সংবাদ

আর্কাইভ দেখুন

তথ্যপ্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউনেস্কোর কৌশলগত অংশীদারিত্ব চান তথ্যমন্ত্রী

তথ্যপ্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউনেস্কোর কৌশলগত অংশীদারিত্ব চান তথ্যমন্ত্রী

আধুনিক বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্যপ্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং গণমাধ্যম খাতের আমূল সংস্কারে একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরিতে ইউনেস্কোর কারিগরি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হলে এই আগ্রহের কথা জানানো হয়। বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে অপতথ্য রোধ ও গণমাধ্যমের টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ​বৈঠককালে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন নতুন যুগের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন, নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নে আমরা ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করছি এবং এক্ষেত্রে সংস্থাটির দীর্ঘদিনের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগাতে সরকার অত্যন্ত আগ্রহী। মন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশের গণমাধ্যম খাতের বিভিন্ন স্তরে ইউনেস্কোর সঙ্গে সরকারের যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে, যা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তথ্য কাঠামো তৈরিতে সহায়ক হবে। ​সাক্ষাৎকারে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ বাংলাদেশে তাদের চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি বিশেষত গণমাধ্যমের উন্নয়ন, সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সংস্কার এবং বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, ভুল তথ্য ও অপতথ্য (Misinformation & Disinformation) প্রতিরোধে ইউনেস্কোর বৈশ্বিক ও স্থানীয় উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। ড. ভাইজ জানান, বর্তমান সময়ে অপপ্রচারের বিস্তার রোধে ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম জোরদারে ইউনেস্কো নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং এরই অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। ​আলোচনার এক পর্যায়ে তথ্যমন্ত্রী অপতথ্যের বিস্তার রোধে ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বলেন, ডিজিটাল যুগে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কোনো বিকল্প নেই। তিনি এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়াতে ইউনেস্কোর সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন। মন্ত্রীর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ড. সুসান ভাইজ তথ্য মন্ত্রণালয়কে ফ্যাক্ট-চেকিং ও অপতথ্য প্রতিরোধের লড়াইয়ে সব ধরনের কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। দুই পক্ষই একমত পোষণ করেন যে, একটি সঠিক ও সত্যনিষ্ঠ তথ্য সমাজ বিনির্মাণে এই অংশীদারিত্ব আগামীতে আরও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।


নরসিংদীতে হত্যাকান্ড: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ল দুই মাস

নরসিংদীতে হত্যাকান্ড: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ল দুই মাস

জুলাই আন্দোলনে নরসিংদীতে সংঘটিত হত্যাকান্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও দুই মাস সময় পেয়েছেন তদন্তকারী সংস্থা।এ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জামিন আবেদন করেন । বুধবার (২২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিষয়ে আদেশ প্রদান করে।ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল আগামী ২২ জুন প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। প্যানেলের অন্য সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি মামলার বর্তমান অগ্রগতি তুলে ধরে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় প্রার্থনা করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে। শুনানিকালে এ মামলায় কারাবন্দি তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আসামিরা হলেন: সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম, তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বান চৌধুরী এবং রবিউল ইসলাম।শুনানি চলাকালে আসামি সাইফুল ইসলামের আইনজীবী তার মক্কেলের জামিন আবেদন উপস্থাপন করতে চাইলে প্রসিকিউশন আপত্তি জানান। চিফ প্রসিকিউটরের উপস্থিতিতে এই শুনানি করার আর্জি জানান প্রসিকিউটর তামিম। পরে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার জন্য আদালত আগামী ২৯ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় নরসিংদীতে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ জুলাই নরসিংদীতে পুলিশের গুলিতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিদ ভূঁইয়া নিহত হন। এরপর তার মরদেহ নিয়ে মিছিল করার সময় আবারও গুলি চালানো হয়, যাতে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।তদন্তকারী সংস্থার তথ্যমতে, তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম সরাসরি পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া গুলির নির্দেশের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৪ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখান। মামলাটির তদন্তকাজ চলমান থাকায় বুধবার আবারও সময় বৃদ্ধির আদেশ দিলেন আদালত।


সারাদেশে পশু চিকিৎসক সংকট, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারীরা

সারাদেশে পশু চিকিৎসক সংকট, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারীরা

প্রতি উপজেলায় দরকার কমপক্ষে ৫ জন ডাক্তার, আছেন ১ জন ২০৩০ সালের মধ্যে পিপিআর মুক্ত করার লক্ষ্যগঙ্গা অববাহিকতার দেশগুলোতে গবাদি পশুর প্রাণঘাতী রোগ নির্মূল ও ক্ষুদ্র খামারিদের ভাগ্য বদলে নতুন আশার আলো নিয়ে ভারতের দিল্লিতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন। ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন।বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। মূলত ছাগল ও ভেড়ার প্রাণঘাতী ডায়রিয়া বা পিপিআর (Peste des Petits Ruminants) রোগ ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি নির্মূল করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ বৈজ্ঞানিক আয়োজন।দেশের গ্রাম-গঞ্জ ও চরাঞ্চলের কয়েক লাখ ক্ষুদ্র খামারি বর্তমানে ছাগল ও ভেড়া পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারাদেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ ছাগল ও ৩৯ লাখ ভেড়া পালন করা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পিপিআর বা ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু মারা যাওয়ায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রান্তিক খামারিরা। এই সংকট মোকাবিলায় ২০১৯ সাল থেকে ভ্যাকসিন প্রদান প্রকল্প শুরু হলেও প্রয়োজনীয় পশু চিকিৎসকের অভাবে মাঠ পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।সম্মেলনে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের একজন ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, "ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর রোগ নির্মূলে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি উদ্যোগে প্রায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে রোগটি বর্তমানে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রয়েছে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে এই রোগটি দেশ থেকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে আমরা বদ্ধপরিকর।"আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বিশেষজ্ঞরা এই সম্মেলনে তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন।এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ পশু চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সচ্ছলতা ফেরাতে ‘কালো জাতের ছাগল’ পালনের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও পরবর্তীতে নানা কারণে স্তিমিত হয়ে যায়। বর্তমান সরকার আবারো এই খাতকে চাঙ্গা করতে উদ্যোগ নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র ডাক্তার সংকট। সারাদেশে বর্তমানে মাত্র ১ হাজার ৬০০ জন ভেটেরিনারি ডাক্তার কর্মরত আছেন, যেখানে প্রয়োজন কমপক্ষে ২ হাজার বা তারও বেশি।মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা তুলে ধরে নোয়াখালীতে কর্মরত একজন ভেটেরিনারি ডাক্তার বলেন, "সুবর্ণচরসহ আশপাশের এলাকায় কয়েক হাজার ভেড়া পালন করা হয়। এসব পশু পিপিআর, জ্বর ও সর্দিতে আক্রান্ত হয়। প্রতিটি উপজেলায় বর্তমানে মাত্র একজন করে ডাক্তার আছেন, অথচ বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলায় কমপক্ষে ৫ জন ডাক্তার থাকা জরুরি। ডাক্তার না থাকায় খামারিরা হাতুড়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হচ্ছেন এবং ভুল চিকিৎসায় গবাদি পশু মারা যাচ্ছে।"দিল্লির এই সম্মেলনে গবাদি পশুর রোগ নির্মূলে বর্তমান পদ্ধতির কোনো ত্রুটি আছে কি না বা চিকিৎসার মান কতটুকু উন্নত হয়েছে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিনিধিদলের একজন সদস্য বলেন, "আমাদের প্রধান লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ছাগল ও ভেড়ার পাতলা পায়খানা বা পিপিআর নির্মূল করা। সম্মেলনে আমরা আমাদের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ গাইডলাইন নিয়ে আলোচনা করব।" চারণভূমি কমে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাব সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের মাধ্যমে খামারিদের জীবন-মান উন্নয়নে নতুন কোনো দিগন্ত উন্মোচিত হবে; এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।


সরকারকে নাজেহাল করতে বিরোধীদল চক্রান্ত করছে

সরকারকে নাজেহাল করতে বিরোধীদল চক্রান্ত করছে

জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেছেন, সরকারকে নাজেহাল করতে চক্রান্ত চালাচ্ছে বিরোধী দল। আমি বলতে চাই আজকে সংসদে আমাদের বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যে আচরণ দেখাচ্ছে, এতে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে আগামী দিনে সুষ্ঠ ধারার রাজনীতি তারা করতে দেবে না, এটাই প্রতিয়মান হচ্ছে। বিরোধী দলকে আমি এটাও বলে দিতে চাই, আমাদেরকে যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙ্গুল চুষবে না, বসে থাকবে না। আমাদের ভোটাররা তাকিয়ে থাকবে না, তারা প্রতিবাদ করবে।বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।এ সময় হই হট্টগোল শুরু করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। তারা ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরাও পাল্টা টেবিল চাপড়ে ওই সংসদ সদস্যকে সমর্থন জানান। এ নিয়ে উত্তেজনা চলাকালে সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য স্পিকারকে বারবার আহ্বান জানাতে শোনা যায়।এ সময় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্পিকার বলেন, রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন দলের বিভিন্ন মতাদর্শ থাকতে পারে, তাদের কথাবার্তার সবাই সবটাই পছন্দ হবে, এমন কোন বিষয় নয়। আপনারা বক্তব্যের মাধ্যমে জবাব দিবেন। বক্তব্যের সময় কাউকে অনুগ্রহ করে ডিস্টার্ব করবেন না।এরপর বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নেন। তিনি বলেন, প্রথমে আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এখানে যে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, এটা এক্সপ্যাঞ্জ করা হোক। একজন সংসদ সদস্য সংসদের ভিতরে দাঁড়িয়ে যে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, আমরা এতে আঘাত পেয়েছি। আমরা আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছি। জনগণ বসে থাকবে না মানে কী? তিনি কি জনগণকে বিশৃঙ্খলার দিকে উসকাইয়া দিচ্ছেন? এগুলো সংসদীয় আচরণ না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।জবাবে স্পিকার বলেন, আমরা পরীক্ষা করে দেখবো, যদি কোন অসংসদীয় ভাষা থাকে, সেটা এক্সপঞ্জ করবো। তবে যেসব বক্তব্য এসেছে, এটা তো বাংলাদেশের রাজনীতির ভাষা। আমরা চুপ করে থাকবো না। এইগুলো তো শত বছর ধরে রাজনীতিবিদরা বলে এসেছেন। আপনারা বক্তৃতার সময় এর জবাব দিবেন, কিন্তু বক্তব্য চলাকালে অনুগ্রহ করে ডিস্টার্ব করবেন না। পরে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল বারী সর্দারকে কথা বলার আহ্বান জানান স্পিকার।এরআগে খাগড়াছড়ি আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেন, আজকে বাংলাদেশ একটি শান্তির, উন্নয়নের, সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই বর্তমান সদ্যজাত সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, আমাদের এই সংসদের বিরোধী দলের ভাইয়েরা সংসদের ভেতরে এবং বাইরে সরকারকে নাজেহাল করার জন্য যে চক্রান্ত চালাচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে এই সংসদ সদস্য বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধকে তারা মেনে নিতে পারেনি। যারা ৭১ সালের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারে না। তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চাইতে পারে না। ৭১ সালের জন্ম হওয়া বাংলাদেশকে তারা মেনে নিতে পারেনি বলে আজকে সদ্যজাত সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেন, চট্টগ্রামে সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে কারা? শিবির। কী অপরাধ ছিল ছাত্রদলের? ছাত্রদল শুধু বলেছে, গুপ্ত, লিখেছে গুপ্ত। সেই জন্যই তারা ছাত্রদলের ওপর হামলা করে। এরমাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করেছে। বিরোধী দলের ভাইয়েরা ক্ষেপে উঠেছেন, এই সংসদে গণতান্ত্রিকভাবে কথা বলার অধিকার দিতে চায় না। এই সংসদে কথা বলার জন্য আমরা নির্বাচিত হয়ে এসেছি। বিরোধী দলের ভাইয়েরা ফ্যাসিস্টের মতো কন্ঠ চিপে ধরতে চায়। সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেন, আমি বলতে চাই আজকে সংসদে আমাদের সম্মানিত বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যে আচরণ দেখাচ্ছে, এতে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে আগামী দিনে সুষ্ঠ ধারার রাজনীতি তারা করতে দেবে না। এটাই প্রতিয়মান হচ্ছে। বিরোধী দলকে আমি বলে দিতে চাই, আমাদেরকে যারা ভোট দিয়েছে, বসে থাকবে না, তারা আঙ্গুল চুষবে না। আমাদের ভোটাররা তাকিয়ে থাকবে না, তারা প্রতিবাদ করবে। অতএব আমি তাদেরকে সবিনয়ে অনুরোধ করবো, সরকারকে সাহায্য করুন, ফ্যাসিস্টের মতো বিভিন্ন দলের মতো, বাংলাদেশকে অস্থীতিশীল করা ঠিক হবে না। আসুন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই।


হাসিনা, পরিবার ও ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে

হাসিনা, পরিবার ও ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে

৭০,৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে সরকার ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রমের অধীনে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিগত সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারশিপ বাতিল করা হবে  অন্তর্বর্তী সরকার হামের টিকা আমদানি না করায় সংকটআওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১০টি দেশ চিহ্নিত করে দেশগুলোর সঙ্গে আইনি সহায়তা ও চুক্তির প্রক্রিয়া সরকার চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করার কথা সংসদকে জানান তিনি। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এবং ওই আমলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের ১১টি মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে বলেও সংসদকে জানিয়েছেন তিনি।বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা জানান। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, কৃষি খাতের আমূল পরিবর্তন, স্বৈরাচারী আমলের সিন্ডিকেট নির্মূল এবং স্বাস্থ্য খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের অবস্থানের কথা জানান।প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়টিকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রেখেছে। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে, যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ চিহ্নিত করেছে। দেশগুলো হলো, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন। প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানান, এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তিতে সই করার বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি জানিয়েছে। বাকি সাতটি দেশের সাথে আলোচনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও গত ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অধীনে ‘চুরির অর্থ উদ্ধার বিভাগ’ (স্টোলেন এসেট রিকভারি ডিভিশন) গঠন করা হয়েছে।পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১১টি সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মামলাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানিয়েছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে গঠিত আন্তসংস্থা টাস্কফোর্সের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান। প্রধানমন্ত্রী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্ক ফোর্স চিহ্নিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেইসসমূহের অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।’প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অগ্রাধিকারভুক্ত মামলাগুলো হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবার ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। এস আলম গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। বেক্সিমকো গ্রুপ ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। সিকদার গ্রুপ ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। বসুন্ধরা গ্রুপ ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। নাসা গ্রুপ ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। ওরিয়ন গ্রুপ ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। নাবিল গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। এইচ বি এম ইকবাল, তার পরিবার ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং সামিট গ্রুপ ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০,৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে এ পর্যন্ত ১৪১টি মামলা হয়েছে এবং ১৫টি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, কৃষিখাতে বিপ্লব ঘটাতে সরকার ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রমের অধীনে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে ‘কৃষক কার্ড’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে কৃষক কার্ড একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’ এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ১০ ধরনের ডিজিটাল ও ভৌত সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ (বীজ, সার) বিতরণ, সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ ও কৃষি বিমা সুবিধা, পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা ও সঠিক বাজার দর প্রাপ্তি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও রোগ-বালাই দমন পরামর্শ, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ‘খামারি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে মাটি ও পরিবেশ উপযোগী ফসল নির্বাচন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশেষ পুনর্বাসন সহায়তা। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন খাতে ৭ শত কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ২৫ লাখের বেশি কৃষককে ৪ শত ১ কোটি টাকার উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সেচ সুবিধার জন্য ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। সংসদ অধিবেশনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারদের নিয়ে আলোচনা হয়। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পুরনো ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের হয়রানি করছে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, জনস্বার্থে বিগত সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল ডিলারশিপ বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। কৃষিখাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা ফ্যাসিস্টদের দৌরাত্ম্য সহ্য করা হবে না বলে হুশিয়ারী দেন তিনি। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদও এ বিষয়ে একমত পোষণ করে জানান, অনিয়মকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংসদে স্বাস্থ্য খাতে শিশুদের হামের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশ থেকে হামের টিকা আমদানি না করায় সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত ইউনিসেফের সহায়তায় ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছে এবং দেশের প্রায় ২ কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হাম প্রতিরোধে টেস্ট করার যে কিট ব্যবহার করা হয়, এটির স্বল্পতা রয়েছে। তবে এ ব্যাপারেও সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে অনেক কিট এসে পৌঁছেছে। একটি কিট দিয়ে তিনটি টেস্ট করা যায়। কিছু কিট এই মুহূর্তে এয়ারপোর্টের কাস্টমসে আছে। সেগুলো আমরা দ্রুত ছাড় করানোর ব্যবস্থা করব, ইনশাআল্লাহ।’ পাশাপাশি দেশের শিক্ষিত যুবকদের স্বাবলম্বী করতে ফ্রিল্যান্সিং খাতে বড় বিনিয়োগ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ১ হাজার জনকে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং ২০ লাখ ফ্রিল্যান্সার কার্ড প্রদান করা হবে।


১৩ মামলায় সাংবাদিক শাকিল-রুপার জামিন আদেশ ২৮ এপ্রিল

১৩ মামলায় সাংবাদিক শাকিল-রুপার জামিন আদেশ ২৮ এপ্রিল

জুলাই আন্দোলনের পর দায়ের করা একাধিক হত্যাসহ ১৩টি পৃথক মামলায় সাংবাদিক শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি আজ বুধবার শেষ হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত বিষয়ে আদেশের জন্যে আগামী ২৮ এপ্রিল দিন ঠিক করেছে হাইকোর্ট।হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই দিন ঠিক করেন। আদালতে দুই সাংবাদিকের জামিনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট রাজধানীর আদাবর থানার গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলায় এই দুই সাংবাদিককে কারাগারে পাঠান আদালত। ওই বছরের ২১ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জা‌তিক বিমানবন্দর থেকে শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে আটক করা হয়। পরদিন ২২ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানার ফজলুল করিম হত্যা মামলায় তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে গত ২৬ আগস্ট রুবেল হত্যা মামলায় তাদের আরও পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।এর আগে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী, শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।


দুপুরে শিবিরকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে দেয়াল লিখন, বিকেলে শিবিরের ফটোসেশন

দুপুরে শিবিরকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে দেয়াল লিখন, বিকেলে শিবিরের ফটোসেশন

ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক কর্মকান্ডকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদলের দেওয়াল লিখনের সাথে ফটোসেশান করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।  বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দেওয়ালে ‘ছাত্রদলের রাজনৈতিক টেন্ট’ এর পাশে এ ফটোসেশান কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে, একই দিনে দুপুর বারোটায় ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক কর্মকান্ডকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে দেওয়াল লিখন ও তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী জানায় শাখা ছাত্রদল।ফটোসেশানের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বাবু বলেন, ছাত্রদলের দেয়াল লিখন দেখে আমাদের খুব ভালো লেগেছে। আমরা উপভোগ করেছি এবং ফটোসেশান করেছি। তিনি আরোও বলেন, ছাত্রদলের সাথে আমরা একমত। আমরাও চাই গুপ্ত রাজনীতির শেষ হোক। রাজনীতি করতে হলে বাংলাদেশের মাটিতে থেকে রাজনীতি করতে হবে, জেল খাটতে হবে, ফাসির মঞ্চে যেতে হবে কিন্তু দেশের মানুষকে বিপদে ফেলে রেখে দলকে বিপদে ফেলে রেখে ‘লন্ডনে’ পালিয়ে গিয়ে ‘গুপ্ত’ রাজনীতির চর্চার সুযোগ আর বাংলাদেশে নেই।তবে শাখা ছাত্রশিবিরের এমন কর্মকান্ডকে ‘বেহায়াপানা’ হিসেবে দেখছেন শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘শিবিরের এমন কর্মকান্ড নেহাৎ বেহায়াপানা ছাড়া কিছুই না। একাত্তরের সময়ের বাংলাদেশবিরোধী শক্তির প্ররোচনায় শিবির তাদের গুপ্ত রাজনীতি থেকে বের হতে পারেনাই তবে তরুন প্রজন্ম চাইছে এই গুপ্তধারার রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে। সেটারই হয়ত বহি:প্রকাশ এই ফটোসেশান।প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজে গ্রাফিতি আকা ও সেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখির জেরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দ্বিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে দুই ছাত্র সংগঠনের অন্তত ১০ জন আহত হয়। এর প্রতিবাদে গতকাল রাত নয়টায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এরপর আজ দুপুর বারোটায় ‘গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই’ দেয়াল লিখন করে শাখা ছাত্রদল।


ডাসারে ৩০০ বছরের চড়ক মেলা, পিঠে বড়শি গেঁথে ঘুরলেন যুবকেরা

ডাসারে ৩০০ বছরের চড়ক মেলা, পিঠে বড়শি গেঁথে ঘুরলেন যুবকেরা

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর শশিকর কালিবাড়ি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী চড়ক গাছ খেলা ও বৈশাখী মেলা। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন করা হয়।মেলার শেষ দিন বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় মেলার প্রধান আকর্ষণ চড়ক গাছ খেলা। এই খেলায় ধর্মীয় আচারের অংশ হিসেবে জীবন্ত মানুষের শরীরে লোহার বড়শি গেঁথে চড়কগাছে ঝুলিয়ে ঘোরানো হয়। রোমাঞ্চকর এই দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেলে পাঁচজন যুবকের পিঠে বড় আকারের লোহার বড়শি গেঁথে দেওয়া হয়। এরপর তাদের মধ্যে দুজনকে বড়শির সঙ্গে দড়ি বেঁধে উঁচুতে তুলে চড়ক গাছের চারদিকে চক্রাকারে ঘোরানো হয়। ব্যতিক্রমী ও রোমাঞ্চকর এই আয়োজন দেখতে আসা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল ও বিস্ময় তৈরি হয়।স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা চড়ক গাছ খেলাকে দীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় আচার ও পূজার অংশ হিসেবে পালন করে আসছেন। লোকজ বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ বছর আগে থেকে এই এলাকায় চড়ক গাছ খেলা ও বৈশাখী মেলার প্রচলন রয়েছে। তবে ঐতিহাসিকদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্ন মতও আছে। কেউ কেউ মনে করেন, প্রাচীনকালে খাজনা দিতে ব্যর্থ প্রজাদের শাস্তি দিতে এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো, যা কালক্রমে লোকজ উৎসবে রূপ নিয়েছে।মেলায় গ্রামীণ পণ্য, মাটির খেলনা, মিষ্টান্ন ও বিভিন্ন বিনোদনের আয়োজন ছিল। মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা, ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম, নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ‘চড়ক গাছ খেলা একটি ভিন্নধর্মী ও রোমাঞ্চকর আয়োজন। এটি পরিচালনায় যেমন সাহসিকতা প্রয়োজন, তেমনি আয়োজকদের নিরাপত্তা বিষয়েও যথেষ্ট সচেতন থাকতে হয়।’ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস ও গ্রামীণ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আয়োজিত এই চড়ক মেলা প্রতি বছরই মাদারীপুরের এই অঞ্চলে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।


ইসলামপুরে দোকান দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৭

ইসলামপুরে দোকান দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৭

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মলমগঞ্জ বাজারে একটি দোকান দখল ও ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে ঘটা এই হামলায় অন্তত পাঁচ থেকে সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন।স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বুধবার দুপুরে মলমগঞ্জ বাজারে একটি পারিবারিক দোকান জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় দোকানের মালিক ও তাদের স্বজনেরা বাধা দিতে গেলে সামসুল হক প্রধান, ফিরোজ আহমেদ, আপন মিয়া ও শিহাব প্রধানের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক লোক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।আহতদের স্বজনদের দাবি, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেছে। এতে অন্তত সাতজন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের উদ্ধার করে দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই দখলের চেষ্টা করেছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ও দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।হামলার পর থেকে মলমগঞ্জ বাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।এ বিষয়ে ইসলামপুর থানার পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নিয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নাইক্ষ্যংছড়িতে অপহৃত তিন শ্রমিক উদ্ধার, মুক্তিপণ ছাড়াই মিলল মুক্তি

নাইক্ষ্যংছড়িতে অপহৃত তিন শ্রমিক উদ্ধার, মুক্তিপণ ছাড়াই মিলল মুক্তি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে অপহরণের শিকার তিন রাবার বাগান শ্রমিককে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের দাবি, জোরালো অভিযানের মুখে চাপের মুখে পড়ে অপহরণকারীরা শ্রমিকদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে।বুধবার (২২ এপ্রিল) গভীর রাতে রামু উপজেলার দুর্গম বদ্যপাড়া এলাকার গহীন পাহাড় থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া তিন শ্রমিকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে বাইশারী ইউনিয়নের একটি রাবার বাগান থেকে ওই তিন শ্রমিককে অপহরণ করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পরপরই নাইক্ষ্যংছড়ি থানা-পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয় এবং সম্ভাব্য পাহাড়ি এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়।পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও চাপের মুখে অপহরণকারীরা অপহৃতদের প্রতিবেশী কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার দুর্গম বদ্যপাড়া এলাকায় রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে থানায় নিয়ে আসে।নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে সমন্বিত অভিযানের ফলে শ্রমিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এটি একটি বড় সাফল্য যে, কোনো ধরনের মুক্তিপণ ছাড়াই তাদের ফিরিয়ে আনা গেছে। অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’এদিকে বাগান মালিক ও বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল করিম বান্টু পুলিশের তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের কারণে কোনো অর্থ লেনদেন ছাড়াই আমার বাগানের শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’উল্লেখ্য, সম্প্রতি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুততম সময়ে এই উদ্ধার অভিযান অপহরণ প্রতিরোধে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


তনু হত্যা: মেয়ের ছবি হাতে আজও কাঁদেন মা

তনু হত্যা: মেয়ের ছবি হাতে আজও কাঁদেন মা

সোহাগী জাহান তনু। যে নামটি এখনো কাঁদায় হাজারো মানুষকে। হত্যার ১০ বছর পর গত ৬ এপ্রিল কুমিল্লার আদালত অবসরপ্রাপ্ত তিন সেনা সদস্যের ডিএনএ ক্রস-ম্যাচিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে। দীর্ঘদিন স্থবির থাকা মামলায় এটি নতুন অগ্রগতি। তনুর মা আনোয়ারা বেগম চেয়ে থাকেন ঘরের দেয়ালে ঝোলানো মেয়ের ছবির দিকে। চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, “অনেক কষ্টে মেয়েকে মানুষ করেছি। শুধু সঠিক বিচার চাই। যারা অপরাধী, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, “গত দশ বছর ধরে বিচার চেয়ে আসছি।২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর ঝোপের নিচে উদ্ধার করা হয় তনুর মরদেহ।  এরপর থেকে আজ পর্যন্ত হত্যা মামলায় ৪টি তদন্ত সংস্থা বদলেছে। ৭ জন কর্মকর্তা তদন্ত করেছেন। প্রায় ৮০টি শুনানি হয়েছে। এমনকি দুই দফা ময়নাতদন্ত করেও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পারেননি চিকিৎসকরা।তবে গত ৬ এপ্রিল পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা সদর আমলি আদালত-১-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক তিন সেনা সদস্যের ডিএনএ প্রোফাইল ক্রস-ম্যাচিংয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তারা হলেন- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলম। ২২ এপ্রিল হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।তনু হত্যার পরপরই দেশজুড়ে প্রতিবাদ হয়। শিক্ষার্থী থেকে সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নামেন বিচারের দাবিতে। তবে অভিযোগ রয়েছে সেই আন্দোলন দমন করতে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।তারপরও থামেননি তনুর মা-বাবা। হুমকি, প্রলোভন- কিছুই টলাতে পারেনি আনোয়ারা বেগমকে। এখনো তিনি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের স্টাফ কোয়ার্টারে থেকে ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়ে যাচ্ছেন।কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ গণমাধ্যমে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ৬ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, তারা আদালতে সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেছেন। আশা করছেন তদন্তের মাধ্যমে সবকিছু বেরিয়ে আসবে।তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় বিচার পাইনি। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন জিওসির স্ত্রী ও একজন কমান্ডিং অফিসারের স্ত্রী সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।তনুর বাবা-মাদশ বছর কেটে গেছে।  মা আনোয়ারা বেগমের চোখের পানির ফোঁটা যেন প্রতিটি শুনানির পর আরও ভারী হয়। তার কণ্ঠেএকটাই কথা- “শুধু বিচার চাই।”এদিকে, আদালত গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এর আগে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার সূত্র ধরে তদন্তের অংশ হিসেবে হাফিজুরকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


পাম্পে তেলের গাড়ি এলেই উৎসব, তবে গুনতে হয় দুশ্চিন্তার প্রহর

পাম্পে তেলের গাড়ি এলেই উৎসব, তবে গুনতে হয় দুশ্চিন্তার প্রহর

মইনুল ইসলামের সিরিয়াল নম্বর ১১৩। সকাল সাতটায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তখনও তেলের গাড়ি জোনাকি ফিলিং ষ্টেশন পাম্পে ঢোকেনি।তার সামনে বাইক, ট্রাক, বাসসহ অন্তত ১১২টি যান। গরমে উত্তপ্ত পরিবেশ। হাতে এক কাপ চা আর শুকনা রুটি এটাই তার সকালের নাশতা। তবু মুখে একটু খুশির ঝিলিক। কারণ খবর পেয়েছেন, পাম্পে তেলের গাড়ি এসে গেছে। দুপুর বারোটা বেজে গেছে। তখনও গোসল হয়নি, জোটেনি আর কোনো খাবার। তেল দেওয়া শুরু হবে, সেই অপেক্ষায় আছেন মইনুল। পেট্রোল পাম্পের চারপাশ তখন উৎসবের মেজাজ। যেন কেউ লটারি জিতেছে। চিৎকার, করতালি, কেউ কেউ হাত তুলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছেন। খুশির কারণ শুধু এই যে, ‘তেল পাবেন তারা’।মইনুল পেশায় বাস হেল্পার। তিনি বললেন, “একদম শেষে আমার সিরিয়াল আসবে। তাও খুশি। গাড়ি তো এলো, এখন তেল তো পাবই।”তিনি জানালেন, গত দুই দিন ধরে তেলের জন্য পাম্পে পাম্পে ছুটছেন। “কাল রাতেও ৩টা পাম্প ঘুরেছি। কোথাও তেল নেই। আজ সকালে ভাগ্য ভালো। গাড়ি এসে গেছে সকাল সাড়ে ১০টায়। এখন সিরিয়াল শেষে হয়তো আমার নম্বর আসবে।”প্রশ্ন করায় নাশতা নিয়ে মইনুল জানালেন, “রুটি-চা খেয়েই সিরিয়াল ধরেছি। পেট ভরেনি, কিন্তু কাজ চালিয়ে নিচ্ছি।”পাশ থেকে এক ব্যক্তিগত গাড়ির চালক বলেন, “এসি চালাতে পারি না, শার্ট খুলেছি।” পাম্পের অন্য প্রান্তে ব্যক্তিগত গাড়ির চালক জাকির হোসেন। গায়ে শার্ট নেই, কাঁধে গামছা। গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ, দরজা জানালা খোলা। ঘামে ভিজে একশা।জাকির বলেন, “আমার সিরিয়াল কখন আসবে জানি না। সকাল থেকে লাইনে আছি। ট্যাংকে তেল আছে, কিন্তু খুব স্পর্শকাতর অবস্থায়। এসি চালালে তেল শেষ, তখন গাড়ি ঠেলে নিয়ে যেতে হবে। তাই শার্ট খুলে গরম সামলাচ্ছি।”পাশেই কয়েকজন ড্রাইভার লাইনে দাঁড়িয়ে। তাদের কারও দুই ঘণ্টা, কারও তিন ঘণ্টা, কারও পাঁচ ঘণ্টাও পেরিয়ে গেছে। বাথরুমের ব্যবস্থা নেই, খাবারের জোগান নেই। তবু লাইন ছাড়ার উপায় নেই।জাকিরের গলায় রাগ ও ক্ষোভের বদলে অবসাদ, “সরকার বলে তেলের মজুদ যথেষ্ট। কিন্তু সেই মজুদ তো সরকারের কাছেই আছে। আমরা তো পাচ্ছি না। দাম বাড়িয়েছে বটে, কিন্তু ভোগান্তি কমেনি বরং বেড়েছে। রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে তেলের জন্য।”আরেক পাম্পের প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে আরেক বাসের হেলপার নাহিদ। রাত ২টায় বাস নিয়ে পাম্পে এসেছেন। সকাল ১০টা বাজে, তখনও তেলের গাড়ি আসেনি।নাহিদ বললেন, “ওই পাশের পাম্পে দাঁড়িয়েছিলাম। মেসার্স খান এন্ড চৌধুরী ফিলিং ষ্টেশন তেল শেষ। তারপর এ পাশে আসলাম। এখনো গাড়ি আসেনি। যাত্রী নিয়ে বের হতে পারছি না। মালিকের ফোন, যাত্রীদের গালি সব সহ্য করতে হচ্ছে।” তিনি জানান, আগে ২৭ লিটার তেলে এক দিন চলতো। এখন ১৩ লিটার তেলের জন্য পাম্প থেকে পাম্পে ঘুরতে হয়। “তেল পেলে যাত্রী সেবা দিই। এক টাকা বেশি নিতে পারি না। উল্টো যাত্রীরা বলে, ‘ওই শালা গাড়ি থামাস কেন?’ কিন্তু তারা দেখে না সারা রাত তেলের জন্য না খেয়ে, না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি।”আলী ইসলামের অভিযোগ, ‘আমরা দেশের বোঝা হয়ে গেছি’ বেশ কয়েকজন চালক-হেলপার মিলে যখন তেলের অপেক্ষায় সময় কাটাচ্ছেন, তখন আলী ইসলাম নামের এক বাসচালক ক্ষোভ ঝাড়লেন। তার কণ্ঠে ক্লান্তি ও ক্ষোভের মিশেল। “বউ-বাচ্চা ফেলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে। এটা কোন দেশ? কী করছেন সরকার? আমরা দেশের বোঝা হয়ে গেছি, তাই আমাদের সঙ্গে মশকরা করছেন। তেলের দাম বাড়িয়েছেন, কিন্তু তেল দিচ্ছেন না পর্যাপ্ত। এক পাম্পের ম্যানেজার বলে, ‘ডিপো থেকে তেল আসছে না।’ আমরা কি করব?”‘মায়ের মুখ দেখিনি কত দিন’ সানারপাড়ের বাসিন্দা সোহেল মিয়া (নাম পরিবর্তন করা হয়েছে), পেশায় রজনীগন্ধা পরিবহনের হেল্পার। গত কয়েক দিন ধরে তিনি বাসায় যেতে পারেননি। মাকে দেখেননি। গাড়ি নিয়ে পাম্পে দাঁড়িয়ে আছেন।“তেল পেলে চাকা ঘোরে। না পেলে থমকে যায়। এটাই বাস্তব। গাড়ি চালিয়ে আবার সিরিয়াল ধরতে আসতে হয়। সিটে বসে দুই-তিন ঘণ্টা ঘুমাই। এভাবে আর কত দিন চলবে? এই পেশাটাই অভিশাপ হয়ে গেছে।”এক পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক মো. সেলিম বলেন, “ডিপো থেকে আমরা পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। যে পরিমাণ বরাদ্দ আসে, তা দিয়েই চালাতে হয়। কিছু সময় আসে, কিছু সময় আসে না। চালকদের কষ্ট দেখি, কিন্তু কিছু করার নেই। সরকার বলছে পর্যাপ্ত মজুদ আছে, কিন্তু তা আমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।”বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, দেশে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মজুদ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা কম হলেও সঙ্কটজনক নয়। কিন্তু সরবরাহ শৃঙ্খলে জটিলতা এবং কিছু ‘অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে’ পাম্পগুলোতে তেলের সংকট দেখা যাচ্ছে। সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে, কিন্তু ভোগান্তি কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী মাসুদ। তিনি বলেন, “শুধু দাম বাড়ালেই হবে না, সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা জরুরি। পাম্পে পাম্পে তেল পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় চালক-যাত্রী সবাই ভোগান্তিতে পড়বেন।”


ভোটের আগে চূড়ান্ত লড়াই

ভোটের আগে চূড়ান্ত লড়াই

মমতা–শাহ–রাহুলের বার্তায় উত্তপ্ত বাংলা, প্রতিশ্রুতির বন্যায় জমজমাট শেষ প্রচারপশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের প্রচারপর্বের শেষ দিনে শাসক, বিরোধী ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির টানা জনসভা রাজ্যের নির্বাচনী উত্তাপকে চরমে পৌঁছে দেয়। তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ও বামফ্রন্ট তিন শিবিরই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালায়।একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জী একাধিক সভা থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করে দাবি করেন, গত কয়েক মাসে সাধারণ মানুষ নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানির মুখে পড়েছেন।তার বক্তব্যে উঠে আসে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের প্রসঙ্গ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা, কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহায়তা, যা চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ভোটারদের উদ্দেশে তার বার্তা, গণতান্ত্রিক উপায়ে এর জবাব দিতে হবে।অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় সভা করে পরিবর্তনের ডাক দেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি, মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা, বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত, সহজ চিকিৎসা পরিষেবা আয়ুষ্মান ভারত এর মাধ্যমে, এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি।পাশাপাশি তিনি ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় মাসিক ৩০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি রাজ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা, অনুপ্রবেশ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সমস্যাগুলির সমাধান করা হবে।এদিন রাহুল গান্ধীও উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জসহ একাধিক এলাকায় প্রচার সভা করেন। তাঁর বক্তব্যে মূলত বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রসঙ্গ উঠে আসে।তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনা করে বলেন, সাধারণ মানুষের আর্থিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।অন্যদিকে বামফ্রন্টও বিভিন্ন জেলায় প্রচার চালায়। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে কর্মসংস্থান, শিল্পোন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি।পাশাপাশি তারা শাসক ও প্রধান বিরোধী দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই সমালোচনার সুর চড়ায় এবং বিকল্প রাজনৈতিক পথের কথা তুলে ধরে।সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোটের আগে শেষ দিনের প্রচারে প্রতিটি রাজনৈতিক শিবিরই নিজেদের প্রতিশ্রুতি, সমালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। এই বহুমুখী প্রচার স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন এবার অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, এবং শেষ পর্যন্ত জনমত কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।


বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে বিশ্বমানের স্বীকৃতি দিয়ে সতর্ক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে নিউজিল্যান্ড

বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে বিশ্বমানের স্বীকৃতি দিয়ে সতর্ক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে নিউজিল্যান্ড

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কাল অলিখিত ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। মিরপুরের মন্থর আর অসম বাউন্সের উইকেট পেরিয়ে সাগরিকায় যখন লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে, তখন আলোচনায় বাংলাদেশের ধারালো পেস আক্রমণ। একসময় কেবল স্পিন বিষে নীল করা বাংলাদেশ এখন প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে গতির ঝড়ে। কিউই পেসার উইল ও’রুর্ক অকপটেই স্বীকার করে নিলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পেস ইউনিট যেকোনো দলের জন্যই বড় হুমকি।সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে রুর্ক বাংলাদেশের পেসারদের প্রশংসায় ভাসিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা এখানে আসার আগে থেকেই ধারণা করেছিলাম যে এখানে কিছুটা পেস সহায়ক উইকেট পাওয়া যেতে পারে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের খুব ভালো একটি সিম আক্রমণ আছে এবং কয়েকজন বিশ্বমানের বোলারও আছে। শেষ ম্যাচে রানাও খুব ভালো বোলিং করেছে এবং ফিজের মতো বোলাররাও আছে। তাই নিঃসন্দেহে তাদের একটি দারুণ পেস আক্রমণ আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি আশা করছিলাম উইকেটগুলো কিছুটা সিম সহায়ক হবে এবং আসলে সেটাই হয়েছে। তাই এখন দেখা যাক কাল কী হয়।’চট্টগ্রামের উইকেট সাধারণত ব্যাটিং স্বর্গাভূমি হিসেবে পরিচিত হলেও কন্ডিশন বুঝে দ্রুত মানিয়ে নিতে চায় সফরকারীরা। কিউইদের এই দলে অনেক ক্রিকেটারেরই বাংলাদেশে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে রুর্ক বলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে অনেক কথা বলি। এখানে আমাদের বেশ নতুন একটা দল এসেছে। আমাদের অনেকেই আগে এখানে আসেনি এবং বাংলাদেশে খুব বেশি ম্যাচও খেলেনি। তাই সফরে আসার আগেই আমরা জানতাম যে ম্যাচের দিনই আমাদের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে এবং দেখতে হবে পিচ আমাদের জন্য কী দিচ্ছে। তাই মনে হয় কালও একই রকম হবে। আমরা আগে ব্যাট করি বা বোলিং করি—দ্রুত বুঝে নিতে হবে উইকেটটা কেমন এবং সেই অনুযায়ী সেরা পরিকল্পনাটা করতে হবে।’ সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ১-১ সমতা থাকায় বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি রূপ নিয়েছে সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে। ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে কিউই শিবির যে আত্মবিশ্বাসী, তা স্পষ্ট রুর্কের কথায়। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমরা এখানে এসে সিরিজ জেতার ব্যাপারটাকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছি এবং সেটা নিয়ে গর্বও করি। তাই ছেলেরা অবশ্যই প্রস্তুত থাকবে। আজ আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নেব এবং কাল মাঠে নেমে অবশ্যই আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব এবং সিরিজ জিততে চাইব।’ এখন দেখার বিষয়, তাসকিন-ফিজ-রানাদের গতি সামলে কিউইরা শেষ হাসি হাসতে পারে কি না।


সাবেক সিইসির গলার জুতার মালা বেডরুমে টাঙিয়ে রাখুন: ইসিকে সারজিস

সাবেক সিইসির গলার জুতার মালা বেডরুমে টাঙিয়ে রাখুন: ইসিকে সারজিস

বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সরাসরি ‘দলদাস’ অভিহিত করে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বর্তমান কমিশনারদের ব্যক্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।বুধবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেন।সারজিস আলম তার বক্তব্যে দুই নারী প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মনিরা শারমিন একসময় সরকারি চাকরি করতো আর নুসরাত তাবাসসুম কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর ফরম জমা দিয়েছে বলে তাদের মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন! অথচ সর্বশেষ দুটি আসনের উপ-নির্বাচনে যখন দিনে-দুপুরে ভোট চুরি হলো, ব্যালটে সিল মারা হলো, ভোটকেন্দ্র দখল করা হলো তখন এই প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং তার অন্য কমিশনাররা মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন।কমিশনকে অতীতের শিক্ষা মনে করিয়ে দিয়ে সারজিস বলেন, এরা যেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের গলায় জুতার মালা পরা ছবিটা তাদের বেডরুমে টাঙিয়ে রাখেন। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিণতি এই দলদাসদের হবে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, জনগণের চার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা ঋণখেলাপিদের তারেক রহমান মনোনয়ন দেন। সেই ব্যাংক লুটেরাদের এই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করতে দিয়েছে। তারা এখন ব্যাংক লুটেরাদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদেও আছে।নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই সমন্বয়ক দাবি করেন, তখন এই নির্বাচন কমিশন তাদের নিয়ম দেখাতে পারেনি কারণ তাদের সেই মেরুদণ্ডটা নেই। ক্ষমতা আর দলের কাছে নিজেদের ব্যক্তিত্বকে বেঁচে দিয়ে তারা এখনো নির্বাচন কমিশনে পদ ধরে রেখেছে এবং প্রতিনিয়ত তাদের দলীয় প্রভুদের সন্তুষ্ট করে যাচ্ছে। সবশেষে তিনি কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন যে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন থেকে হয় না, হয় গুলশান থেকে।


ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নয়, সরকারি গাড়ি চাই

ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নয়, সরকারি গাড়ি চাই

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বুধবার এক বক্তব্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। আগের দিনের বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে গিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধরনের শুল্কমুক্ত বা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ির প্রতি তার বিন্দুমাত্র মোহ নেই। বরং তিনি চেয়েছিলেন অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো দায়িত্ব পালনকালীন ব্যবহারের জন্য একটি সরকারি গাড়ি।তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংসদ থেকে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে তাদের কোনো ব্যবহারের গাড়িই নেই।সংসদে দাঁড়িয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নেব না। বিভিন্নভাবে এটা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। আমি মূলত সরকারি গাড়ি চেয়েছিলাম। যতদিন এমপি থাকবো ততদিন গাড়ি থাকবে, সংসদ সদস্য পদ চলে গেলে গাড়িও থাকবে না। অথচ বর্তমানে অদ্ভুত এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে আমাদের ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয় কিন্তু আদতে আমাদের কোনো গাড়িই নেই।মঙ্গলবার তার দেওয়া বক্তব্য নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গতকালের বক্তব্যে আমি কোনো ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি চাইনি। সংসদের পুরো হাউজ ঐক্যবদ্ধ যে কেউ ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি ও প্লট নেবে না। এই বিষয়ে প্রতিটি এমপি অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই আমি আজ আবারও বিষয়টি পরিষ্কার করছি। নিজের বক্তব্যের শেষাংশে তিনি জনস্বার্থ ও নৈতিকতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, আমরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কোনো বাড়তি বিলাসিতা বা স্থায়ী সম্পদ চাই না। আমি আবারও বলছি, ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি বা প্লটের সুবিধা চাই না। সরকারের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যেভাবে গাড়ি সুবিধা পান, আমরাও ঠিক তেমনটিই চাই। যতদিন এমপি পদে দায়িত্ব পালন করব, ততদিন সেই গাড়ি আমাদের ব্যবহারের জন্য থাকবে। সংসদ সদস্য পদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে গাড়ির সুবিধাও শেষ হয়ে যাবে। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই আমরা শুল্কমুক্ত গাড়ির চেয়ে সরকারি মালিকানাধীন গাড়ির ওপর জোর দিচ্ছি।