মহল এই দাবিকে রাজনৈতিক প্রচার বলেই দেখছে। ফলে, সত্যিই কি বাংলায় “পরিবর্তন” শুরু হয়েছে, নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক বার্তা—তা নিয়ে আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬


সাত দিনেই ‘দৃশ্যমান পরিবর্তন’? দাবি বিজেপির

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারের সূচনার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চিত্রে বড়সড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করছে বিজেপি।

তাদের বক্তব্য, মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ১৫ বছরে যে কাজ হয়নি, তা মাত্র ৭ দিনেই করে দেখানো হচ্ছে। ৯ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ, দুর্নীতি বিরোধী অভিযান, আইন-শৃঙ্খলা জোরদার, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণমূলক ঘোষণাকে সামনে এনে বিজেপি “দৃশ্যমান পরিবর্তন”-এর বার্তা দিচ্ছে।

প্রথম সপ্তাহেই রাজ্যজুড়ে অবৈধ কয়লা ও বালি খনন, অস্ত্র পাচার, বিস্ফোরক চক্র এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে, যার মধ্যে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও রয়েছেন। একইসঙ্গে ২০২৩ সালের খুনের মামলা থেকে শুরু করে পাথর ছোড়া, অস্ত্র উদ্ধার ও জেল অভিযানে মোবাইল উদ্ধার—এই সব ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। নিয়োগ দুর্নীতি, ক্যাশ-ফর-জব, জমি দখল ও আরজি কর কাণ্ডে একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেন্ট্রাল bও of Investigation-কে তদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি কয়েকজন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এতে প্রশাসনে দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা ফেরানোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি শাসকদলের।

সীমান্ত নিরাপত্তা নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে। বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো, সীমান্তে বেড়া নির্মাণ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ এবং পাচার রুখতে কড়া নজরদারি চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে গবাদি পশু পাচার রোধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জনকল্যাণমূলক ক্ষেত্রেও একাধিক বড় ঘোষণা করা হয়েছে। “অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনা”-র মাধ্যমে মহিলাদের মাসিক ₹৩০০০ সহায়তা, রাজ্যজুড়ে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, বার্ধক্য ও প্রতিবন্ধী পেনশন ₹১০০০ থেকে বাড়িয়ে ₹২০০০ করা—এই সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প যেমন স্বাস্থ্য, কৃষি ও কারিগরি সহায়তা প্রকল্প রাজ্যে চালু করা হয়েছে।

প্রশাসনিক ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারি কর্মীদের নির্দিষ্ট সময় মেনে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুলে “বন্দে মাতরম” বাধ্যতামূলক করা, ২০১১ সালের পর থেকে দেওয়া জাতিগত শংসাপত্র যাচাই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বোর্ডে রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একাধিক বোর্ড ও সংস্থার শীর্ষপদে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নেও গতি এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নতুন রেল প্রকল্প, মেট্রো সম্প্রসারণ, রেললাইন উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কৃষি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আলু ও খাদ্যপণ্য রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সুবিধা পান।

সব মিলিয়ে, বিজেপি এই পদক্ষেপগুলোকে “ডাবল ইঞ্জিন সরকার”-এর দ্রুত ও কার্যকর শাসনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে বিরোধী মহল এই দাবিকে রাজনৈতিক প্রচার বলেই দেখছে। ফলে, সত্যিই কি বাংলায় “পরিবর্তন” শুরু হয়েছে, নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক বার্তা—তা নিয়ে আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত