সংবাদ

ঢাকার যে বাড়িগুলো নিয়ে আজও কাটেনি ভীতি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

ঢাকার যে বাড়িগুলো নিয়ে আজও কাটেনি ভীতি
লালকেল্লার গোপন সুরঙ্গ পথ।

রাত নামলেই বদলে যায় রাজধানী ঢাকা। দিনের ব্যস্ত নগরী যেখানে হাজারো স্বপ্ন আর দৌড়ের শহর, সেখানে রাতের অন্ধকারে অনেক বাড়ি বা স্থাপনা যেন অন্য রূপ ধারণ করে। আলো-আঁধারির খেলা বন্ধ হয়ে গেলে কিছু পুরোনো দালানের দিকে তাকাতেই মনে হয়, ওখানে হয়তো কিছু লুকিয়ে আছে। ইতিহাসের পাতায় চাপা পড়ে যাওয়া কিছু রহস্য এখনও শিহরণ জাগায়। ঢাকায় এমনই কিছু স্থান আর  বাড়ি আছে যা নিয়ে আজও কমেনি কৌতূহল, কাটেনি ভীতি।

লালবাগ কেল্লার সুড়ঙ্গ : পুরান ঢাকার বুকে লালবাগ কেল্লা দিনের বেলায় পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকলেও রাত নামলেই কেল্লা যেন অন্য মাত্রা পায়। আর সেই রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু কেল্লার নিচের সেই বিখ্যাত সুড়ঙ্গ। লোকমুখে প্রচলিত, এই সুড়ঙ্গে একবার কুকুর ঢুকলে আর বের হয়নি। এক সেনাদলও একবার ঢুকে পড়েছিল, তারাও ফিরে আসেনি। ইতিহাসবিদরা বলছেন, এটি ছিল গোপন পথ, নিরাপত্তার জন্য তৈরি। কিন্তু সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, মাটির নিচের সেই অন্ধকার গলির ভেতর আজও ঘুরে বেড়ায় অতৃপ্ত আত্মারা।

লালকেল্লা

বনানীর ‘অভিশপ্ত’ বাড়ি : ঢাকার আভিজাত্যের প্রতীক বনানী। তবে এই বনানীতেই আছে একটি বাড়ি, যাকে ‘অভিশপ্ত’ বলেই ডাকেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকা বাড়িটি নিয়ে নানা গল্প ছড়িয়ে আছে। বলা হয়, এই বাড়িতে যারা থাকতে এসেছেন, তারা কেউ বেশি দিন টিকতে পারেননি। মধ্যরাতে ওপর তলা থেকে কান্নার আওয়াজ, পায়ের শব্দ- এসব ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বলেন অনেকে। স্থানীয়দের অভিমত, বিজ্ঞান যাই বলুক, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় বাড়িটিকে ঘিরে ভয়ের আবহটা যাচ্ছে না।

নারিন্দার জমিদারবাড়ি : পুরান ঢাকার সরু গলিতে হাঁটলে চোখে পড়ে এক জরাজীর্ণ অট্টালিকা- নারিন্দার সেই বিখ্যাত বাড়ি। কথিত আছে, একসময় এখানে বাস করতেন এক ধনী জমিদার। উত্তরাধিকার নিয়ে বিবাদে বাড়িটিতে ঘটেছিল মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ড।এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন, অমাবস্যার রাতে বাড়ির জানালার পাশে আবছা মানুষের ছায়া দেখা যায়। কারো কারো দাবি, সেই ছায়া মাঝেমধ্যে দোতলায় ঘুরে বেড়ায়। আধুনিক ঢাকার কোলাহলের মাঝেও এই বাড়িটি যেন অতীতের কোনো এক সময়ের হাতে বন্দি হয়ে আছে।

ধানমন্ডির রহস্যঘেরা ফ্ল্যাট : লেক আর সবুজের শহর ধানমন্ডি। তারও মাঝে আছে এক ফ্ল্যাট, যা ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে বহুবার। বলা হয়, কয়েক বছর আগে সেখানে অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়েছিল এক তরুণীর। এলাকার বাসিন্দারা জানান, ওই ফ্ল্যাটে ওঠার পর রাতে অদ্ভুত সব শব্দ শুনতে পান ভাড়াটেরা। অনেকে কয়েকদিনের মধ্যেই বাসা ছেড়ে পালিয়েছেন। ফ্ল্যাটটিতে প্রায় কেউ থাকতে চান না। ইদানীং ফ্ল্যাটটির দরজায় তালা ঝুলছে, আর ভেতরে ঢোকার সাহস পায় না কেউ।

ফার্মগেটের ‘নীরব’ ভবন : ফার্মগেটের ব্যস্ত সড়কের ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে এক পরিত্যক্ত ভবন। লতাপাতায় ঢাকা পুরোনো সেই ভবনটি দেখলে মনে হয়, সময় যেন এখানে থমকে আছে। কেন সেখানে কেউ থাকে না, কেন ভেতরে এত অন্ধকার- কেউ জানে না। অনেকের দাবি, ভবনটিতে ঢুকলে অদ্ভুত এক ঠাণ্ডা অনুভূতি হয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে অনেক কম। অনেকে বলেন, ওখানে কারও পায়ের শব্দ শোনা যায়। রাতে পথচারীরাও বাড়িটির দিকে না তাকিয়ে দ্রুত পেরিয়ে যান।

নারিন্দার জমিদারবাড়ি

বিজ্ঞান কী বলে : পরামনোবিজ্ঞানীরা জানান, দীর্ঘদিন জনমানবশূন্য বাড়িতে ইনফ্রাসনিক সাউন্ড তৈরি হতে পারে। এই শব্দ মানুষের মধ্যে অকারণ ভীতি, অবসাদ, এমনকি বিভ্রমের জোগান দেয়। পুরোনো দালানের নির্দিষ্ট স্থাপত্যশৈলী, বাতাস চলাচলের ধরন এমনিতেই কিছু অন্ধকার জায়গা তৈরি করে, যা মনের ওপর প্রভাব ফেলে।

তবে বিজ্ঞান-ব্যাখ্যা যাই হোক, এসব রহস্যময় বাড়ির গল্প থামে না। আজও আড্ডার টেবিলে বন্ধুরা চুপিসারে এসব গল্প শেয়ার করে, আজও কেউ কেউ বিশ্বাস করে- কংক্রিটের এই অরণ্যে কিছু আছে, যা চোখের দেখা যায় না, শুধু অনুভব করা যায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


ঢাকার যে বাড়িগুলো নিয়ে আজও কাটেনি ভীতি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাত নামলেই বদলে যায় রাজধানী ঢাকা। দিনের ব্যস্ত নগরী যেখানে হাজারো স্বপ্ন আর দৌড়ের শহর, সেখানে রাতের অন্ধকারে অনেক বাড়ি বা স্থাপনা যেন অন্য রূপ ধারণ করে। আলো-আঁধারির খেলা বন্ধ হয়ে গেলে কিছু পুরোনো দালানের দিকে তাকাতেই মনে হয়, ওখানে হয়তো কিছু লুকিয়ে আছে। ইতিহাসের পাতায় চাপা পড়ে যাওয়া কিছু রহস্য এখনও শিহরণ জাগায়। ঢাকায় এমনই কিছু স্থান আর  বাড়ি আছে যা নিয়ে আজও কমেনি কৌতূহল, কাটেনি ভীতি।

লালবাগ কেল্লার সুড়ঙ্গ : পুরান ঢাকার বুকে লালবাগ কেল্লা দিনের বেলায় পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকলেও রাত নামলেই কেল্লা যেন অন্য মাত্রা পায়। আর সেই রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু কেল্লার নিচের সেই বিখ্যাত সুড়ঙ্গ। লোকমুখে প্রচলিত, এই সুড়ঙ্গে একবার কুকুর ঢুকলে আর বের হয়নি। এক সেনাদলও একবার ঢুকে পড়েছিল, তারাও ফিরে আসেনি। ইতিহাসবিদরা বলছেন, এটি ছিল গোপন পথ, নিরাপত্তার জন্য তৈরি। কিন্তু সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, মাটির নিচের সেই অন্ধকার গলির ভেতর আজও ঘুরে বেড়ায় অতৃপ্ত আত্মারা।

লালকেল্লা

বনানীর ‘অভিশপ্ত’ বাড়ি : ঢাকার আভিজাত্যের প্রতীক বনানী। তবে এই বনানীতেই আছে একটি বাড়ি, যাকে ‘অভিশপ্ত’ বলেই ডাকেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকা বাড়িটি নিয়ে নানা গল্প ছড়িয়ে আছে। বলা হয়, এই বাড়িতে যারা থাকতে এসেছেন, তারা কেউ বেশি দিন টিকতে পারেননি। মধ্যরাতে ওপর তলা থেকে কান্নার আওয়াজ, পায়ের শব্দ- এসব ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বলেন অনেকে। স্থানীয়দের অভিমত, বিজ্ঞান যাই বলুক, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় বাড়িটিকে ঘিরে ভয়ের আবহটা যাচ্ছে না।

নারিন্দার জমিদারবাড়ি : পুরান ঢাকার সরু গলিতে হাঁটলে চোখে পড়ে এক জরাজীর্ণ অট্টালিকা- নারিন্দার সেই বিখ্যাত বাড়ি। কথিত আছে, একসময় এখানে বাস করতেন এক ধনী জমিদার। উত্তরাধিকার নিয়ে বিবাদে বাড়িটিতে ঘটেছিল মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ড।এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন, অমাবস্যার রাতে বাড়ির জানালার পাশে আবছা মানুষের ছায়া দেখা যায়। কারো কারো দাবি, সেই ছায়া মাঝেমধ্যে দোতলায় ঘুরে বেড়ায়। আধুনিক ঢাকার কোলাহলের মাঝেও এই বাড়িটি যেন অতীতের কোনো এক সময়ের হাতে বন্দি হয়ে আছে।

ধানমন্ডির রহস্যঘেরা ফ্ল্যাট : লেক আর সবুজের শহর ধানমন্ডি। তারও মাঝে আছে এক ফ্ল্যাট, যা ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে বহুবার। বলা হয়, কয়েক বছর আগে সেখানে অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়েছিল এক তরুণীর। এলাকার বাসিন্দারা জানান, ওই ফ্ল্যাটে ওঠার পর রাতে অদ্ভুত সব শব্দ শুনতে পান ভাড়াটেরা। অনেকে কয়েকদিনের মধ্যেই বাসা ছেড়ে পালিয়েছেন। ফ্ল্যাটটিতে প্রায় কেউ থাকতে চান না। ইদানীং ফ্ল্যাটটির দরজায় তালা ঝুলছে, আর ভেতরে ঢোকার সাহস পায় না কেউ।

ফার্মগেটের ‘নীরব’ ভবন : ফার্মগেটের ব্যস্ত সড়কের ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে এক পরিত্যক্ত ভবন। লতাপাতায় ঢাকা পুরোনো সেই ভবনটি দেখলে মনে হয়, সময় যেন এখানে থমকে আছে। কেন সেখানে কেউ থাকে না, কেন ভেতরে এত অন্ধকার- কেউ জানে না। অনেকের দাবি, ভবনটিতে ঢুকলে অদ্ভুত এক ঠাণ্ডা অনুভূতি হয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে অনেক কম। অনেকে বলেন, ওখানে কারও পায়ের শব্দ শোনা যায়। রাতে পথচারীরাও বাড়িটির দিকে না তাকিয়ে দ্রুত পেরিয়ে যান।

নারিন্দার জমিদারবাড়ি

বিজ্ঞান কী বলে : পরামনোবিজ্ঞানীরা জানান, দীর্ঘদিন জনমানবশূন্য বাড়িতে ইনফ্রাসনিক সাউন্ড তৈরি হতে পারে। এই শব্দ মানুষের মধ্যে অকারণ ভীতি, অবসাদ, এমনকি বিভ্রমের জোগান দেয়। পুরোনো দালানের নির্দিষ্ট স্থাপত্যশৈলী, বাতাস চলাচলের ধরন এমনিতেই কিছু অন্ধকার জায়গা তৈরি করে, যা মনের ওপর প্রভাব ফেলে।

তবে বিজ্ঞান-ব্যাখ্যা যাই হোক, এসব রহস্যময় বাড়ির গল্প থামে না। আজও আড্ডার টেবিলে বন্ধুরা চুপিসারে এসব গল্প শেয়ার করে, আজও কেউ কেউ বিশ্বাস করে- কংক্রিটের এই অরণ্যে কিছু আছে, যা চোখের দেখা যায় না, শুধু অনুভব করা যায়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত