সংবাদ

আর্কাইভ দেখুন

৯ মাসের কম বয়সীদের ৯৭ শতাংশে হাম শনাক্ত, বাড়ছে মৃত্যু

৯ মাসের কম বয়সীদের ৯৭ শতাংশে হাম শনাক্ত, বাড়ছে মৃত্যু

ঢাকায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের ৯৭.৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে। টিকার বয়স হয়নি বা টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুরাই এ প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।বাংলাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে ভাইরাসের এমন কোনো জিনগত পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা বর্তমানে ব্যবহৃত টিকার সুরক্ষাকে এড়িয়ে যেতে পারে। আইসিডিডিআরবির গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে যেসব শিশুর টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি, তারাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলে ওই গবেষণায় বলা হয়েছে।গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি ‘বি৩ জিনোটাইপ’-এর, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রাদুর্ভাবেও শনাক্ত হয়েছে।আইসিডিডিআরবি ও বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের গবেষকরা ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত শিশু হাসপাতালে সন্দেহভাজন হাম নিয়ে ভর্তি হওয়া ১৪ বছরের কম বয়সী ৩৪১ শিশুকে নিয়ে অনুসন্ধান চালান। পরীক্ষাগারে ৩২৪ শিশুর হাম নিশ্চিত হয়।বয়স ও টিকা নেওয়ার ভিত্তিতে শিশুদের চারটি দলএর অর্থ এই নয় যে দুই ডোজ টিকা পাওয়া সকল শিশুর ৭৬ শতাংশ হামে আক্রান্ত হচ্ছে। অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া সব শিশুই সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তাই এই হিসাব শুধু হাসপাতালভিত্তিক ওই অনুসন্ধানের জন্য প্রযোজ্য।আইসিডিডিআরবির সংক্রমণ রোগ বিভাগের ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. নূরজাহান মালিহা বলেন, ‘টিকা এখনো কার্যকর কিনা, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরী হওয়া স্বাভাবিক। আমাদের অনুসন্ধানে ভাইরাসটি টিকার সুরক্ষা এড়িয়ে যাচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার হার কম ছিল।’বাংলাদেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম-রুবেলার টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাস ও দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে। প্রথম ডোজের আগে শিশুরা মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি এবং সমষ্টিগত সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল থাকে।আইসিডিডিআরবির আগের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসেই মায়ের কাছ থেকে পাওয়া হামের অ্যান্টিবডি দ্রুত কমে যায়। তিন থেকে আট মাস বয়সে কোনো সুরক্ষামূলক অ্যান্টিবডি শনাক্ত হয়নি। তবে সেই বিশ্লেষণে মাত্র ১৬ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাই আরও বিস্তৃত গবেষণার পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।আইসিডিডিআরবির ফাইলোজেনেটিক বিশ্লেষণে ৫৫টি পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স অন্তর্ভুক্ত ছিল। সব ভাইরাসই ‘বি৩’ ধরনের সঙ্গে মিল রয়েছে। ভাইরাসের ‘এইচ’ প্রোটিনের অ্যান্টিবডি শনাক্ত করতে পারে- এমন অংশে চারটি পরিবর্তন বা মিউটেশন শনাক্ত হয়েছে।‘এইচ’ প্রোটিন ভাইরাসকে মানুষের কোষে প্রবেশ করতে সহায়তা করে এবং টিকার মাধ্যমে তৈরি অ্যান্টিবডির প্রধান লক্ষ্য এটি। তবে মিউটেশন থাকার অর্থ এই নয় যে টিকা আর কাজ করছে না। হাম ভাইরাস এখনো একটি একক সেরোটাইপ এবং টিকার অ্যান্টিবডি ভাইরাসের একাধিক স্থান শনাক্ত করতে পারে।আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ‘এই প্রাথমিক ফলাফল কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে, আবার দেখিয়েছে আমাদের আরও অনেক কিছু জানা দরকার। টিকা নেওয়া কিছু শিশু কেন আক্রান্ত হয়েছে, গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর পেছনে কোন বিষয়গুলো কাজ করছে, অপুষ্টি কীভাবে সুরক্ষাকে প্রভাবিত করে—সেসব অনুসন্ধানে আমরা আরও বিস্তৃত গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করছি।’স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জন সন্দেহভাজন এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ১৫ হাজার ২৭২ জন হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হামজনিত সন্দেহজনক ৭২১ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজনসহ আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ জন।এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭৮ জন। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৩ জন এবং নিশ্চিত হামে ১৬ হাজার ২৯৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে।হামে আক্রান্ত শিশুদের ‍নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছেগবেষকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, অভিভাবকদের টিকা দিতে দেরি করা বা টিকা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। শিশুর বয়স অনুযায়ী হাম-রুবেলার সব ডোজ নিশ্চিত করতে হবে। প্রাদুর্ভাবকালে টিকাদান বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।আইসিডিডিআরবির ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির সহকারী বিজ্ঞানী ডা. কামরুন নাহার বলেন, ‘শিশুরা কেন টিকা নিতে পারছে না এবং জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের যে হার জানানো হচ্ছে, তার আড়ালে কোনো কোনো এলাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বড় ঘাটতি রয়েছে কিনা- তা আমাদের নির্ধারণ করতে হবে। এই গবেষণা টিকাদান কৌশল আরও কার্যকর করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রাদুর্ভাবে শিশুদের আরও ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করবে।’ডা. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘হাম প্রতিরোধ ও গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে টিকাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে টিকা দেওয়ার হার তুলনামূলকভাবে বেশি জানানো হলেও এই প্রাদুর্ভাব এত বড় হলো কেন- সেটিও আমাদের বুঝতে হবে।’


গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হস্তান্তরে গলদ ছিল: ফরহাদ মজহার

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হস্তান্তরে গলদ ছিল: ফরহাদ মজহার

দেশের রাজনীতিতে যত দিন জামায়াতে ইসলামী নাম নিয়ে রাজনীতি থাকবে, তত দিন আওয়ামী লীগও থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন কবি, চিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার।একই সঙ্গে ১৯৭২ সালের সংবিধানকে জনগণের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত একটি ঔপনিবেশিক ‘অস্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি।রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘৩৬ জুলাইয়ের অবদান বিতর্ক ও ব্যর্থতার দায় পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। ‘আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি’ এই সংলাপের আয়োজন করে।বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রথম একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে বিশ্ব ইতিহাসে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই জাতীয় অর্জনের সঙ্গে কোনোভাবেই আপস বা দর-কষাকষি করা যাবে না, এমনকি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও নয়।’ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আমি বারবার একটা কথা বলেছি, যদিও তারা অনেকে রাগ করেছেন- আমি বলেছি, যত দিন জামায়াতে ইসলামী থাকবে, তত দিন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ থাকবে। আমি জামায়াতে ইসলামী নাম নিয়ে রাজনীতি করার ঘোরবিরোধী। কারণ, ইসলাম আমাদের ধর্ম। তার নীতিগত ও নৈতিক দিক একটি নতুন রাষ্ট্র ও নতুন সমাজ গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’১৯৭২ সালের সংবিধান সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই।’ সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সেখানে এক বাক্যে জনগণকে রাষ্ট্রক্ষমতার মালিক বলা হয়েছে, কিন্তু ঠিক পরের বাক্যে সংবিধান বা আইনি দলিলকে জনগণের ওপরে স্থাপন করে জনগণের সার্বভৌমত্বকে নাকচ করা হয়েছে।ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে এলএফওর (লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার) অধীন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ীরা দেশে ফিরে এসে গণপরিষদ দাবি করে এই সংবিধান চাপিয়ে দিয়েছিল। ‘সংবিধান’ ও ‘গঠনতন্ত্র’-এর আইনি পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জনগণ সংবিধানের ঊর্ধ্বে, জনগণ সংবিধানের অধীন নয়। জনগণ চাইলে যখন খুশি নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করতে পারে।’২০২৫ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পরপরই রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় গুরুতর গলদ ছিল বলে মনে করেন ফরহাদ মজহার। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে দেওয়া হয়নি।ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) এবং বিএনপি—এই তিন শক্তি মিলে আমাদের একটি পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে দেয়নি। ৮ আগস্ট পুরোনো সংবিধান ও রাষ্ট্রপতিকে বহাল রেখে যে সরকার গঠন করা হয়েছে, তা মূলত একটি সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব।’অভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের সাহসিকতার প্রশংসা করে ফরহাদ মজহার বিএনপি ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করে বলেন, রাস্তায় বৃষ্টিতে ভিজে আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর যেন পুলিশি নির্যাতন না চালানো হয় এবং তারেক রহমান যেন তরুণদের সঙ্গে বেইমানি না করেন।ধর্মের নামে তাণ্ডব চালানো ও মাজার ভাঙচুরের ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ‘যারা মাজার ভাঙছেন, ধর্মকে মানুষকে ভয় দেখানো বা অত্যাচার করার অস্ত্র বানাচ্ছেন, তাদের আমরা চিনি। পেট্রোডলারের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়ে কেউ দাবি করতে পারেন না যে তারাই ইসলামের একমাত্র কর্তৃত্বের হকদার।’গণ–অভ্যুত্থানের অর্জনকে ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে তুলে ধরার তীব্র বিরোধিতা করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘২০ বছর ধরে যেখানে কথা বলা যাচ্ছিল না, সেখানে এখন কথা বলা যাচ্ছে, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে- এটা কোনো ব্যর্থতা হতে পারে না। ব্যর্থতার গল্প না বলে এখন দেখতে হবে আগামী দিনে আমাদের কী কী করা বাকি রয়ে গেছে।’আলোচনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪- উভয় চেতনাকেই ধারণ করে সামনে এগোতে হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান।


দেশের সব মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল

দেশের সব মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল

দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসার বিদ্যমান অ্যাডহক কমিটি বাতিল করেছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে সংশোধিত প্রবিধানমালা অনুযায়ী আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামানের সই করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (দাখিল ও আলিম স্তরের বেসরকারি মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি) প্রবিধানমালা, ২০২৫-এর প্রবিধি ৬৪ অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিসহ দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসার বিদ্যমান অ্যাডহক কমিটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।একইসঙ্গে সংশোধিত প্রবিধানমালা (এসআরও নং ৮৯-আইন/২০২৬) অনুসারে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের পদ্ধতি ও শর্তও নির্ধারণ করে দিয়েছে বোর্ড। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের গত ৩০ জুলাই জারি করা নির্দেশনার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে তিন সদস্যের একটি প্যানেল প্রস্তাব করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান (অধ্যক্ষ বা সুপার)।শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, খ্যাতিমান সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি অথবা কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত নবম গ্রেড বা এর চেয়ে ওপরের পদমর্যাদার সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে এ প্যানেল তৈরি করতে হবে। পরে অন্য সদস্যের মনোনয়নের প্রস্তাবসহ তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।সিটি করপোরেশন এলাকার দাখিল ও আলিম মাদরাসার ক্ষেত্রে আলাদা বিধান রাখা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির প্রস্তাব বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।এ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ, সুপার, পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই : নাহিদ ইসলাম

মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই : নাহিদ ইসলাম

বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।রোববার (২ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এনসিপির তিন পার্বত্য জেলার উদ্যোগে আয়োজিত ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘একটি সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে ওই অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধি নেই। দ্বীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি কবে হয়েছে আমার জানা নেই। সরকার কোনো জবাবদিহির আওতায় নেই বলেই এমনটা করতে পারছে।’তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকে জোরালো আওয়াজ তোলার আহ্বান জানান।পাহাড়ের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সবার সমান নাগরিক অধিকারের পক্ষে। একইসঙ্গে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপোষহীন। পাহাড়ের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে হবে। সেখানে ভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস আছে, যা নিরসন জরুরি। পাহাড় থেকে সমতল-সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’পাহাড়ের রাজনীতির জটিলতা নিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘পাহাড়ের নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি-উভয় পক্ষই নানাভাবে বঞ্চনার শিকার। এই বিভাজনের সুযোগ নেয় বিদেশি শক্তি। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও নিপীড়নের সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। সামরিক কায়দায় সেখানে খুব বেশি কিছু অর্জন করা যাবে না। যারা দ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখে সুবিধা নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে। সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা মনে করি, জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব জায়গায় আমাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। পাহাড়কে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই। আশা করি, ৫০ বছর পর আগামী নির্বাচনে পাহাড়বাসী নতুন ও তরুণ জনপ্রতিনিধি পাবে।’অনুষ্ঠানে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিনসহ পার্বত্য জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।


‘সমকামিতা’র তদন্ত: ঢাবির হলে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ

‘সমকামিতা’র তদন্ত: ঢাবির হলে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ হয়েছে।রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে এ সংঘর্ষ ঘটেছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। উভয় পক্ষের দাবি, সংঘর্ষে তাদের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুজন অতিথির বিরুদ্ধে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রথমে উত্তেজনা, তারপর সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়ানোর অভিযোগের ভিত্তিতে হল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির কার্যক্রম চলাকালে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার পর সংঘর্ষ বাঁধে।শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক আল হক (শান্ত) গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সমকামিতাকে প্রমোট করতে গিয়ে ছাত্রশিবির বিভিন্নভাবে এজিএসকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। নানাভাবে মিথ্যাচার করছে।’ঢাবির প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ‘শহীদুল্লাহ হলে দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। হল প্রাধ্যক্ষ বিষয়টি জানালে সঙ্গে সঙ্গেই সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত চলছে।’এর আগে গত ৩০ জুলাই সকালে মাস্টারদা সূর্য সেন হলে সমকামিতার অভিযোগে এক আবাসিক শিক্ষার্থী এবং তার আমন্ত্রণে আসা এক বহিরাগত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী ছাত্র মাইনুর রেজা এবং বহিরাগত শফিকুল ইসলাম সাগর।সংশ্লিষ্টরা জানায়, সামাজিক মাধ্যমে একটি অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ওই বহিরাগত ব্যক্তি শিক্ষার্থী মাইনুর রেজার আমন্ত্রণে হলে আসেন। নির্দিষ্ট কক্ষে যাওয়ার কথা থাকলেও ভুলবশত বহিরাগত লোকটি অন্য একটি কক্ষের সামনে চলে যান। যা আবাসিক শিক্ষার্থীদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি শারীরিক সম্পর্কের উদ্দেশে হলে আসার কথা স্বীকার করেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিজের ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। তবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর হল প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা তাকে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কাজে জড়িত থাকা এবং হলে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।  পরে প্রাধ্যক্ষ ও হাউজ টিউটরদের উপস্থিতিতে তারা নিজেদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের লিখিত স্বীকারোক্তি দেন।


ঢাকার নৌপথে ফিরছে ওয়াটার বাস

ঢাকার নৌপথে ফিরছে ওয়াটার বাস

ঢাকার চারপাশের চক্রাকার নৌপথে সাধারণ নগরবাসীর যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক বিনোদন ও পর্যটনের বিকাশে আবারও ওয়াটার বাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এবার এটি সরকারিভাবে নয়, পরিচালিত হবে বেসরকারি উদ্যোগে।রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সড়ক ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।সংবাদ সম্মেলনে নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ধাপে ধাপে চক্রাকার নৌপথে এই সেবা চালুর চেষ্টা করা হবে। নদীপথের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "আশুলিয়া থেকে সদরঘাট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত নদীপথের একটি অংশ যাত্রীবান্ধব। তবে অন্য অংশে এখনো বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। দেশের মানুষ যেখানে সড়কপথে দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সেখানে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় নিয়ে নদীপথে যেতে আগ্রহী হন না। ফলে যাত্রী সংকট তৈরি হয়।"বিআইডব্লিউটিসি-র বিগত দিনের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে শেখ রবিউল আলম বলেন, "আগে বিআইডব্লিউটিসি ওয়াটার বাস পরিচালনা করেছিল। কিন্তু যাত্রী স্বল্পতা, নদীদূষণ এবং পরিচালন ব্যয়ের কারণে গত ১০ বছরে সংস্থাটির প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়। ফলে তারা সেবা চালিয়ে যেতে পারেনি।"তবে এবার কিছু বেসরকারি উদ্যোক্তা আগ্রহ দেখিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের লক্ষ্য শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, বরং নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও বিনোদনের সম্ভাবনাকেও কাজে লাগানো।প্রকল্পটির সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "নদীদূষণ বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নদীতে দুর্গন্ধ, আবর্জনা ও দূষিত পরিবেশ থাকলে মানুষ নদীপথে ভ্রমণে আগ্রহী হবে না।"এছাড়া টঙ্গীর রেলসেতুসহ বেশ কিছু নিচু সেতুর কারণে চলাচলে বাধার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, রেলসেতু উঁচু করা বাস্তবসম্মত নয়, তাই যাত্রীদের বিকল্প উপায়ে পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। আগের লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব সীমাবদ্ধতা দূর করেই খুব দ্রুত ঢাকার নৌপথে ওয়াটার বাস সেবা দৃশ্যমান করা সম্ভব হবে।


পাখিভ্যানের চাপায় শিশুর মৃত্যু

পাখিভ্যানের চাপায় শিশুর মৃত্যু

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যানের চাপায় রাফিয়া খাতুন নামের চার বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত রাফিয়া ওই গ্রামের রাহাজ উদ্দিনের মেয়ে।স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলা করছিল রাফিয়া। এ সময় দ্রুতগতির একটি মোটরচালিত পাখিভ্যান তাকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।হরিণাকুণ্ডু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অসিত কুমার রায় বলেন, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


লৌহজংয়ে দুই বাসের সংঘর্ষে হেল্পার নিহত, চালক গ্রেপ্তার

লৌহজংয়ে দুই বাসের সংঘর্ষে হেল্পার নিহত, চালক গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ‘ইলিশ পরিবহন’-এর দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. কালু (২২) নামে এক বাস হেল্পার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালককে গ্রেপ্তার করেছে।রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়নের মালিঅংক বাজার এলাকায় প্রধান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কালু মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার উত্তর বশিপাড়ী গ্রামের মৃত অহেদ সরদারের ছেলে। তিনি লৌহজংয়ের গাঁওদিয়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন এবং ইলিশ পরিবহনের একটি বাসের হেল্পার হিসেবে কাজ করতেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে একই কোম্পানির দুটি বাস দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কালু গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা দুর্ঘটনাকবলিত বাসে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাস দুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বোরহান উল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসচালক লিটন শেখকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


রাজনীতি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে : মির্জা ফখরুল

রাজনীতি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে : মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনীতি মানুষকে দূরে ঠেলে দেয় এবং সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে। তবে ঠাকুরগাঁওয়ে সেই বিভাজন দেখতে চান না তিনি। মানুষে মানুষে মতপার্থক্য থাকলেও সম্প্রীতি ও সামাজিক সম্পর্ক অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতিতে আয়োজিত সাংস্কৃতিক মিলনমেলা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেন।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় ছিল। আমাদের পূর্বপুরুষরা একসঙ্গে বসে গল্প করতেন, চা খেতেন। রাজনৈতিক মঞ্চে একে অপরের সমালোচনা করলেও ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট হতো না। সেই সম্প্রীতির সমাজই আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।’তরুণ প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তরুণদের সৃজনশীল ও মানবিক করে তোলে। এটিই মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার। ছেলেমেয়েরা যখন নাটক বা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে, সেখানে মাদকের কোনো স্থান থাকে না।’শিল্পী ও নাট্যকর্মীদের কষ্টের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক শিল্পী নিষ্ঠার সঙ্গে শিল্পচর্চা করলেও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং শিল্পের বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া এখন সময়ের দাবি।তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যে ‘নতুন কুঁড়ি’ ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, বর্তমানে সেই ধারাকে আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও সৃজনশীল চর্চা বৃদ্ধি পেয়েছে।ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতির সভাপতি ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মনোতোষ কুমার দে।


মিঠাপুকুরে ২৭৪ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

মিঠাপুকুরে ২৭৪ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

রংপুরের মিঠাপুকুরে প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত ২৭৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রাব্বানী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মুহাম্মদ জহুরুল হক, সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম রাব্বানী।বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও নৈতিক মূল্যবোধই দেশের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির ভিত্তি। তারা শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলার ৫৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৭৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। তাদের মধ্যে ১১৯ জন ট্যালেন্টপুল, ১৩৫ জন সাধারণ গ্রেড এবং ২০ জন ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে বেগম রোকেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ১৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এ ছাড়া মিঠাপুকুর জীবনপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৭ জন, শঠিবাড়ি শিশু নিকেতন থেকে ১২ জন এবং সাতভেন্ডী এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে।অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর, আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর, আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তির আবেদন শুরু হবে আগামী ১১ নভেম্বর। অনলাইনে আবেদন নেওয়া চলবে ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আর বিভিন্ন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৫ ডিসেম্বর।রোববার (২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে স্নাতক প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হলো- কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট, বিজ্ঞান ইউনিট, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট, চারুকলা ইউনিট ও আইবিএ ইউনিট।এবার প্রথমবারের মতো বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।পরীক্ষাসূচিপরীক্ষার মানবণ্টনচারুকলা ও আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্য ইউনিটগুলোর পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের এমসিকিউ ও ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে।চারুকলা ইউনিট: ৪০ নম্বর এমসিকিউ (৩০ মিনিট) + ৬০ নম্বর অঙ্কন (৬০ মিনিট)আইবিএ ইউনিট: ৭০ নম্বর এমসিকিউ (৯০ মিনিট) + ৩০ নম্বর বর্ণনামূলক (৩০ মিনিট)অন্যান্য ইউনিট: ৪৫ মিনিট এমসিকিউ + ৪৫ মিনিট লিখিতমোট মূল্যায়ন হবে ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে- ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে ২০ নম্বর।আবেদনের যোগ্যতামাধ্যমিক/সমমান ও উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় ২০২১–২০২৪ ও ২০২৬ সালের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।আইবিএ ছাড়া সব ইউনিটের পরীক্ষা ঢাকাসহ আটটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে।ক্লাস শুরু হবে ২৮ মার্চ ২০২৭।


নারীরা সমাজের বোঝা নয়, উন্নয়নের শক্তি : ঢাকার ডিসি

নারীরা সমাজের বোঝা নয়, উন্নয়নের শক্তি : ঢাকার ডিসি

নারীরা কখনো সমাজের বোঝা নয়, বরং তারা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলে পরিবার ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানম।রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার দোহার উপজেলায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম প্রদান এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নারীদের এগিয়ে নিতে সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। জীবনে অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই। কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতা থাকলে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও একদিন বড় কর্মকর্তা হতে পারে। তাই স্বপ্ন পূরণে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ-সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আমরা রাষ্ট্রের শাসক নই, সেবক হতে চাই। জনগণের কল্যাণে কাজ করাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব।’পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ফরিদা খানম বলেন, ‘মানুষের জীবন ও প্রকৃতির অস্তিত্ব রক্ষায় গাছের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই বিলাশপুর ইউনিয়নের পদ্মাপাড়কে কৃষ্ণচূড়ার বাগানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি সবুজ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাশফিক সিগবাত উল্লাহ, দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম।অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে বাইসাইকেল ও বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম তুলে দেন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।


সাটুরিয়ায় তীব্র লোডশেডিং, সাব-স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ

সাটুরিয়ায় তীব্র লোডশেডিং, সাব-স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে একটি বিদ্যুতের সাব-স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার হরগজ ইউনিয়নে অবস্থিত পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় চরম লোডশেডিং চলছে। প্রচণ্ড গরমে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন হরগজ ইউনিয়নের সাধারণ গ্রাহকেরা। আজ সন্ধ্যায় শত শত মানুষ একজোট হয়ে হরগজ সাব-স্টেশনটি ঘেরাও করেন। এ সময় তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে এলাকায় উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।এ বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় জনতা সাব-স্টেশনে অবস্থান নিয়েছিলেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লোকজনকে বুঝিয়ে শান্ত করি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সাব-স্টেশন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’পল্লী বিদ্যুতের সাটুরিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘পিক টাইমে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে আমরা গড়ে পাচ্ছি মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকেরও কম হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন লোডশেডিং দিতে আমরা বাধ্য হচ্ছি।’


সবুজের টানে পর্যটকদের প্রিয় কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল

সবুজের টানে পর্যটকদের প্রিয় কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল

চা-বাগানের সবুজ ঢেউ, সংরক্ষিত বন, পাহাড়ি ছড়া, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আর আধুনিক রিসোর্ট-সব মিলিয়ে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন জেলা মৌলভীবাজার। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে রয়েছে প্রায় অর্ধশত পর্যটনকেন্দ্র। এর মধ্যে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল সবচেয়ে বেশি পরিচিত। বছরজুড়ে দেশ-বিদেশের পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে এই দুই উপজেলা।মৌলভীবাজারের পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র কমলগঞ্জ উপজেলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও মণিপুরি সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির কারণে এ উপজেলার আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই উদ্যানে রয়েছে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ, স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ ও অসংখ্য পাখি।উঁচু-নিচু টিলাজুড়ে বিস্তৃত লাউয়াছড়ার ঘন অরণ্যের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে পাহাড়ি ছড়া। বনের নীরবতা ভেঙে শোনা যায় পাখির ডাক, কীটপতঙ্গের শব্দ আর বন্যপ্রাণীর বিচরণ। প্রকৃতিপ্রেমী, গবেষক ও বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষকদের কাছেও লাউয়াছড়া বিশেষ আকর্ষণের জায়গা। প্রতিবছর হাজারো দর্শনার্থী এই উদ্যানে এসে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটান।মৌলভীবাজারের পর্যটনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য শ্রীমঙ্গল। ‘বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই উপজেলায় রয়েছে দেশের সবচেয়ে বেশি চা-বাগানের সমাহার। শহরের চারপাশজুড়ে বিস্তৃত সবুজ চা-বাগান পর্যটকদের কাছে শ্রীমঙ্গলকে আলাদা আবেদন দিয়েছে। শহর থেকে অল্প দূরেই বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করলে দেখা যায় গবেষণা কার্যক্রম, পুরোনো চা-গাছ, ফুলের বাগান, চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ও পরীক্ষাগার।বিটিআরআইয়ের কাছেই রয়েছে পর্যটকদের আরেক পরিচিত গন্তব্য নীলকণ্ঠ চা কেবিন। বহু বছর ধরে এখানে পরিবেশন করা হচ্ছে বহুস্তরবিশিষ্ট রঙিন চা, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।শ্রীমঙ্গল শহরের উপকণ্ঠে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানাও দর্শনার্থীদের টানে। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখি সংরক্ষণ করা হয়েছে। সহজ যোগাযোগব্যবস্থা এবং স্বল্প প্রবেশমূল্যের কারণে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছেও এটি জনপ্রিয়।চোখ বুজে আসার মতো সবুজপ্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে গড়ে ওঠা ইকো রিসোর্টগুলোও মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাঁশ, কাঠ ও ছনের নকশায় নির্মিত এসব আবাসন সবুজ পরিবেশের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জজুড়ে গড়ে উঠেছে গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, লেমন গার্ডেন রিসোর্ট, বালিশিরা রিসোর্ট, নভেম ইকো রিসোর্ট, ওয়াটার লিলি, টি হ্যাভেন, টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ ও অরণ্য নিবাস ইকো রিসোর্টসহ বিভিন্ন মানের আবাসন। জেলা শহরের কাছেও রয়েছে দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, মুক্তানগর রিসোর্ট ও রাজউটি রিসোর্ট।এদিকে, জেলার বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ে অবস্থিত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতও মৌলভীবাজারের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতা থেকে নেমে আসা জলধারা, পাহাড়ি বন আর আশপাশের ছোট-বড় ঝরনা প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। বর্ষাকালে এর সৌন্দর্য আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।ফুলে ফুলে দৃষ্টি হারায়পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা গেলে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রেও আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার অনন্য সমন্বয়ই এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শক্তি।


গোসলে নেমে খালের পানিতে ডুবে কিশোরীর মৃত্যু

গোসলে নেমে খালের পানিতে ডুবে কিশোরীর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে খালের পানিতে ডুবে লামিছা (১২) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তর পাড়া এলাকায় চণ্ডিবের খালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত লামিছা ওই এলাকার সবজি বিক্রেতা মাসুম মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তাদের পৈতৃক বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে।স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আরও দুই কিশোরীর সঙ্গে চণ্ডিবের খালে গোসল করতে যায় লামিছা। একপর্যায়ে সে পানিতে ডুব দিয়ে আর ভেসে না ওঠায় অন্য দুই বান্ধবী চিৎকার শুরু করে। তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে প্রায় আধা ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি করে লামিছাকে উদ্ধার করেন। তবে উদ্ধারের আগেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্বজনেরা তার নিথর দেহ বাড়িতে নিয়ে যান।লামিছার খালু সবুজ মিয়া বলেন, ‘লামিছার বাবা সবজি বিক্রি করেন। তারা উত্তর পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। বাবা-মাকে না জানিয়েই সে গোসলে গিয়েছিল। সেখানে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়। রায়পুরার গ্রামের বাড়িতেই তাকে দাফন করা হবে।’এ বিষয়ে ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস বলেন, ‘পানিতে ডুবে কিশোরীর মৃত্যুর খবর আমাদের জানা নেই। তবে পুলিশের একটি দল পাঠিয়ে এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।’


ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বড় নিয়োগ, পদ ৩২০

ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বড় নিয়োগ, পদ ৩২০

সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আইটি ও প্রোগ্রামিংয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। আবেদন করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা।ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সদস্যভুক্ত বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৬ থেকে ১০ গ্রেডে মোট ৩২০টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।যেসব পদে নিয়োগ১. সিনিয়র অফিসার (আইটি)পদসংখ্যা: ৩৬অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি: ৩০টিবাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি: ৬টিবেতনস্কেল: গ্রেড-৯ (২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা)২. অফিসার (আইটি)/এমআইএস ও আইসিটি অফিসারপদসংখ্যা: ২৩১সোনালী ব্যাংক পিএলসি: ১৪৬টিরূপালী ব্যাংক পিএলসি: ৮০টিকর্মসংস্থান ব্যাংক: ৫টিবেতনস্কেল: গ্রেড-১০ (১৬,০০০–৩৮,৬৪০ টাকা)৩. অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামারপদসংখ্যা: ২৮সোনালী ব্যাংক পিএলসি: ১৪টিরাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক: ৩টিইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ: ২টিকর্মসংস্থান ব্যাংক: ৯টিবেতনস্কেল: গ্রেড-৯ (২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা)৪. অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (আইটি)/অ্যাসিস্ট্যান্ট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারপদসংখ্যা: ১৪সোনালী ব্যাংক পিএলসি: ১২টিবাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক: ২টিবেতনস্কেল: গ্রেড-৯ (২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা)৫. সহকারী সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারপদসংখ্যা: ৩ (কর্মসংস্থান ব্যাংক)বেতনস্কেল: গ্রেড-৯ (২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা)৬. অ্যাসিস্ট্যান্ট ডেটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরপদসংখ্যা: ২ (সোনালী ব্যাংক পিএলসি)বেতনস্কেল: গ্রেড-৯ (২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা)৭. অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম অ্যানালিস্টপদসংখ্যা: ২ (রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক)বেতনস্কেল: গ্রেড-৬ (৩৫,৫০০–৬৭,০১০ টাকা)৮. অ্যাসিস্ট্যান্ট ডেটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরপদসংখ্যা: ১ (রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক)বেতনস্কেল: গ্রেড-৬ (৩৫,৫০০–৬৭,০১০ টাকা)৯. প্রোগ্রামারপদসংখ্যা: ১ (আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক)বেতনস্কেল: গ্রেড-৬ (৩৫,৫০০–৬৭,০১০ টাকা)১০. ডেটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরপদসংখ্যা: ২ (কর্মসংস্থান ব্যাংক)বেতনস্কেল: গ্রেড-৬ (৩৫,৫০০–৬৭,০১০ টাকা)আবেদনের যোগ্যতা১ থেকে ৬ নম্বর পদের জন্য ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বয়সসীমা ২১ থেকে ৩২ বছর। ৭ থেকে ১০ নম্বর পদের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ বছর। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।আবেদন প্রক্রিয়াআগ্রহী প্রার্থীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি ২০০ টাকা। অনগ্রসর নাগরিক গোষ্ঠীভুক্ত প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি ৫০ টাকা।আবেদনের শেষ তারিখ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট।বিস্তারিত দেখুন এই ঠিকানায়।